মা ফুলমণি ও মেয়ে রচনার সঙ্গে বিভীষণ। রচনার কোলে তাঁদের বাড়িতে আসা শাহের ছবি। ছবি: রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সে-ও ছিল এক বিধানসভা ভোটের আগের সময়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তখন সমাজের প্রান্তিক মানুষজনের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারছিলেন। বাঁকুড়া ১ ব্লকের চতুরডিহি গ্রামে বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে এসে মাটির দাওয়ায় বসে শালপাতায় ভাত, রুটি, আলু-পোস্ত খেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিভীষণের মেয়ে রচনা টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডে অসুস্থ জেনে, ওষুধপত্রের খরচ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন শাহ।
পরে, বছর চারেক বাঁকুড়ার তৎকালীন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার ওষুধপত্রের খরচ দিয়ে যান। কিন্তু সুভাষ লোকসভা ভোটে হারতেই সব বন্ধ। সামনে বিধানসভা ভোট। বিভীষণ এখনও মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
বাঁকুড়া-খাতড়া পিচ রাস্তা থেকে ঢালাই পথে বিভীষণের বাড়ি। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর নীল-সাদা মাছ-নৌকা আলপনা আঁকা মাটির ঘরে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিংহদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেছিলেন শাহ। সে ঘর ভেঙে গিয়েছে।
বিভীষণ জানালেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে মেয়ের রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় শর্করার উপস্থিতি ধরা পড়ে। দিনে চার বার ইনসুলিন ইঞ্জেকশন শুরু হয়। সঙ্গে ডাক্তার দেখানো, ওষুধ— সব মিলিয়ে মাসে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা খরচ। তাঁর কথায়, ‘‘তিন বিঘা জমিতে শুধু বর্ষায় ধানচাষ আর স্বামী-স্ত্রীর দিনমজুরিতে মেয়ের চিকিৎসা চালাতে পারছিলাম না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় সুভাষবাবু মাসে আট হাজার টাকা করে দিচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে ভোটে হারার পরে সুভাষবাবু জানান, আর টাকা দিতে পারবেন না।’’ শাহের সফরের পরে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও কিছু ওষুধপত্র দেওয়া হয়। তবে বেশিদিন মেলেনি। বিভীষণ জানান, ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে সুভাষ সরকার রচনাকে এমস-এ ডাক্তার দেখানোর জন্য তাঁদের দিল্লি নিয়ে যান। কিন্তু ডাক্তার দেখানো হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা হয়নি।
সামনে আর এক বিধানসভা ভোট। বিজেপি নেতারা আসেন না? বিভীষণ বলেন, ‘‘মাঝেমধ্যে খোঁজ নেন। কিন্তু তা কাজের নয়। মেয়ের ওষুধপত্র, ডাক্তার দেখানোর খরচ বেড়েছে। গরু, ছাগল বিক্রি করতে হচ্ছে। কিডনির অসুখে ভুগছি। স্ত্রীর দিনমজুরিই ভরসা।’’
বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সুভাষ বলছেন, ‘‘ভোটে হারার পরেও কিছু সাহায্য করেছি। এখনও সাহায্য চাইলে, দেখব। তবে রাজ্য সরকার বা তৃণমূলের সহযোগিতা ওঁরা পাননি।’’ বাঁকুড়ার বর্তমান তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সাহায্যচাইলে, পাবেন।’’
স্ত্রী মনিকা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ মাসে ১৭০০ টাকা, মা ফুলমণি মাসে ১০০০ টাকা বার্ধক্যভাতা ও বিভীষণ নিজে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকা পান। কলেজ উত্তীর্ণ রচনা, তাঁর কলেজপড়ুয়া ভাই মৃণাল দু’জনেই ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে আবেদন করেছেন। তবে রচনা বলছেন, ‘‘ভাতা স্থায়ী সমাধান নয়। চাকরি চাই। তা হলে নিজেই চিকিৎসার খরচ চালাব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে