মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
মালদহের মালতীপুরে শনিবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের সামনে রহস্যময় একটি ড্রোনকে উড়তে দেখা গেল। কপ্টারে ওঠার মুখে তা দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন মমতা। মাইক হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের এটা নজরে রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’’ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে তদন্তে নেমে পুলিশ তিন জনকে আটক করেছে।
শনিবার মালদহে তিনটি জনসভা রয়েছে মমতার। মানিকচকে প্রথম সভার পরে তিনি মালতীপুরে দ্বিতীয় সভা করেন। সেখানে সভা সেরে পরের গন্তব্য গাজোলের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখনই হেলিপ্যাডে যেখানে মমতার কপ্টার দাঁড়িয়ে ছিল, তার সামনে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। তা দেখেই মমতা পুলিশকে বিষয়টিতে নজর রাখার কথা বলেন। তৃণমূলের এক নেতা জানান, বিপজ্জনক ঘটনা হয়েছে। যাঁরা উড়িয়েছেন, তাঁরা হয়তো প্রোটোকল জানেন না। পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁদের তরফেও বিষয়টি দেখা হবে।
গত ২৬ মার্চ ঝড়বৃষ্টির কারণে সঠিক সময়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে পারেনি মমতার বিমান। প্রায় ৭০ মিনিট ধরে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটে সেই বিমান। দমদম বিমানবন্দরের পরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে পর পর তিন বার অবতরণের চেষ্টা করেও পারেনি।পরে তা দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুবরাজপুরে প্রচার সভা সেরে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতা ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফেরার পথে সেই ঘটনা হয়েছিল। মমতা ওই ঘটনার পরে দুই পাইলটের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, তাঁরা বিমানে সওয়ার সকলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
গত ১ এপ্রিল আবার দুর্যোগের মুখে পড়ে মমতার কপ্টার। মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় সভা করার পর কপ্টারে ওই জেলারই নবগ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রবল ঝড়বৃষ্টির কারণে কপ্টার নবগ্রামের সভাস্থলে অবতরণ করতে পারেনি। কপ্টারের পাইলট ঝুঁকি না-নিয়ে কপ্টারটিকে বড়ঞাতেই ফিরিয়ে আনেন। বড়ঞা থেকে সড়কপথে নবগ্রামে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছে সভাও করেন। এ বার মালদহের মালতীপুরে মমতার কপ্টারের সামনে উড়তে দেখা যায় একটি ড্রোন।