মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর থেকে নির্বাচনী প্রচারমূলক ব্যানার-পোস্টার খুলে নিতে বলল নির্বাচন কমিশন। এই কাজের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, বিমানবন্দর, সেতু, সরকারি বাস এবং ইলেকট্রিক বা টেলিফোন পোলের মতো জায়গা থেকে সমস্ত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে বলা হয়েছে। রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকার সময় সরকারি প্রকল্প কার্যকর করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে একটি স্ক্রিনিং কমিটি।
এই স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিব বা প্রধান সচিব এবং সমন্বয় দফতরের সচিব বা প্রধান সচিব। আগামী ২২ মার্চের মধ্যে এই কমিটি গঠন করে কমিশনকে জানাতে হবে। কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন কোনও সরকারি দফতর যদি নতুন কোনও প্রস্তাব বা প্রকল্প কার্যকর করতে চায়, তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো যাবে না। প্রথমে এই স্ক্রিনিং কমিটি প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখবে যে, সেটি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কি না। স্ক্রিনিং কমিটি কোনও প্রস্তাব অনুমোদন করলে, সেটি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।
নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে আয়কর বিভাগের তদন্ত শাখাগুলিকে সক্রিয় হতে বলেছে কমিশন। সন্দেহজনক এবং বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে অবৈধ ভাবে মদ, অস্ত্র, নগদ অর্থ পাচার হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে ভারতের উপকূলরক্ষী বাহিনীকে। কমিশনের নির্দেশ, যে রাজ্যগুলিতে নির্বাচন হচ্ছে, সেগুলির সমস্ত বিমানবন্দরে এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট স্থাপন করতে হবে। ১০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ অর্থ বা ১০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনা বহনকারী যাত্রীদের উপর বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে।
কমিশন এ-ও জানিয়েছে যে, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বদলি করতে পারবে না রাজ্য। যদি কোনও আধিকারিকের বদলির নির্দেশ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে দেওয়া হয়ে থাকে কিন্তু তিনি এখনও নতুন পদে যোগ দেননি, তবে কমিশনের অনুমতি ছাড়া সেই নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। প্রশাসনিক প্রয়োজনে কোনও আধিকারিকের বদলি জরুরি হয়ে পড়লে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।