West Bengal Assembly Election 2026

কার সমাজমাধ্যমে কী অ্যাকাউন্ট আছে? মনোনয়নপত্রেই জানাতে হবে প্রার্থীদের, ভুয়ো প্রচার বন্ধে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম কমিশনের

রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৭
Share:

রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের বিজ্ঞাপনী প্রচার নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি নির্বাচন কমিশনের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মনোনয়নপত্রে নিজেদের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে হবে প্রার্থীদের। হলফনামায় জানাতে হবে, কার সমাজমাধ্যমে কতগুলি স্বীকৃত অ্যাকাউন্ট রয়েছে, কী কী অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং কোন কোন প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। শুক্রবার বিবৃতি জারি করে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে একগুচ্ছ নতুন নিয়মের কথাও বলা হয়েছে। ভোটের আগে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো প্রচার রুখতে এই পদক্ষেপ করেছে কমিশন।

Advertisement

রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া সমাজমাধ্যম বা ইন্টারনেটের কোথাও বিজ্ঞাপন দিলে তা নিয়মভঙ্গ হিসাবে ধরা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের জন্য যে কোনও দল বা প্রার্থী বা সংগঠনকে মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির (এমসিএমসি) অনুমোদন নিতে হবে। সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। জেলার এমসিএমসি-তে বিজ্ঞাপনের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। স্বীকৃতি দলের সদর দফতর থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) নেতৃত্বে একটি আপিল কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত এমসিএমসি-র সিদ্ধান্তে কারও আপত্তি থাকলে ওই কমিটিতে পাল্টা আবেদন করা যাবে। তবে অনুমোদন ছাড়া কোনও ইন্টারনেট মাধ্যম বা ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।

Advertisement

কমিশন জানিয়েছে, ভোটের মুখে সংবাদমাধ্যমে টাকা দিয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা হচ্ছে কি না, এমসিএমসি তার উপর কড়া নজর রাখবে। প্রার্থীদের নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিবরণ মনোনয়পত্রেই হলফনামার মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে। তা ছাড়া, ভোট শেষ হওয়ার ৭৫ দিনের মধ্যে প্রচারের খরচের বিবরণ ইন্টারনেট বা সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে কমিশনকে জানাতে হবে বিভিন্ন দলকে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবারই সিইও, পুলিশ নোডাল অফিসার এবং অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে কমিশন একটি বৈঠক করেছে। তাতে ভুয়ো প্রচার সম্বন্ধে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সমাজমাধ্যম কর্তৃপক্ষও সেই বৈঠকে ছিলেন। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের আগে সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে ভুয়ো খবর প্রচার করেন অনেকে। তাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন। ভুয়ো প্রচার বন্ধ করতে এ বার তৎপর হয়েছে কমিশন।

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে বিধানসভা নির্বাচন হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। দীর্ঘ দিন পর এ রাজ্যে এত কম দফায় ভোট হচ্ছে। কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময়েই জানিয়েছিল, দফা কমালেও পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। তার ভিত্তিতেই একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement