West Bengal Elections 2026

ভোটে আট ধারা ‘অস্ত্র’ কমিশনের

কমিশন জানায়, ভোট পরিচালনার স্বার্থে তারা ১৯৫১ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইন প্রয়োগ করবে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভোটের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা আঁটোসাটো রাখতে আইনের আটটি ধারা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এই ধারাগুলিতে জেল এবং জরিমানা, দুইয়েরই বিধান আছে। ভোটকর্মী, আধিকারিক থেকে পুলিশ— সকলেই এই ধারার আওতায় পড়বেন। এই ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও। কমিশনের খবর, ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভয় দেখানো থেকে ভোটের কাজে অসাধু হস্তক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে এই ধারাগুলি প্রয়োগ করা হতে পারে।

এরই মধ্যে তিন আধিকারিককে এ দিন সাসপেন্ড করে কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়াহয়েছে। তাঁরা গোলমাল নিয়ন্ত্রণে গঠিত‘ফ্লাইং স্কোয়াডের’ দায়িত্বে ছিলেন।

এ দিন কমিশন জানায়, ভোট পরিচালনার স্বার্থে তারা ১৯৫১ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইন প্রয়োগ করবে। বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মচারী বা আধিকারিক ভোট সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা না করলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৮ ধারা প্রয়োগ করা হবে। তাতে তিন মাসের জেল এবং জরিমানা হতে পারে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পুলিশ আধিকারিকেরা কোনও নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর হয়ে প্রচার করলে, ভোটারকে প্রভাবিত করলে বা রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিলে ওই আইনের ১২৯ ধারা প্রয়োগ করবে কমিশন। তাতে ছ’মাসের জেল এবং জরিমানা হতে পারে। কোনও সরকারি কর্মচারী নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং বা গণনা এজেন্ট হিসেবে কাজ করলে ওই আইনের ১৩৪(এ) ধারা প্রয়োগ হতে পারে। তাতে তিন মাসের জেল এবং জরিমানা হতে পারে।

কমিশন জানিয়েছে, ভোট দেওয়া বা না-দেওয়ার জন্য কাউকে টাকা বা জিনিসপত্র দিলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭০ এবং ১৭১ ধারা প্রয়োগ করা হবে। সাজা এক বছর পর্যন্ত জেল-জরিমানা। ভোটারকে ভয়, হুমকি বা ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা হলেও ১৭১ ধারা (এক বছরের জেল, জরিমানা) কার্যকর হতে পারে। অন্য কারও পক্ষে একাধিক বার ভোট দিলে ১৭২ ধারা (এক বছরের জেল-জরিমানা) প্রয়োগ হতে পারে। প্রার্থীর চরিত্র বা আচার-ব্যবহার নিয়ে মিথ্যা প্রচারে ১৭৫ ধারার প্রয়োগ হতে পারে। ভোটের নিয়মের বাইরে খরচ করলে ১৭৬ ধারার প্রয়োগ হতে পারে। তাতে ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

কমিশন সূত্রের খবর, ভোটে গোলমাল ঠেকাতে লাঠিধারী কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ সরাসরি পদক্ষেপ করতে পারবে। প্রথম দফার ভোটের আগে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং পুরুলিয়ার উপরে বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। এ বারের ভোটে দু’টি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স থাকবে। কমিশনের পদস্থ কর্তাদের জন্য থাকবে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার।

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজ্য পুলিশ ছাড়াই ঘুরেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের ব্যাখ্যা, সে ক্ষেত্রে বাহিনীর কমান্ডান্ট জওয়ানদের সঙ্গে থাকবেন। কমিশনের নির্দেশ, বকেয়া থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে হবে জেলাগুলিকে। কমিশন জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির পরে ফর্ম-৬ এবং ফর্ম-৮ এর মাধ্যমে ৫ লক্ষ ৬০ হাজার নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ফর্ম-৭-এর মাধ্যমে ২১ হাজার ৫০০ নাম বাদ গিয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার সংখ্যা প্রায় চার হাজার। প্রথম দফা ভোটের আগে এই তালিকায় যাদের নামে আছে তাদের আগামীকালের মধ্যে থানায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। না হলে পুলিশ সেই পদক্ষেপ করবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন