আর নয় জয়া, কেরলে বাম, অসম বিজেপির, বলছে ভোট-সমীক্ষা

পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিলে, বাকি তিন রাজ্যের ভোটের ফলাফলে আর কেউ খুশি হোক বা না হোক, ‘সন্দেশ’ থাকছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন শাসক দলের জন্য। আর মুখে ফের কালি লাগতে চলেছে কংগ্রেসের। আর জয়া আম্মাকে (মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা) এ বার খুব সম্ভবত হতাশই করতে চলেছে তামিলনাড়ু। তবে বামপন্থীদের পক্ষে কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে কেরল। রাজ্যে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী সমীক্ষায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০১৬ ২১:০১
Share:

পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিলে, বাকি তিন রাজ্যের ভোটের ফলাফলে আর কেউ খুশি হোক বা না হোক, ‘সন্দেশ’ থাকছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন শাসক দলের জন্য। আর মুখে ফের কালি লাগতে চলেছে কংগ্রেসের। আর জয়া আম্মাকে (মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা) এ বার খুব সম্ভবত হতাশই করতে চলেছে তামিলনাড়ু। তবে বামপন্থীদের পক্ষে কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে কেরল।

Advertisement

রাজ্যে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী সমীক্ষায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। আগামী কাল ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে দুই মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর। তামিলনাড়ুর জয়ললিতা আর পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পশ্চিমবঙ্গের হাওয়া ‘দিদি’র দিকে কিছুটা ঝুঁকে থাকলেও, ‘জয়া আম্মা’ রয়েছেন রীতিমতো দুশ্চিন্তায়।

দিল্লি আর বিহারে উপর্যুপরি পরাজয়ের পর কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি এ বার বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার মতো জয়ের স্বাদ পেতে চলেছে অসমে। ভোট-পরবর্তী সমীক্ষার ফলাফল জানাচ্ছে, টানা ১৫ বছর পর এ বার ক্ষমতার কুর্সি হাতছুট হচ্ছেই অসমের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের। গত লোকসভা নির্বাচনে অসমে যে সাফল্য ছিল বিজেপি-র, এ বার সেই ধারাবাহিকতা তারা বজায় রাখতে পারবে অসমে। তবে তার জন্য বিজেপি-কে ২০১৪-র মতোই উজান অসমে খুব ভাল ফল করতে হবে। বিশেষ করে, ভাল ফল করতে হবে উজান অসমের উত্তর ও পূর্ব প্রান্তের চা বাগানগুলোতে। ওই জায়গাগুলোতে গত লোকসভা নির্বাচনে তাদের সাফল্যটা যেমন ছিল, সেটাকেই ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি, বিজেপি-র শরিক দলগুলো যেখানে শক্তিশালী, সেই ভাটি অসমের উত্তর প্রান্তেও গত লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা তাদের বজায় রাখতে হবে।

Advertisement

অসমে কংগ্রেসের মুখ কিছুটা রক্ষা করতে পারে ভাটি অসমের দক্ষিণ প্রান্ত। যেখানে রয়েছে প্রচুর মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকা। মুসলিমরা বরাবরই অসমে কংগ্রেসের বড় ভোট-ব্যাঙ্ক। তবে বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফেরও শক্ত ঘাঁটি এই এলাকাই। তাই মুসলিম ভোট নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আজমলের কাড়াকাড়ি হলে (যা অনিবার্যই), তার সুবিধাটা নেবে বিজেপি-ই।

আরও পড়ুন- প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন? সম্ভাবনার তিন চিত্র

ভোট-পরবর্তী সমীক্ষার ফলাফল জানাচ্ছে, পাঁচ বছর পর এ বার কেরলে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে সিপিএমের নেতৃত্বে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)। তবে তারা শাসক জোট সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে (ইউডিএফ) কতটা বেকায়দায় ফেলতে পারবে, তা নির্ভর করছে, বাম জোট গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, তার ওপরেই। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৬৭ শতাংশ আসনই জিতে নিয়েছিলেন বাম জোটের প্রার্থীরা। এ বার যেটা দেখার, তা হল- উত্তর আর দক্ষিণ কেরলে বামপন্থীরা তাঁদের শক্ত ঘাঁটিগুলো কতটা ধরে রাখতে পারছেন। উত্তর ও দক্ষিণ কেরলে হিন্দু-প্রধান এলাকাগুলোয় বিজেপি হিন্দু ভোটে ভাগ বসাবে কি না, বসালে কতটা বসাবে, তার ওপরেই বামপন্থীদের সাফল্যের ‘পারদ’ এ বার ওঠা-নামা করবে কেরলে। তবে কংগ্রেসের মুসলিম আর খ্রিস্টান ভোট-ব্যাঙ্কে সম্ভবত খুব একটা চিড় ধরবে না। যদি তা ধরেও, তা বিজেপি-র দিকে ঝুঁকবে না। যার ফলে, আখেরে লাভ হবে বামপন্থীদেরই। বিজেপি-র ফল তুলনামূলক ভাবে ভাল হতে পারে থিরুবনন্তপুরম এলাকায়। ওই এলাকার ৪টি বিধানসভা আসনেই গত লোকসভা নির্বাচনে হই হই করে জিতেছিল বিজেপি। যেটা দেখার, সেই ধারাবাহিকতা তারা এ বারও বজায রাখতে পারে কি না। কেরলে বিধানসভা ভোটে এই প্রথম একটা-দু’টো আসন পেয়ে যাওয়ারও অল্প-বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপি-র। এমনটাই জানাচ্ছে ভোট-পরবর্তী সমীক্ষা।

প্রথমে যা মনে হয়েছিল, ভোটের দিন যতই সামনে এসেছে, ততই সেই ধারণা বদলে গিয়েছে তামিলনাড়ুতে। ‘জয়া আম্মা’ এ বার আর ক্ষমতায় ফিরছেন না, এমনটাই জানাচ্ছে ভোট-পরবর্তী সমীক্ষা। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতার কুর্সিটায় বসতে চলেছেন ডিএমকে সুপ্রিমো করুণানিধি। তবে তার জন্য চেন্নাইয়ের উত্তরে যেখানে বরাবরই শক্ত ঘাঁটি ডিএমকে-র, সেই সব এলাকায় রীতিমতো ভাল ফল করতে হবে করুণানিধির দলকে।

গত লোকসভা নির্বাচনে এডিএমকে খুব ভাল ফল করেছিল কাবেরী উপত্যকার লাগোয়া এলাকাগুলো আর পশ্চিম তামিলনাড়ুতে। কাবেরী উপত্যকার লাগোয়া এলাকায় মোট ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪৪টিই পেয়েছিল এডিএমকে। আর পশ্চিম তামিলনাড়ুতে ৪৮টি আসনের মধ্যে ৩৪টি গিয়েছিল জয়ললিতার দলের ঝুলিতে। কিন্তু এ বার ওই এলাকাগুলোতে জোর ‘ডিএমকে-হাওয়া’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement