Tufanganj

শিবশঙ্কর ও স্বপ্না দু’জনেই হারলেন! তৃণমূল প্রার্থী দুই প্রাক্তন ক্রীড়াবিদের থেকে মুখ ফেরাল তুফানগঞ্জ এবং রাজগঞ্জ!

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ এবং কোচবিহারের তুফানগঞ্জ। প্রথমটি তৃণমূলের ‘শক্ত ঘাঁটি’। দ্বিতীয়টি বিজেপির। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্রে দুই প্রাক্তন ক্রীড়াবিদকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ২৩:৩৬
Share:

(বাঁ দিকে) বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল। (ডান দিকে) সোনাজয়ী দৌড়বিদ স্বপ্না বর্মণ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দুই প্রাক্তন ক্রীড়াবিদের কেউই ‘ভেলকি’ দেখাতে পারলেন না। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ এবং কোচবিহারের তুফানগঞ্জ— দু’টি আসনেই গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল। এ বার সেখানে দাঁতই ফোটাতে পারল না তৃণমূল। দলের আস্থা রাখতে পারলেন না রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ এবং তুফানগঞ্জের প্রার্থী শিবশঙ্কর পাল।

Advertisement

রাজগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের কাছে ২১৪৭৭ ভোটে পরাজিত হয়েছেন স্বপ্না। মোট ১৩ রাউন্ড গণনা হয়। বিজেপির দীনেশ পেয়েছেন ১১৪৬৫৭ ভোট। সেখানে স্বপ্না পেয়েছেন ৯৩১৮০ ভোট। অন্য দিকে, তুফানগঞ্জে গেরে গিয়েছেন শিবশঙ্কর। বিজেপি প্রার্থী মালতি রাভা রায়ের কাছে ২৬৪৫৭ ভোটে হেরে গিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। মোট ২২ রাউন্ড গণনা হয়। মালতী রাভা রায়ে পেয়েছেন ১২২৫২৫ ভোট। শিবশঙ্কর পেয়েছেন ৯৬০৬৮ভোট।

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ এবং কোচবিহারের তুফানগঞ্জ। প্রথমটি তৃণমূলের ‘শক্ত ঘাঁটি’। দ্বিতীয়টি বিজেপির। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্রে দুই প্রাক্তন ক্রীড়াবিদকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। দু’জনেই ছিলেন রাজনীতির ময়দানে নবাগত। এক জন এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট তথা জলপাইগুড়ির ঘরের মেয়ে স্বপ্না বর্মণ। অন্য জন বাংলার ক্রিকেটার তথা কোচবিহারের ঘরের ছেলে শিবশঙ্কর পাল ওরফে ‘ম্যাকো’। প্রথম জনের দৌড় এবং দ্বিতীয় জনের ইয়র্কারে ভরসা করে ঘরের মাঠে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁদের ম্যাচে নামিয়েছিল দল। গত ২৩ এপ্রিল ভোট প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল রাজগঞ্জ এবং তুফানগঞ্জে।

Advertisement

রাজবংশী সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় রাজগঞ্জে স্বপ্নাকে প্রার্থী করে ভোটব্যাঙ্ক টানার অঙ্ক কষেছিল তৃণমূল। স্বপ্নাকে যে আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল, সেটি তাদের পক্ষে ‘ইতিবাচক’ বলেই পরিচিত। কারণ, ওই আসনেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন তৃণমূলের খগেশ্বর রায়। তবে রাজবংশী ভোট টানতে এ বার খগেশ্বরের বদলে স্বপ্নার উপরেই আস্থা রেখেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। যা নিয়ে প্রথমে ‘গোসা’ হয়েছিল বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বরের। পরে যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ‘মানভঞ্জন’ হয় তাঁর।

ভোটে লড়ার পথ প্রথম থেকেই খুব একটা মসৃণ ছিল না স্বপ্নার। মনোনয়ন নিয়ে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। রেলে চাকরি করা সত্ত্বেও সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। আপত্তি জানায় রেল। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না দেওয়ায় স্বপ্নার মনোনয়ন ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হয়। চাকরি থেকে ইস্তফা দেন তিনি। কিন্তু তাতেও ছাড় মেলেনি। শেষে মামলা গড়ায় হাই কোর্টে। স্বপ্না আদৌ ভোটে লড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। আদালতের হস্তক্ষেপে ছাড়পত্র মেলে। ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন স্বপ্না। যোগ দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত। সে কারণেই আমার এই দলে আসা। মানুষের জন্য কাজ করার উপযুক্ত মঞ্চ এই তৃণমূল।’’

১৯৯৬ সালে জন্ম স্বপ্নার। বাবা পঞ্চানন বর্মণ রিকশাচালক ছিলেন। তিনি স্ট্রোকে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় মা বাসনা বর্মণ চা-বাগানে কাজ করে সংসার চালাতেন। অ্যাথলিট হয়ে ওঠার পথে অজস্র বাধা পেরোতে হয়েছে স্বপ্নাকে। আর্থিক সমস্যা বার বার সামনে ছুড়ে দিয়েছে চ্যালেঞ্জ। তা পার করে ২০১৮ সালে এশিয়াডের হেপ্টাথলন ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনা জিতে নজির গড়েছিলেন স্বপ্না।

তুফানগঞ্জে ‘ভূমিপুত্র’ শিবশঙ্করকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ৭ মার্চ তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দলে যোগ দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘খেলা হবে!’’ ঘটনাচক্রে, সেই দিনই তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, তুফানগঞ্জের প্রার্থী শিবশঙ্কর। প্রার্থী হয়েই বলেছিলেন, ‘‘সচিন তেন্ডুলকরকে বল করতে কখনও ভয় পাইনি। তা হলে ভোটে লড়তে কেন ভয় পাব। মাঠে জেতার জন্যই নামি।’’ শিবশঙ্করের প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী মালতী রাভা রায় আগের নির্বাচনে ৩১ হাজার ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। এ বারেও বিজেপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। ফলে বিজেপির ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসাবে পরিচিত ওই আসনে ভূমিপুত্রের চ্যালেঞ্জ কঠিন ছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement