সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দুঃখজনক ভাবে, আপনার রাজ্যে সকলেই রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন। আপনি কি মনে করেন, আমরা জানি না, এই দুষ্কৃতীরা কারা? অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: মালদহের ঘটনার তদন্ত সিবিআই কিংবা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে করাতে হবে। যে সংস্থার উপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা সরাসরি এই আদালতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বাধ্য থাকবে।
আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলাটি ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন শুনানিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির থাকতে হবে মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং এসপি-কে।
রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার (এসপি)-কে শো কজ় করল সুপ্রিম কোর্ট। তাঁদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের জানাতে হবে, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠির প্রেক্ষিতে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: বিচারকদের বাসস্থানেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। কোনও বিচারককের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যদি আশঙ্কা থাকে, তা হলে সেই ঝুঁকি মূল্যায়ন করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে হবে। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, যেখানে আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ চলছে, সেখানে একসঙ্গে ৩-৫ জনের বেশি ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না। আপত্তি দাখিল বা শুনানির সময়েও এই নিয়ম মানতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
আইনজীবী সিব্বল বলেন, “আমার অনুরোধ, আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে— এই লাইনটি বাদ দেওয়া হোক।”
নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে সেগুলি সেই সব জায়গায় মোতায়েন করতে হবে, যেখানে বিচারকেরা আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, মালদহের ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতাকেও প্রকাশ করে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি এবং এসপি-র আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে জানায় আদালত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, তাঁদের ব্যাখ্যা দিতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁরা কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তারা বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি?” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “রাজ্যের উচিত ছিল পুরো বিষয়টি কমিশনকে জানানো, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যায়। সে ক্ষেত্রে বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত।”
প্রধান বিচারপতি: হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, এই ঘটনা বিচারকদের উপর ভয়ের প্রভাব ফেলবে। চিঠির শেষের আগের অনুচ্ছেদ নিয়ে আমরা অত্যন্ত হতাশ। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি এবং হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা পাঠানোর জন্য তাঁর নম্বরও পাওয়া যায়নি।
প্রধান বিচারপতি: এর আগে নির্দেশ দিয়ে আমরা বলেছিলাম, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি: এই ঘটনা শুধু বিচারকদের ভয় দেখানোর একটা স্পষ্ট চেষ্টা নয়, বরং এটি এই আদালতকেও চ্যালেঞ্জ করছে। এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ছিল বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং বাকি থাকা মামলাগুলিতে আপত্তি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া।
প্রধান বিচারপতি: আমরা কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বা বিচারকদের মনে ভয় তৈরি করার মাধ্যমে কাজে বাধা দিতে দেব না। এই কাজটি ফৌজদারি অবমাননা হিসাবেও গণ্য হয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “অবশেষে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছোন। সিনিয়র বিচারপতিরাও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। শেষপর্যন্ত রাত ১২টার পর বিচারকদের মুক্ত করা হয়। কিন্তু মধ্যরাতে মুক্ত হওয়ার পর যখন তাঁরা নিজেদের জায়গায় ফিরছিলেন, তখন তাঁদের গাড়ির উপর পাথর ছোড়া হয় এবং লাঠি, বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করা হয়।” প্রধান বিচারপতি জেলা বিচারকদেরও নির্দেশ দেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হয়। বিচারকেরা এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। গত কাল রাতে আমাদের মধ্যে কয়েক জনকে হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে, মালদহ জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিন জন মহিলা-সহ মোট সাত জন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। এই ঘেরাও বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে শুরু হয়।” একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সংযোজন, “হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁর চিঠিতে জানান, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার— কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছোননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।”
তুষার: ওই ঘটনায় কড়া বার্তা যাওয়া উচিত।
প্রধান বিচারপতি: রাত ১১টা পর্যন্ত জেলাশাসক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। রাতে কঠোর ভাবে মৌখিক নির্দেশ দিতে হয়েছে। ৫ বছরের একটি শিশুকে খাবার ও জল দেওয়া হয়নি।
তুষার: নিরাপত্তার জন্য রাজ্যের উপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
বিচারপতি বাগচী: আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের উপর ছেড়ে দিচ্ছি।
বিচারপতি বাগচী বলেন, “কমিশনকে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”
কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “খুবই খারাপ ঘটনা। আমরা অবাক!”
কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করে ‘টপ মোস্ট’ অফিসারকে দায়িত্ব দিন। এই ঘটনায় সকলের প্রতিবাদ করা উচিত।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিকেল থেকে জমায়েত শুরু হয়েছে। বিক্ষোভ হচ্ছে। রাতে (বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের) উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “রাজনীতি যেন প্রবেশ না করে।”