বুথ জ্যামের প্রতিবাদ করায় বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অভিযুক্ত তৃণমূল

ভোটের লাইন কিছুতেই এগোচ্ছিল না। তাই প্রতিবাদ করেছিলেন এক ব্যক্তি। আর এই অপরাধে ভোটদান পর্ব মিটে যাওয়ার পর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা চালাল মোটরবাইকে করে আসা একদল দুষ্কৃতী। তারা সকলেই এলাকার তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৬ ২০:২৮
Share:

ছবি- দীপঙ্কর মজুমদার।

ভোটের লাইন কিছুতেই এগোচ্ছিল না। তাই প্রতিবাদ করেছিলেন এক ব্যক্তি। আর এই অপরাধে ভোটদান পর্ব মিটে যাওয়ার পর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা চালাল মোটরবাইকে করে আসা একদল দুষ্কৃতী। তারা সকলেই এলাকার তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। দিনেদুপুরে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালালেও বাধা দেওয়ার সাহস হয়নি এলাকার বাসিন্দাদের। ঘটনাস্থল থেকে অল্প দূরেই থানা হওয়া সত্ত্বেও মেলেনি পুলিশের সাহায্য।

Advertisement

মঙ্গলবার বেলা ৩টে নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার লিলুয়া থানা এলাকার বামনগাছি বি রোডে। উত্তর হাওড়া বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত ওই অঞ্চলের চারটি বুথ হয়েছিল স্থানীয় অরবিন্দ স্কুলে। সকাল থেকেই ওই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথ জ্যাম ও রিগিং-এর অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা। একই ভাবে ভোটের লাইনে এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়েও একটুও এগোতে না পারায় তার প্রতিবাদ করেছিলেন এলাকার বাসিন্দা উৎপল দত্ত। বি রোডের বাসিন্দা উৎপলবাবুকে সোমবার রাতেই এলাকার তৃণমূল কর্মীরা শাসিয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, প্রতিবাদের ফল ভাল হবে না।

আরও পড়ুন- লাল ঝান্ডাকে জেতানোর ডাক দিলেন সনিয়া

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর উৎপলবাবু এবং পরিবারের লোকজন দেখেন, বাড়ির লাগোয়া তাঁদের যে ফাস্ট ফুড সেন্টারটি ছিল সেটিতে কারা ভাঙচুর করে গিয়েছে। এই ঘটনার পর রেলকর্মী উৎপলবাবু স্থানীয় লিলুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এসে তদন্ত করে। এর পরে অন্য দিনের মতো উৎপলবাবু অফিসে বেরিয়ে যান।

অভিযোগ, এর পরে দুপুর ৩টে নাগাদ উৎপলবাবুর স্ত্রী স্নিগ্ধা দত্ত এবং ছেলে শুভজিৎ যখন বাড়িতে ছিলেন তখন ২০-৩০ জনের একটি বাইকবাহিনী তাঁদের বাড়ি আক্রমণ করে। শাবল দিয়ে গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে উৎপলবাবুর একটি মোটরবাইক ভাঙচুর করে তারা। এর পর এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি করে ভেঙে দেওয়া হয় সমস্ত জানলার কাচ। অভিযোগ, বড় বড় ইট গিয়ে পড়ে বাড়ির ভিতরেও। স্নিগ্ধাদেবী ও শুভজিৎকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে কেন তা-ও জানতে চাওয়া হয়।

স্নিগ্ধাদেবী বলেন, ‘‘আমি আর ছেলে কোনও রকমে দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে ছিলাম। না হলে ওরা আমাদের মেরে ফেলত। আমরা বামপন্থী। সেটাই কি আমাদের অপরাধ? দিদি তো বদলা নয়, বদল চেয়েছিলেন। এই কি সেই বদল?’’ তিনি জানান, ঘরের দরজাও ভাঙার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, আক্রমণকারীরা সবাই এলাকার তৃণমূলকর্মী। তিনি দুপুরের ঘটনা ফোনে উৎপলবাবুকে জানান। পুলিশের কাছে উৎপলবাবু ফের অভিযোগ জানিয়েছেন, আবার আক্রমণের আশঙ্কা করছে তাঁর পরিবার। উৎপলবাবু বলেন, ‘‘আমাদের হয়তো পাড়ায় থাকতে দেবে না। আমাদের খুন করারও হুমকি দিয়েছে।’’

হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার দেবেন্দ্রপ্রকাশ সিংহ বলেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় পুলিশি প্রহরা বাড়ানো হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা চলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement