বিপজ্জনক: হাওড়া ময়দান এলাকায় হলুদ আলো জ্বলছে ট্র্যাফিক সিগন্যালে। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।
এক দিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটের তিন দিন আগে থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের। এর পরে সোমবার থেকে হাওড়া শহরের ন’টি ট্র্যাফিক গার্ডের ৯০ শতাংশ ট্র্যাফিক পুলিশকর্মী ও অফিসারদের তুলে নেওয়ায় কার্যত অনাথ হয়ে পড়েছে শহরের ট্র্যাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের কাজ। ট্র্যাফিক পুলিশ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সিগন্যালে হলুদ আলো জ্বালিয়ে চলে যাওয়ায় যে কোনও সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে তীব্র যানজটে শহর থমকে যাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
ভোটের আগেই নির্বাচন কমিশন জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল, ভোটের তিন দিন আগে থেকে এবং ভোটের দিন যেন হোমগার্ড বা সিভিক ভলান্টিয়ারদের রাস্তায় দেখা না যায়। তাই রবিবার থেকেই সমস্ত হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ারকে পুলিশ লাইনে হাজিরা দিতে হচ্ছে। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে হেতু হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীর সংখ্যা খুবই কম, তাই সারা বছরই হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রাখা হয়। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া শহরে মোট ন’টি ট্র্যাফিক গার্ড রয়েছে। ওই সমস্ত ট্র্যাফিক গার্ডে ন’জন ইনস্পেক্টর ছাড়াও রয়েছেন শ’তিনেক পুলিশকর্মী ও অফিসার। সিটি পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্তাদের বক্তব্য, এত কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে এমনিতেই হাওড়ার ট্র্যাফিক সামলানো যায় না। তার উপরে অধিকাংশ সাব-ইনস্পেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর ও কনস্টেবলকে নির্বাচনের কাজে তুলে নেওয়ায় ন’টি ট্র্যাফিক গার্ডই কার্যত ঠুঁটো হয়ে গিয়েছে।
হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘বালি বা কোনা এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাফিক গার্ডের অধিকাংশ অফিসার ও কনস্টেবলকে নির্বাচনের কাজে বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আপাতত চার দিন যান নিয়ন্ত্রণের জন্য রাস্তায় কেউই থাকবেন না। তাই অধিকাংশ সিগন্যাল অটোম্যাটিক করে রাখা ছাড়া পথ ছিল না।’’
হাওড়ার সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় যে কোনও সময়ে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বা যানজট হলে তা সামাল দেওয়ার মতো কেউ যে নেই, সেটা মানছেন পুলিশকর্তারা। সব চেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে সদা ব্যস্ত কোনা একপ্রেসওয়েতে। সেখানকার কোনা ট্র্যাফিক গার্ড থেকে সমস্ত ট্র্যাফিক পুলিশকর্মী, পুলিশকর্তা, নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে নির্বাচনের কাজে নিয়ে যাওয়ায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। একই অবস্থা হাওড়া স্টেশন ট্র্যাফিক গার্ড-সহ বাকি গার্ডগুলির।
হাওড়া জেলা প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, ‘‘আগে কখনও কোনও নির্বাচনের মুখে এমন অবস্থা হয়নি। এ দিকে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করারও রাস্তা নেই।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে