অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নেন হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ। ছবি: সংগৃহীত।
নির্বাচনী লড়াইয়ের আগেই ‘তাসের ঘর’ হুমায়ুন কবীরের দলে। ভিডিয়ো বিতর্কের মধ্যে এ বার বাবরি মসজিদের ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ যোগ দিলেন তৃণমূলে। শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা তুলে নিয়েছেন মইনুল হক রানা। ওই সভা থেকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ‘‘নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকেদের সঙ্গেই হুমায়ুন গদ্দারি করেছে। ভাবাবেগ নিয়ে খেলছে।”
পেশায় ব্যবসায়ী মইদুল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুনের প্রস্তাবিত নির্মীয়মাণ বাবরি মসজিদের ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। শনিবার তিনি ছিলেন তৃণমূলের শক্তিপুরের সভায়। পরে মঞ্চে উঠে অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন। অভিষেক বলেন, “হুমায়ুন কবীরের ভিডিয়ো সত্য না মিথ্যা, সেটা তদন্তেই প্রমাণ হবে। কিন্তু তাঁর দলের লোকজনই পদ ছাড়ছেন। নিজেদের লোককে বোঝাতে পারছেন না, ওদিকে সংবাদমাধ্যমকে জানাচ্ছেন, ওটা এআই!’’ অভিষেক এ-ও বলেন, তৃণমূলে থাকাকালীন হুমায়ুন বলেছিলেন তিনি বাবরি মসজিদ করেবন না। ইট পাতবেন এবং তার পর সরিয়ে নেবেন। তৃণমূল নেতার কথায়, ‘‘তখন বলেছিলাম, ‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি তৃণমূল করে না। বাবরি মসজিদ করতে হলে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে করো।’’
কিন্তু হুমায়ুনের ১৯ মিনিটের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই কি তাঁর দল কিংবা ট্রাস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত? সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া মইনুলের জবাব, ‘‘বাবরি মসজিদকে সামনে রেখে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার প্রতিবাদে দলবদল (করলাম)।’’ তবে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে অনুপ্রাণিত হয়ে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মইনুল। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, ‘‘আমাদের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সভায় সাধারণ মানুষের যে ঢল নেমেছে, তা থেকেই স্পষ্ট যে জেলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই আছেন। মইনুলের যোগদানে তৃণমূল আরও শক্তিশালী হবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে যে রাজনীতি শুরু করেছিলেন হুমায়ুন, সেটা এখানেই শেষ হল।’’
বৃহস্পতিবার হুমায়ুনের ১৯ মিনিটের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাদের কয়েক জন দল ছেড়েছেন। আহ্বায়কেরা পদত্যাগ করছেন। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের সঙ্গে জোট গড়ে বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু সেই মিম-ও জোট ভেঙে একক ভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছ। শনিবার অবশ্য হুমায়ুন দাবি করেছেন, তিনি ৫১ মিনিটের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনবেন। মিমের সঙ্গে তৃণমূলের ‘ডিল’-এর অভিযোগ করেন। এ ছাড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাই কোর্টে যাওয়ার।