কলকাতা পুলিশের অধীন স্ট্রংরুমগুলির বাইরে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। —ফাইল চিত্র।
বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাবলির পর শহরের সাতটি জায়গায় স্ট্রংরুমের সামনে ১৬৩ ধারা জারি করে দিল কলকাতা পুলিশ। ওই সমস্ত জায়গায় বেআইনি জমায়েত করা বা বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের সমাগমকেই বেআইনি জমায়েত হিসাবে দেখা হবে। নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বৃহস্পতিবারই এই নির্দেশ জারি করে দিয়েছেন।
কলকাতার সাতটি জায়গায় স্ট্রংরুম রয়েছে। সেগুলি হল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, সাখাওয়াত মেমরিয়াল স্কুল, হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্স, যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ, ডায়মন্ড হারবার রো়ডের সেন্ট টমাস বয়েজ় স্কুল, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল এবং বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা। তৃণমূলের জমায়েতের বিরোধিতা করে সেখানে হাজির হন বিজেপির দুই প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক। এর পর স্ট্রংরুম পাহারা দিতে সাখাওয়াত মেমরিয়াল স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে চার ঘণ্টা তিনি সেখানে ছিলেন।
স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে বিধিগত প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল। তার পর রাতেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘ভোটগ্রহণের পর ব্যালট পেপার এবং ইভিএম স্ট্রংরুমে রাখা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের অধীনে যে ক’টি স্ট্রংরুম রয়েছে, সেই সমস্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’’
স্ট্রংরুমের সামনে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও ঘটনা যাতে না-ঘটে, তার জন্য ১৬৩ ধারা জারি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন অজয়। তিনি বলেছেন, ‘‘আইনসম্মত ভাবে নিযুক্ত কোনও ব্যক্তিকে বাধা, কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো পরিস্থিতি এড়াতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনও হামলা প্রতিরোধ করতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীন নির্দেশিকা জারি করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটার বা শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। ১৬৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমি নির্দেশ দিচ্ছি। স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে পাঁচ জন বা তার বেশি বেআইনি জমায়েত করতে পারবেন না। কোনও মিছিল, সমাবেশ, জনসভা করা যাবে না, বিক্ষোভ প্রদর্শন করা যাবে না। আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠি বা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কোনও জিনিস, বিস্ফোরক বা আতশবাজি, দাহ্য পদার্থ, ইট-পাথর ওই সমস্ত এলাকায় নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় বাহিনী বা ভোটের কাজে নিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না। কেউ নির্দেশ না-মানলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। গণনা প্রক্রিয়া শুরুর সময় পর্যন্ত এই নির্দেশিকা জারি থাকবে।’’