Advertisement

বিতর্কে স্ট্রংরুমের সুরক্ষা, রাত জেগে পাহারার নির্দেশ মমতার! কুণাল, শশীর ধর্না সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে! জবাব কমিশনের

বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে বেরিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পুলিশের ভূমিকায়!

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০১:২২
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

ভোটগ্রণ মেটার পরে এ বার স্ট্রংরুম বিতর্ক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তৃণমূলের ধর্না-বিক্ষোভ এবং বিজেপির পাল্টা জমায়েত নিয়ে সরগরম রইল উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার দুই গণনাকেন্দ্র। প্রথমে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। তার পরে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল। প্রথম ক্ষেত্রে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজার পাশাপাশি হাজির ছিলেন বিজেপির দুই প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক। দ্বিতীয় ঘটনায় ভবানীপুরের তৃণমূলপ্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ (ববি) হাকিম।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের শশী। তারই মধ্যে মমতা পৌঁছে যান সাখাওয়াতের স্ট্রংরুমে। গিয়েছিলেন ববিও! স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। এর পরে ভিতরে প্রায় চার ঘণ্টা কাটানোর পরে বাইরে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এমনকি পুলিশের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার এক তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা সর্ব ক্ষণ নজরদারি করার নির্দেশ দেন। শৌচকর্মের জন্য বাইরে গেলে তাঁদের বদলে যেন অন্য লোক মোতায়েন থাকেন, তাও বলেন। জল ও খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতেও বলেছেন তিনি। রাতে মমতা এবং অভিষেকের ছবি এবং তৃণমূলের প্রতীক সাঁটা একটি গাড়ি সাখাওয়াত গণনাকেন্দ্রের সামনে চলে আসায় সাময়িক উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়।

কী হল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে

স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির পাশাপাশি নিয়ম না মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কুণালের দাবি, তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভিতে স্ট্রংরুমের ভিতরে কয়েক জন ব্যক্তিকে ব্যালট নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখেছেন। যদিও কমিশনের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, আগেই ইমেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলির প্রার্থীদের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।

কুণাল-শশীর অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীনই ক্ষুদিরাম অনুশীলন দুই বিজেপি প্রার্থী— চৌরঙ্গির সন্তোষ পাঠক এবং মাণিকতলার তাপস রায় সেখানে পৌঁছন। তাঁরা স্ট্রংরুমের সামনে তৃণমূলের জমায়েত নিয়ে আপত্তি তোলেন। সে সময় দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা অবস্থান চালানোর পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে অবস্থান তুলে নেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কুণাল জানিয়েছেন অবস্থান তোলার সময় তাঁরা চার দফা দাবিও জানিয়েছেন— ১. পোস্টাল ব্যালট যেখানে আছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। ২. সেই সিসি ক্যামেরার ভিডিয়ো বাইরের স্ক্রিনে দেখানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। ৩. বাইরে রাখা স্ক্রিনের সামনে প্রার্থীর প্রতিনিধিকে থাকতে দিতে হবে। ৪. পুলিশের তরফে কোনও বাধাদান করা হবে না।

বৃহস্পতিবার রাতে কুণাল বলেন, ‘‘ডিইও-র কাছ থেকে এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরে আমরা অবস্থান তুলেছি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আমাদের না জানিয়ে স্ট্রংরুম খালো হবে না। আমাদের লোকজন ওখানে পাহারা দেবেন।’’

কী ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের

নির্বাচন কমিশনের দাবি, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করে জানানো হয়েছিল। তাদের তরফে আরও জানানো হয়, স্ট্রংরুমে বিদ্যুৎ সংযোগ রাখা যায় না। আইন মেনে তাই টর্চ নিয়ে কাজ চলছিল। সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে গেলেন, সেই নিয়ে বিধিগত প্রশ্নও তুলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার অগ্রবাল।

মনোজের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। বুধবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটগ্রহণের পরে ইভিএমগুলি স্ট্রংরুমে সিল করা রয়েছে। স্ট্রংরুমগুলি সিল করা এবং বন্ধ রয়েছে। ভিতরে সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে, তার ফুটেজ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বিধিবদ্ধ ভাবেই পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণ করা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ভোটকর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে সরকারি কর্মচারীরা ট্রেনিং সেন্টারে ভোট দিয়েছেন। সেই পোস্টাল ব্যালটগুলি জমা করে রেখে দেওয়া হয়েছিল।

কমিশনের তরফে স্মিতা আরও জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি ইভিএমের স্ট্রংরুম রয়েছে এবং একটি পোস্টাল ব্যালটের স্ট্রংরুম রয়েছে। বৃহস্পতিবার সারা রাজ্য জুড়েই বিধানসভা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছে। অন্য বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁদের দেওয়া হবে এবং তাঁদের সাতটি বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁরা নিয়ে নেবেন। তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারেরা করিডরের মধ্যে বসেই পৃথকীকরণের কাজ করছিলেন। টর্চ লাইট নিয়ে এখনও সেই কাজ চলছে। (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় সব রাজনৈতিক দলকে ইমেইল করে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে ওই কাজ শুরু হবে। রিটার্নিং অফিসারদের আমরা বলেছিলাম প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টকে এই বিষয়টি জানাতে। তাই জানানো হয়নি এই অভিযোগ মিথ্যা।’’

সাখাওয়াত স্কুলে চার ঘণ্টা মমতা

বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ছিলেন মমতা। বাইরে বেরিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পুলিশের ভূমিকায়। জানালেন, রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সেটা তাঁদের দোষ। পুলিশ এখন আর তাঁর হাতে নেই। তার পরেই তিনি অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালট ‘এ দিক ও দিক’ করা হচ্ছে। স্ট্রংরুমের বাইরেও সিসি ক্যামেরা রাখার দাবি তুলেছেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী।

সাখাওয়াত স্কুলের বাইরে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘‘এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম কারচুপির ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এদিক-ওদিক করছে। তাই এখানে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়ে ছুটে এসেছি। তিন-চার ঘণ্টা থেকে গেলাম। এক জনকে বসিয়ে গিয়েছি।’’ তৃণমূল বার বার অভিযোগ করেছে ইভিএমে কারচুপি করা হচ্ছে। তার জবাবে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘‘হ্যাঁ সে জন্যই এসেছি। এক পাক্ষিক কাজ হচ্ছে।’’ মমতা স্ট্রংরুমে থাকাকালীন সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের বাইরে তৃণমূলের একটি প্রচার ভ্যান এসে দাঁড়ায়। পুলিশ কেন সেটাকে ঢুকতে দিল এই অভিযোগ তুলে এবার বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।

Mamata Banerjee TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy