মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘সব বদলে প্রশাসনকে ভয় দেখাচ্ছেন। বিজেপির পরিবারের লোকজন অবজার্ভার নয়, কনজার্ভার হয়ে এসেছে। যতই করো হামলা এ বার নেব বদলা। কে প্রার্থী মনে রাখবেন না, আমাকে ভালবাসলে, আস্থা থাকলে জোড়াফুলে ভোট দেবেন। সরকার আমিই গড়ব। দয়া করে জোড়াফুলে ভোট দেবেন। দিল্লি থেকে এসে বলছে তিনি ২৯৪টি আসনের প্রার্থী। তিনি তো বাংলার ভোটারই নন। আগে ইস্তফা দিন, তার পরে আসুন।’’
‘‘সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে ৩২ লক্ষের নাম কেটেছে। এখনও বসে বসে কাটছে। অনেক জায়গায় বহিরাগতদের নাম ঢোকাচ্ছে। আমি ছেড়ে কথা বলব না। আমি কতদূর যেতে পারি, অনেকের জানা নেই। ’’
‘‘ভোটের জন্য আমাদের আট জন সাংসদ যেতে পারেননি। আরও জনা ২০ সাংসদ যেতে পারেননি। এটাকে প্লাস করুন। ওরা যে ভোট পেয়েছে, তার থেকে মাইনাস করুন। টিমটম করছে, যে কোনও দিন যাবে। ’’
‘‘ভেবেছে দেশটা একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষে থাকবে। একটাই দল। যা বলবে তা করবে। তা হবে না।’’
‘‘আমরা সংরক্ষণ নিয়ে ভাবি না। রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ মহিলা। দল মনোনয়ন দেয়। আমি না-ও দিতে পারতাম। দিয়েছি। লোকসভায় আমার ৩৭ শতাংশ মহিলা সাংসদ। আপনি কেন মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন ঢুকিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল, ডিলিমিটেশন করে দেশভাগ, বাংলা ভাগ করা। আমরা দেব না।’’
‘‘বলবে মা-বোনদের জন্য পাশ করাল না। সামনে রেখেছে মহিলা। পিছনে কয়লা। মহিলা বিল আলাদা। ওটার মধ্যে ঢুকিয়েছিল ডিলিমিটেশন। তার পরে এনআরসি করে আপনাদের সকলকে ডিটেনশন শিবিরে পাঠানো হত। চক্রান্ত করা হত। ধরতে পেরে আমরা সকলে জোট বেঁধে ধরাশায়ী করেছি। আগামী দিনও বাংলাকে টার্গেট করেছে বলে ধরাশায়ী করব। বিজেপি মানে দেশের সর্বনাশ।’’
‘‘এ বার হবে দুরন্ত খেলা। আমরা যা বলি, ভোটের আগেই করি। যুবসাথী, ২৫ শতাংশ ডিএ দিয়েছি। বাজেটে যা বলেছি, ৪ শতাংশ দেব। চাকরি করে দেব বলেছি। একটা গ্যাংম্যানও নিয়োগ করোনি তোমরা। কাল হেরে বাবুর খুব দুঃখ হয়েছে। আজ তিনি ভাষণ দেবেন।’’
‘‘সারা জীবন যারা এখানে, তাদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ২০২৫ সালে যারা এসেছে, তাদের দিচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করেছি। ৩২ লক্ষ নাম তুলেছি। তার মধ্যেও ভ্যানিশ কুমার নাম কাটছে বলে শুনেছি। বিছুটি পাতা দিয়ে কিছু বানান। সঙ্গে চুন দিন। ওটা মুখে মাখলে সাদা হবে। বিজেপি-কে সাদা করুন।’’
‘‘সব্জি দামি। তাই মায়েরা মাছের ঝোল করে ছেলেমেয়েকে খাইয়ে স্কুলে পাঠান। নয়তো ঘি, ছানা আনতে হবে। আমি সব খাই— ধোকা, ধোকলা। আমি সব পুজো করি। সব ধর্মস্থানে যাই। তোমরা কেন পারবে না? রাজ্যের দেড় কোটি লোককে বুকে করে রাখি। আইটি অফিসারকে গাজ়িয়াবাদে থাকতে দেওয়া হয়নি। বহিরাগতদের কারখানা বাংলা করতে দেবে না।’’
‘‘বলেছিলেন কালো টাকা ফেরাবেন। আজ পর্যন্ত পেরেছেন? সকলের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবেন। দিয়েছেন? উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ওড়িশায় অত্যাচার হয় কেন? বিজেপি নিজেদের রাজ্যে মাছ-ডিম খাওয়া বন্ধ করো। লিখে এনে বাংলা বলো। ধোঁকাবাজ।’’
‘‘হার্মাদের দল। সিপিএমের হার্মাদ এখন ওদের। বড় জল্লাদ। বিজেপি ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন। অত্যাচার করছে। নাম কাটছে। আপনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে বছরে ২ কোটি লোককে চাকরি দেবেন। ১২ বছরে ২৪ কোটি চাকরি দেওয়ার কথায় দিয়েছেন? রেল, সেল, এলআইসি বিক্রি করেছেন।’’
‘‘বাংলায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা। সীমান্ত, বাহিনী কার হাতে? শুল্ক বিভাগ কার হাতে? তোমাদের হাতে। আমি রেলমন্ত্রী ছিলাম। সোনারপুরে কত রেল দিয়েছি, জানি। ভোটের সময়ে চার্জশিট দিয়ে বলছো, তৃণমূল চোর। তৃণমূল চোর হলে তুমি সুপার ডাকাত।’’
‘‘লাভলির বিরুদ্ধে কে দাঁড়িয়েছে, জানি না। খোঁজ রাখি না। বিজেপির ঔদ্ধত্য বেড়েছিল। কাল হেরে আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। দূরদর্শন নিজের কব্জায় নিয়েছে। আগে রাজীবজির আমলে বলত রাজীবদর্শন। এখন মোদীদর্শন। বাচ্চাদের স্কুলে ভাষণ শোনায় ওদের মগজধোলাই করে। ইতিহাস, ভূগোল, সংবিধান বদলে দিচ্ছে। গান্ধীজিকে অবমাননা। নেতাজিকে বলছে সন্ত্রাসবাদী। রানি রাসমনিকে বলছে রসমণি।’’
‘‘রাজপুর টাউনের উন্নয়ন, কামালগাজি, নরেন্দ্রপুরে যা পেরেছে করে দিয়েছি। আগে বারুইপুরে যেতে সময় লাগত। এখন গড়িয়া থেকে পরের পর উড়ালপুলে উঠি। আজ যে অপদার্থ দাঁড়িয়েছে, তাঁর মধ্যে নাম বলতে চাই না, শীতলখুচিতে তিনি থাকার সময়ে ভোটের দিন গুলি চালিয়ে চার জনকে হত্যা করা হয়।’’
‘‘লাভলি টিভিতে কাজ করেন। এলাকাও করে। নতুন যারা হয়, নতুন বাড়িতে ঢুকতে একটু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। আমার কি ভুল হয়নি? পরে সেটা শুধরে নেওয়ার সময় দিন। ও পার্টির খুব অনুগত। আমি দেখেছি, বিধানসভায় লাভলি এবং ফিরদৌসি প্রতিটা অধিবেশনে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে। তখন ও সিরিয়াল বাদ দিয়ে এই কাজটা করে। মানুষের কাজ করা বড় কাজ।’’
‘‘সারা জীবন লড়াই করেছি। আমাকে একা লড়ার জন্য সারা দেশের ১৯টি রাজ্য, ২ লক্ষ পুলিশ ফোর্স আনা হয়েছে। সারা বছর পাহার দেবে আমাদের পুলিশ। ভোটের সময়ে আনবে ওরা বহিরাগত। কেন হিম্মত নেই? মানুষের উপর ছেড়ে দিল। মানুষ যাকে ভোট দেবে, তাকে ভোট দিন।’’
‘‘বিজেপি হুন্ডি নিয়ে নেমেছে। দিল্লি থেকে এল মোটা ভাই, সাথে এল ইডি, সিবিআই। আই, এনআইএ। আর বিজেপির পরিবারের কিছু পর্যবেক্ষক। তারা ধমকাচ্ছে। বলছে, গাঁজা কেস দাও। আমি পরে জগন্নাথের গজা দেব।’’
‘‘লাভলি এবং ফিরদৌসি আমার দুই বোন। আপনারা সায়নীকে জিতেছেন। ও সংসদে খুব লড়াই করে। সারা বাংলায় ঘোরে আপনার আশীর্বাদে। ও এবং দেব আমাদের মতো চড়কি কাটছে। ’’
‘‘এক মাস ধরে প্রচার করছি। বিজেপির অত্যাচার সহ্য করছি। সময় কম। হাওড়ায় গিয়ে মিছিল করতে হবে। অল্প সময়ে বলব। কামালগাজিতে ফ্লাইওভার, শ্মশানঘাট, গড়িয়া থেকে মেট্রো, প্রতাপনগর রাস্তা আমার করা। আগে খেয়াদা থেকে আসতে ৩ ঘণ্টা লাগে। এখন বানতলা থেকে আধ ঘণ্টায় পৌঁছোনো যায়। আমার কাগজ দেখতে হয় না।’’
‘‘সোনারপুর আমার সোনার খনি। আমার জীবনের অনেক দিন এই মাটিতে কেটেছে। ছ’বার নির্বাচিত হয়েছি। এটা তৃণমূলের কর্মভূমি, জন্মভূমি, ধর্মভূমি। বড় কাজের আগে এখানকার মা, মাটি, মানুষকে প্রণাম জানাই। ’’