গ্রেফতার হওয়া কাউন্সিলর। নিজস্ব চিত্র।
কলকাতায় তোলাবাজি রুখতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে জেরবার তৃণমূল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই তৃণমূল কাউন্সিলর। আর গত দিন দশেকের হিসাব মেলালে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে তিনে। পর পর জনপ্রতিনিধিদের এই শ্রীঘরবাসকে কেন্দ্র করে তপ্ত কলকাতার রাজনৈতিক মহল। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুরকে গ্রেফতার করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। স্থানীয় প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকায় নির্মাণকাজ ও ব্যবসা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে তিনি কাটমানি চাইছিলেন বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, গড়ফা থানার পুলিশ প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই কাউন্সিলরকে ডেকে পাঠায়। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করে। একই দিনে জোড়া গ্রেফতারির ঘটনায় বিব্রত তৃণমূল নেতৃত্ব।
অরিজিতের গ্রেফতারির আগে সামনে আসে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শচীন সিংহের নাম। নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকেও একই রাতে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।
অন্য দিকে, তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে ২৩ মে ২০২৬ রাতে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান ছিলেন। অভিযোগ ছিল, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।