মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। —ফাইল চিত্র।
পাহাড়বাসীর উদ্দেশে শাহ বলেন, “৫ তারিখের পর, গোর্খা সমস্যা সমাধান করার পরে, আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে দার্জিলিঙে আসব।”
শাহ বলেন, “আমাদের গোর্খা ভাইয়ের উপর বহু মিথ্যা মামলা করবে। আপনারা আমার উপর ভরসা রাখবেন। ৪ মে ফলঘোষণা হবে। ৫ মে সরকার গঠন হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল গোর্খা ভাইয়ের উপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সকলের উপর মামলা করে গোর্খা আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা হয়েছে। এই সব মামলা বিজেপির সরকার প্রত্যাহার করবে। আপনাদের যাতে আন্দোলন না করতে হয়, এমন সমাধানও বের করব আমরা।”
শাহ বলেন, “মমতা দিদি গুজব ছ়ড়াচ্ছেন। এখন যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, সেগুলো নাকি বিজেপি বন্ধ করে দেবে। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, জনকল্যাণমূলক একটি প্রকল্পও বন্ধ হবে না।” তাঁর দাবি, বর্তমান জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সঙ্গে নতুন প্রকল্পও চালু হবে।
উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি সরকার গঠিত হলে উত্তরবঙ্গে একটি পৃথক এমস তৈরি হবে। ৫০০ শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। আইআইটি, আইআইএম তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। গোর্খা তরুণদের জন্য ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি হবে। দার্জিলিংকে আমরা ভারতের ইকো অ্যাডভেঞ্চার এবং হেরিটেজ টুরিজ়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলব। আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে তাড়াব। উত্তরবঙ্গে চারটি নতুন শিল্পশহর তৈরি করব আমরা। সকল সরকারি কর্মীকে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা দেব। চা বাগানে স্কুল তৈরি করব। চা বাগানের শ্রমিকদের নিজেদের জমির মালিক করা হবে, জমির পাট্টা দেওয়া হবে। দু’বছরের মধ্যে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকার চেয়ে বেশি করে দেব।”
শাহ বলেন, “দার্জিলিঙের জন্য একটি বিকল্প মহাসড়ক তৈরির কাজও করছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বাগডোগরা বিমানবন্দর ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয় নতুন করে বানানো হচ্ছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাগডোগরা ভারতের সপ্তম বৃহত্তম বিমানবন্দর হয়ে যাবে। সেই মতো কাজ চালাচ্ছি আমরা।”
শাহ বলেন, “জিটিএ যে দুর্নীতি করেছে, আমরা তার তদন্ত করব। ৯টির মধ্যে তিনটি বন্দেভারত ট্রেন আমরা উত্তরবঙ্গ দিয়ে চালিয়েছি। ১২,০০০ কোটি টাকার সেবক-রংপো রেললাইন প্রকল্প প্রায় শেষের মুখে। নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনেরও বিকাশ হচ্ছে। গোর্খা ভাইদের শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত বুলেট ট্রেনে করে কাশী-বিশ্বনাথে পৌঁছোনোর ব্যবস্থাও করছি।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মমতাদিদির কালেক্টর কয়েক জন গোর্খারও নাম কেটেছে। কোনও ব্যাপার না, আসন আমরাই পাব। ভোট শেষ হওয়ার পর বেছে বেছে প্রত্যেক গোর্খাকে আবার ভোটার তালিকায় জুড়বে বিজেপি।”
শাহ বলেন, “আপনারাই বলুন, বাংলাদেশিদের তাড়ানো উচিত কি উচিত নয়? রোহিঙ্গাদের তাড়ানো উচিত কি উচিত নয়? অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো উচিত কি উচিত নয়?”
শাহ বলেন, “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর গোর্খা সমস্যার সমাধানের জন্য ছ’বছরে তিন বার বৈঠক ডেকেছি। একবারও মমতার প্রতিনিধি আসেননি। মমতাদিদি, আমরা গোর্খাদের সমস্যার সমাধানের জন্য আপনার উপর নির্ভরশীল নই।” শাহ আরও বলেন, “গোর্খাদের মনে যা রয়েছে, সেই সমাধানই আমরা করব।”
শাহ বলেন, “গোর্খাদের একটি মহান ইতিহাস রয়েছে। মমতা দিদি গোর্খাদের ইতিহাসকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছেন। আগে সিপিএম-কংগ্রেসও করেছে। এখন গোর্খাদের উপর অন্যায় বন্ধ করার সময় শুরু হচ্ছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “উত্তরবঙ্গের জন্য মমতা সরকারের বাজেট ২,০০০ কোটি। আর মুসলিম সম্প্রদায় এবং মাদ্রাসার জন্য মমতা সরকারের বাজেট ৫,৮০০ কোটি টাকা। পুরো পাহাড়, সকল গোর্খা-আদিবাসী, গোটা উত্তরবঙ্গের জন্য ২,০০০ কোটি টাকা। আর মুসলিমদের জন্য ৫,৮০০ কোটি টাকা। ভাই-বোনেরা এই অন্যায় আর বেশিদিন চলবে না।”
শাহ বলেন, “এটা আমাদের দুই প্রার্থীকে বিধায়ক করার ভোট নয়। এটা দার্জিলিঙের পাহাড় থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের মা-বোনেদের সুরক্ষিত করার ভোট। মমতার রাজত্বে অনেক মা-বোনের উপর অত্যাচার হয়েছতে। সন্দেশখালির ঘটনা গোটা পশ্চিমবঙ্গকে লজ্জিত করেছে। মাটিগাড়ার নির্দোষ বালিকাকে অত্যাচার, বাগডোগরার কাছে চা বাগানে আদিবাসী মহিলার সঙ্গে অত্যাচার, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ, সাউথ ক্যালকাটা ’ল কলেজ, আরজি করের ধর্ষণ— প্রত্যেক ধর্ষককে বেছে বেছে জেলে ঢোকাবে বিজেপি।”
উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা এক বার বিজেপির সরকার গঠন করে দিন। তিনটি নির্বাচন ধরে দার্জিলিং তো পদ্মফুলে ভোট দিচ্ছেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশ থেকে তেমন সমর্থন আসত না। এ বার পুরো পশ্চিমবঙ্গ স্থির করে নিয়েছে, দিদিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় এসে গিয়েছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের বুঝি। আপনাদের সমস্যাও বুঝি। তাই বিজেপি ছাড়া আর কেউ গোর্খা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।”
শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরই, ৬ মে প্রত্যেক গোর্খার মুখে সন্তুষ্টির হাসি থাকবে। আমরা এমন সমাধান বের করব। কংগ্রেস, তৃণমূল এরা সকলে দার্জিলিঙের সঙ্গে, আমার দেশভক্ত গোর্খা ভাইয়ের সঙ্গে অন্যায় করেছে। আমি ৯ বছর ধরে এখানে আসছি। আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপির সরকার গঠিত হলেই এত দিন ধরে ঝুলে থাকা গোর্খা সমস্যার সমাধান করে যাব। গোর্খাদের মতো করেই সমাধান করব।”
শাহ বলেন, “পুরো পশ্চিমবঙ্গ ঘুরতে ঘুরতে আজ শেষ দিনে পাহাড়ে এসেছি। আমি আপনাদের বলছি, এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হচ্ছে। আমাদের উপর অত্যাচার করা মমতাদিদিকে টাটা বাই বাই করার সময় হয়ে গিয়েছে।”
শাহ বলেন, “আমি দার্জিলিঙের সভায় যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি ছিল না। ওই সময় আবহাওয়া ঠিক ছিল না। তখন আমি ভিডিয়ো বার্তায় বলেছিলাম, ২১ তারিখ আমি অবশ্যই আসব। আপনাদের সঙ্গে দেখা করেই দিল্লি যাব। আপনাদের সঙ্গে দেখা করতেই আজ এসেছি।”
কার্শিয়াঙের সভামঞ্চে পৌঁছোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সভামঞ্চে রয়েছেন রাজু বিস্তা, বিমল গুরুং-সহ পাহাড়ের নেতারা।
মঙ্গলবার অমিত শাহের প্রথম সভাটি রয়েছে কার্শিয়াং জেলায়। তিনি সভাস্থলে পৌঁছোনোর আগে থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করেছে সেখানে।
মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে প্রথম দফার ভোটের প্রচার। প্রথম দফার ভোটের প্রচারপর্বের শেষ দিনে পশ্চিমবঙ্গে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। জেলায় জেলায় ঘুরে জনসভা করবেন তিনি। আজ তাঁর চারটি জায়গায় জনসভা রয়েছে— কার্শিয়াং, কুলটি, শালবনি এবং চণ্ডীপুর।