আরামবাগের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
বুথে এক জন ভোটার থাকলেও তাঁর ভোট জোড়াফুলে পড়বে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম বলে ৩২ লক্ষ মানুষের উঠেছে। আরও অনেক নাম বাদ গিয়েছে। আজ না হোক, কাল তো তাদের নাম উঠবেই।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “একজন আইনজীবী হিসাবে মনে হয়, এতগুলো নাম বাদ যাওয়ার কারণে আমাদের আবার কোর্টে যাওয়া উচিত। আমরা যাবও।”
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “ছাত্র-যুব, মহিলাদের কাছে ডেকে সবাই কাজ করবেন। আর যে করবেন না, আমার চেয়ে বড় এনিমি (শত্রু) তাঁর কেউ হবে না। আমি সেই কর্মীকে ভালবাসি যে মাটিতে চলাচলা করে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। লোকে ১০টা কথা বললেন শুনবেন। আমি যদি শুনতে পারি, আপনারা শুনবেন না কেন? কত বড় নেতা হয়ে গিয়েছেন আপনারা? আপনাদের শুনতে হবে।”
ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চৈত্র সেলের মতো দেশের সব জায়গা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। কিছু করার নেই।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “তবু বলি ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে লড়াই হবে।”
প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় আবার পাকিস্তানকে দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তখন কেন মুখে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে রাখেন মোদীবাবু?”
বিজেপিকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আর তো কটা দিন, তার পর বিজেপি এ পাশ, ও পাশ, ধপাস।”
এত গুলো মানুষের নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে আবার কোর্টে যাওয়া উচিত বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ না দিয়ে প্রথম দফার ভোটে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “আমি বোকা হতে পারি, কিন্তু আইনজীবী হিসাবে আমার মনে হয়, আবার আমাদের কোর্টে যাওয়া উচিত।”
এ বার রাজ্যে সাংঘাতিক পরিস্থিতিতে ভোট হচ্ছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আরামবাগের সভায় অমিত শাহের নাম না করে তাঁর তোপ, “মোটাভাই যাঁর বাড়িতে ভাত খেয়েছিলেন, তাঁর নামও বাদ দিয়ে দিয়েছে।”
আরামবাগের কালিপুর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ এবং গোঘাটের প্রার্থী নির্মল মাজির সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার ভবানীপুরের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলিতে নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশে রওনা দিলেন। বুধবার বেলায় তিনি ডুমুরজলা হেলিপ্যাড থেকে কপ্টারে চেপে আরামবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। ওখানে জনসভা করার পর তাঁর বলাগড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আর এক দফা প্রচার সেরে শ্রীরামপুরে যাবেন তিনি। সেখানেও তিনি জনসভা করবেন। বিকেলেই কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।