বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
৪ মে ভোটগণনা হবে। সে দিন কী করতে হবে, দলের কর্মীদের তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘ইভিএম মেশিন ১ থেকে ১০০০ গুনতে হবে। মেশিনের প্রতিটি বোতাম টিপে দেখতে হবে সেই ভোট সেখানে পড়ছে কি না। ভিভিপ্যাট ছাড়়া ইভিএম মেশিন পরীক্ষা করা যাবে না। ভোটের দিন ওরা বদমায়েশি করে মেশিন খারাপ করে দেবে। যত ক্ষণ নতুন মেশিন না-আনা হচ্ছে, তাতে ভোট করতে দেবেন না। নয়তো মেশিনে চিপ ঢুকিয়ে দিতে পারে।’’ এর পরেই গণনা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘ভোট থেকে গণনা, ওরা স্লো পোলিং করবে। স্লো কাউন্টিং করবে। প্রথমেই ওরা রটিয়ে দেবে তৃণমূল হারছে। কিন্তু সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে হলে সূর্যাস্ত করবে তৃণমূল। শেষে দেখবেন তৃণমূলই জিতেছে। আমরা আগের চেয়ে বেশি আসনে জিতব।’’
মমতার অভিযোগ, ‘স্লো পোলিং’ এবং ‘স্লো কাউন্টিং’ করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমেই রটিয়ে দেওয়া হবে, তৃণমূল হারছে। তাঁর কথায়, ‘‘ভয় পাবেন না। সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে হলে সূর্যাস্ত করবে তৃণমূল। শেষে দেখবেন তৃণমূল জিতছে। আগের চেয়ে বেশি আসনে জিতব। শুধু নিজের ভোট নিজে দেবেন।’’
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির বাড়িতে, কংগ্রেসের বাড়িতে, সিপিএমের বাড়িতে তো হানা দেওয়া হয় না। যত দোষ তৃণমূলের। আমি বিশ্বাস করি আমার দলের লোকেরা টাকার কাছে মাথা নত করে না। লড়াই করে। এটা আমাদের বদলার লড়াই। আমি যদি যোদ্ধা হই, মা-বোনেরা আমার সহযোদ্ধা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপির তাঁবেদারি করতে যারা এসেছে, তাদের বলে রাখছি, বিজেপি চিরকাল থাকবে না। মানুষ কিন্তু তখন বদলা নেবে। দিল্লি থেকে বিজেপিকে উৎখাতের সূচনা হোক বাংলার মাটি থেকে।’’
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছ। সর্বনাশ করে দিয়েছে দেশটার। সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করার সময় তো হিন্দু-মুসলিম দেখো না! ওমানে এত গোমাংস রফতানি করা হয়। আর বাংলায় মাছ-মাংস বন্ধ করতে চাইছে।’’
মমতা বলেন, ‘‘লোকসভায় পরাস্ত হয়েছ। এ বার মাটিতে পরাস্ত হতে হবে। বাংলাই পথ দেখাবে।’’
তৃণমূলের কর্মীদের ভোটের মেশিন ভাল করে পরীক্ষা করে দেখার বার্তা দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘সব বোতাম টিপে পরীক্ষা করে দেখবেন, ঠিক জায়গায় ভোট পড়ছে কি না। কোনও মেশিন খারাপ হলে তাতে ভোট করতে দেবেন না। যত ক্ষণ না নতুন মেশিন আনা হচ্ছে। না হলে চিপ ঢুকিয়ে দেবে। নিজের ভোট নিজে দেবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘বাংলার লোকেরা অন্য রাজ্যে গেলে তাঁদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। আমরা যদি বাইরে বহিরাগত হই, তোমরা কেন হবে না বাংলায় বহিরাগত?’’
মমতা বলেন, ‘‘ডিলিমিটেশন চেয়েছিল। দেশ ভাগ করতে চেয়েছিল। বিল এনে মহিলাদের আসন দিতে হয় না আমাদের। লোকসভায় নির্বাচিত মহিলা সাংসদদের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ। রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ। এমন আর কোথাও নেই। বিজেপির শিক্ষা নেওয়া উচিত। মহিলা সংরক্ষণের জন্য ৯৮ সাল থেকে আমি লড়ছি।’’
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির কাজ করতে যারা এসেছে, তাদের বলে রাখছি। বিজেপি কাল থাকবে না। মানুষ বদলা নেবে।’’
মহিলা বিল নিয়ে সংসদে কেন্দ্র যে ধাক্কা খেয়েছে, তাকে কটাক্ষ করেছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপিকে আমরা হারিয়েছি। মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো নেই। অন্যের সমর্থনে কুর্সিতে বসে আছে। সব যাবে।’’