মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
আমাদের তো রোজই ইডি রেড করছে। ইলেকশনের সময় মনে পড়ল? যারা আমাদের পার্টির কাজ করে তাদের বলছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও। তোমাদের তো পঞ্চাশটা আছে। আমাদের একটা আছে। শুনুন ওদের ভয় দেখালে, ওরা আমাদের দলের সঙ্গে যুক্ত হবে। আমরা ওদের চাকরি দেব। আমি একটি ছেলেকেও চাকরিছাড়া করব না। সকালে আমি অভিষেকের সঙ্গে কথা বলেই এসেছি।
প্রসঙ্গত, শনিবার মধ্যরাতে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক তাদের কর্মীদের কাছে ইমেল পাঠিয়ে জানায়, কিছু আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’য় পশ্চিমবঙ্গে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে যেতে বলা হয়। ১১ মে-র পর আবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানানো হয়। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই এই খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে তৃণমূল। দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই কাজ করছে। পরে তারকেশ্বরের জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘যারা আমাদের পার্টির কাজ করে তাদের বলছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও।’’ আই-প্যাক নিয়ে ওই মঞ্চ থেকে সরব হন তিনি।
আমারটা টুকলি করে মোদীবাবু বলছেন আমি ২৯৪টা কেন্দ্রের প্রার্থী। আরে আপনি তো বাংলার ভোটরই নন! আপনি তো বহিরাগত। আগে আপনি প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করুন। তার পর বলুন আমি বাংলার ভোটে দাঁড়াব। তার পর আপনি তো জিতবেন না। কারণ আপনি বহিরাগত। আপনি যদি এমনি ভোটে জিততেন, তা হলে ইডি, সিবিআই, আইটি কেন, গাঁজার কেস কেন, এনআইএ কেন? ভোটে লড়তেন সরাসরি। আপনিও প্রচার করতেন। আমরাও করতাম। গদি মিডিয়াকে দিয়ে খাওয়াল, মহিলা বিল করতে দিচ্ছে না, তা কি সত্যি? তা নয়। পিছনে ময়লা। মহিলা বিল আগেই পাশ হয়ে গিয়েছে। এটা গদি মিডিয়া খবরও রাখে না। আমি সাংবাদিকদের দোষ দিই না।
মা-বোনেরা কোনও ফর্মে সই করবেন না। ইভিএম মেশিন ভাল করে চেক করতে হবে। একটু করে ছেড়ে দিলে হবে না। ভিভিপ্যাট চেক করতে হবে। ওরা আমাদের জায়গাগুলিতে ভোটিং মেশিন খারাপ করবে। ওই মেশিনে ভোট করবেন না। কাউন্টিংয়ে নজর রাখবেন। এমন ছেলেমেয়েদের দেবেন যাঁরা ঘুষ খাবে না। টাকায় বিক্রি হবে না। ওরা রাবড়ী, চা নিয়ে এলে খাবে না। ঘরের খাবার নিয়ে যাবে। কিন্তু ওরা যেন খাবারে কিছু মিশিয়ে ঘুম পাড়িয়ে না ফেলতে পারে। ওদের পলিসি স্লো কাউন্টিং। আর স্লো ভোটিং। জেনে গিয়েছি সব। ভোটের কাউন্টিংয়ের দিন সকালবেলায় দেখবেন, বিজেপি জিতছে বলে রটাবে। ওটা দিয়ে সূর্যোদয় হবে। আর তৃণমূল জিতছে, এটা দিয়ে হবে সূর্যাস্ত। এরা চাইছে মধ্যরাত পর্যন্ত কাউন্টিং টেনে নিয়ে যাও। লোডশেডিং করে দাও। সবাই অলটারনেটিভ ব্যবস্থা রাখবেন। যাতে মেশিন সরিয়ে দিতে না পারে। লুট করতে না পারে। ওদের অনেক রকম পরিকল্পনা।
কালকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে রাজনীতি করেছে। ২০২৩ সালের মহিলা বিল পিছনে পড়ে আছে। কেন করোনি, জবাব চাই, জবাব দাও। মোদীকে তোপ মমতার।
সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমি কারও কোনও ইগো দেখতে চাই না। রামেন্দু-উত্তম একসঙ্গে কাজ করবে। বলে গেলাম। এই কথার যেন অন্যথা না হয়।
যারাই অত্যাচার করেছ তাঁদের নাম, ঠিকানা রেখে দিন। যে যেখান থেকেই আসুক। ভোটের পর আমরা ওদের একটু মিষ্টি পাঠাব। ইশারাই কাফি। একটু নাড়ু করে পাঠাব। তৃণমূলের বাড়ি রেড হবে, বিজেপির বাড়িতে কেন হবে না? সবচেয়ে বড় চোর তো গদ্দার, তার বাড়ি রেড হবে না কেন, তার ভাইয়ের বাড়ি রেড হবে না কেন, তার বাবার বাড়িতে রেড হবে না কেন? চালাকি? চালাকির দ্বারা কোনও মহৎ কাজ হয় না। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। নয়ডাতে আগুন জ্বলছে। ওখানকার ডিএম কে? কোশ্চেনটা ছুড়ে দিয়ে গেলাম। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
এই সরকার টিকবে না। যাব যাব যাব করছে। পরশু দিন আমাদের আট জন যেতে পারেনি। কারণ ইলেকশনের কাজে ব্যস্ত ছিল। শিবসেনাও যেতে পারেনি। আরও ২৫-৩০ জন যেতে পারেনি। সবাই গেলে বিজেপি গো হারা হারবে। পরশু দিন যেমন হারিয়েছি। আগামী দিন আবার হারাব। বাংলাকে শুধু জিতিয়ে দিন। আমি বলেছিলাম বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লি টার্গেট করব। পরশু দিন আমার মা-বোনেদের শুভেচ্ছায় আমরা জিতেছি। আমি কিছুই করিনি। আগামী দিন তো বুঝে নেব।
তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেললাইন আমি করে দিয়েছিলাম। বিষ্ণুপুর পর্যন্ত রেল আমি চালিয়েও দিয়ে গিয়েছিলাম। তোমাদের এইটুকু করতে ১২ বছর লেগে গেল। আর তুমি আমাদের ১৫ বছর দেখাচ্ছ? তুমি সাড়ে ১৪ বছরেই আমাদের সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছ। অ্যান্টিকলিসন ডিভাইস আমি করে দিয়েছিলাম বলে অ্যাকসিডেন্ট থেকে বাঁচছে। দিল্লি মেট্রো আমি করে দিয়েছিলাম। মুম্বই রেল বিকাশ কর্পোরেশন আমি করে দিয়েছিলাম। কলকাতার যত মেট্রোরেল আমি করে দিয়েছিলাম। বাংলাকে রেলে ঢেলে সাজানো, ২ লক্ষ কোটি টাকার উপরে দিয়েছিলাম।
সিঙ্গুরের জন্য আমি ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। কৃষকদের জমি রক্ষা করার জন্য লড়াই করেছিলাম। কৃষিজমি জোর করে দখল হবে না, আমাদের আন্দোলনের ফলে, এই বিল পাশ করিয়েছিলাম। সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ করে চাষিদের ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।
ডিলিমিটেশন কেন আটকেছি? বেশ করব, হাজার বার করব। মহিলা বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। বলুন নোটিফিকেশন করতে। সামনে মহিলা, পিছনে ময়লা। আবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন! কত বড় নেতা!
এক বিল ক’বার পাশ হয়? মহিলা বিলের সাথে তোমরা ডিলিমিটেশন জুড়ে দিয়েছ। মহিলা বিলের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ রূপে আছি। আমরা বলি না, করে দেখাই। তোমাদের পার্টিতে কত পার্সেন্ট আছে?
গত পরশু দিন দেখেছেন মোদীবাবু হেরেছেন লোকসভায়। পতন শুরু হয়েছে গেছে। মাইনরিটি সরকার নিয়ে এত বড় ঔদ্ধত্য, অহংকার। গতকাল গর্ভনমেন্টের মেশিনারি দিয়ে, দূরদর্শনকে দিয়ে মোদী দর্শন বানিয়ে পলিটিক্যাল ক্যাম্পেন করেছে। আমরা কমপ্লেন করব এবং ধিক্কারও জানাই।
সিঙ্গুরের আন্দোলন আপনারা জানেন। পাশেই সেই গ্রাম। যিনি জমি দখল করেছিলেন জোর করে, সেই ব্যক্তি এখন ইলেকশনের দায়িত্বে আছেন বাংলায়। যিনি সিঙ্গুরের মানুষের জমি কেড়ে নিয়েছিলেন। তাপসী মালিকের হত্যা থেকে শুরু করে, সমস্ত কৃষকের জমি কাড়ার মূল কাণ্ডারী ছিলেন। তিনি আজকে ভিডিয়ো কনফারেন্স করে অবজার্ভারদের ইললিগাল ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছেন যে, তৃণমূল কর্মীদের গাড়িতে গাঁজা ভরে দাও। গ্রেফতার করে নাও। অত্যাচার করো। আমি পরিষ্কার বলি, অত্যাচার করলে ফলটা উল্টো হয়। রথে যেমন সোজা রথ ,উল্টো রথও হয়। এ বার উল্টে দেব। দেশ থেকেও দূর করব।
রাজ্য সরকার কৃষকের স্বার্থে কোনও বাধা দেবে না। আলু চাষিদের জন্য ক্রপ ইনসিওরেন্স তৈরি করা হয়েছে। আলু চাষিরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। সিপিএমের আমলে বিক্রি করতে পারত না। ৩০ ভাগ আলু কোল্ড স্টোরেজে এখন রাখা থাকে।
তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু রায় সিংহ। তাঁর হয়ে প্রচার সারতে এলেন মমতা। সভা মাঠের অদূরে নামল তৃণমূলনেত্রীর হেলিকপ্টার।