পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রচারে নরেন্দ্র মোদী। রবিবার পুরুলিয়ায়। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
মোদী বলেন, ‘‘অনেক স্কুল শিক্ষক ছাড়াই চলছে। সাঁওতালি ভাষাকে অপমান করা হয়। অন্য দিকে, মাদ্রাসায় মোটা অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এটা ঘোর তুষ্টিকরণ। বিজেপি এ সব চলতে দেবে না। এই সব চলবে না।’’
মোদী বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি ভারতীয় সংবিধানের সাঁওতালি ভাষার সংস্করণ প্রকাশ করেছেন। বিজেপি সরকারই বাংলাকে শাস্ত্রীয় ভাষার আখ্যা দিয়েছে। বিজেপি-র ঘোষণাপত্রে রাজবংশী, কুড়মালি ভাষা নিয়েও বিশেষ ঘোষণা রয়েছে।’’
মোদী বলেন, ‘‘কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা এ রাজ্যের সরকার মানুষের কাছে পৌঁছোতে দেয় না। এখানে বিজেপি সরকার তৈরি হলে ৪ মে-র পর বোনোদের সরাসরি আর্থিক সাহায্যের সঙ্গেই সমস্ত প্রকল্প সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা হবে। এটা আমার গ্যারান্টি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রেশনের পুরো চাল আপনারা পাবেন, গরিব পরিবারের মেয়েরা পাকা ঘর তৈরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা করে পাবেন। গরিব মেয়েদের পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেবে বিজেপি সরকার।’’
নির্বাচনী ইস্তাহারে বিজেপির প্রতিশ্রুতিগুলির উল্লেখ করেন মোদী। বলেন, ‘‘মেয়েদের প্রতি বছর ৩৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড আমরা এনেছি। এ ছাড়া, বাংলার বিজেপি আপনাদের ছোট ছোট চাহিদার খেয়াল রেখেছে। গর্ভাবস্থায় মেয়েরা ২১ হাজার টাকার সহায়তা পাবেন। শিক্ষার বিস্তারে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ৭৫ লক্ষ মহিলার আয় যাতে এক লক্ষ টাকার বেশি হয়, তা নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার।’’
মোদী বলেন, ‘‘সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। তৃণমূল সেটা চায় না। তাই সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে তারা। ভোট দেওয়ার সময় আপনাদের এই অপরাধের সাজাও তৃণমূলকে দিতে হবে।’’
মোদী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী এই রাজ্যে নিশ্চিত। মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বিজেপি থেকে হলে পুরুলিয়ার বিকাশ দ্বিগুণ গতিতে হবে।’’
মোদী বলেন, ‘‘উন্নয়নবিরোধী সরকার রেলের প্রকল্পেও বাধা দিচ্ছে। হাজার কোটির প্রকল্প আটকে আছে। তাই তৃণমূলকে সরাতে হবে। প্রতি বুথে তৃণমূলের পরাজয় চাই। সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলে দিতে হবে। আপনারা এখানে বিজেপির সাংসদ এনেছেন। এ বার বিধায়ক বানানোও খুব জরুরি। আপনারা আমাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। এখানে এ বার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বানানোও ততটাই দরকার।’’
মোদী বলেন, ‘‘সমস্যা ছাড়া তৃণমূল আর কিছু দেয়নি মানুষকে। পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব ভয়ানক বেড়ে গিয়েছে। এটা খুব বড় সঙ্কট। তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ এর জন্য দায়ী। ওরা শিক্ষকদের নিয়োগ লুটে নিয়েছে। হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে ধোঁকা দিয়েছে। কাটমানি ছাড়া এখানে কোনও কাজই হয় না! কাটমানি দিতে হলে শিল্প কোত্থেকে আসবে? তাই এখানে শিল্প বেহাল। তাই আমি বলি, আর কাটমানির খেলা চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না।’’
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূলের জঙ্গলরাজে আদিবাসী জেলা পিছিয়ে যাচ্ছে। রাস্তা, জল, স্কুল— সব বেহাল। আদিবাসীদের জমিতে আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রণ নেই! তৃণমূলের সিন্ডিকেট সব চালাচ্ছে। অবৈধ খননের কালোবাজারি চরমে পৌঁছেছে। এখানে অযোধ্যা পাহাড় আছে, সীতাকুণ্ড রয়েছে। কিন্তু সীতাকুণ্ডের এই মাটিকে তৃণমূল জলের জন্য তৃষ্ণার্ত করে তুলেছে। কৃষকেরাও হয়রান। কত প্রকল্প এখানে আটকে আছে। নির্মম সরকার শুধু লুটে যাচ্ছে। লুটেরাদের বাঁচাচ্ছে।’’মোদী জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সমস্ত বন্ধ করবে।
মোদী বলেন, ‘‘আদিবাসীদের জন্য বিজেপিই আলাদা মন্ত্রক বানিয়েছে। বরাদ্দ তিন গুণ বাড়িয়েছে। বিজেপিই বীরসা মুণ্ডার জন্মদিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আদিবাসী সমাজ থেকে এত মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছে বিজেপি। ওড়িশা, অসমেও প্রথম মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী হয়েছেন। আদিবাসীকে রাষ্ট্রপতি বানানোর সৌভাগ্যও বিজেপি পেয়েছে।’’
মোদী বলেন, ‘‘১৫ বছরের দুর্নীতি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক পরিবারকে ত্রস্ত করে রেখেছে। এ বার বিজেপির সরকার তৈরি হবে এখানে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি। ভিড়ই বলে দিচ্ছে।’’
পুরুলিয়ায় মোদী বলেন, ‘‘আগেও পুরুলিয়া এসেছি। এই জনসভার উৎসাহ আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। হেলিপ্যাডের কাছেও প্রচুর লোক ছিলেন। এখানে আমার যত দূর দৃষ্টি যাচ্ছে, লোকই লোক। এটা কল্পনাতীত। ৪ মে এখানে পিঠের দাওয়াত হবে।’’
বাঁকু়ড়ায় সভা শেষ করে মোদী পুরুলিয়ায় পৌঁছেছেন। জেলার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করছেন তিনি।