TMC Office Delhi

কলকাতায় বাড়ি ছাড়ার নোটিস, দিল্লিতেও ঠাঁইহারা হল তৃণমূল! বিদ্রোহী সাংসদের বাড়ি থেকে দফতর এল অনুগতের বাংলোয়

পার্থের বাংলোটি দিল্লির রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডে। সেখান থেকে মমতা, অভিষেকের ছবি, কার্যালয়ের আসবাবপত্র, টেলিভিশন, তৃণমূলনেত্রীর লেখা বেশ কিছু বই-সহ অন্যান্য সামগ্রী সরানোর কাজ শুরু হয়েছিল। শুক্রবার সে সব গুছিয়ে ফেলা হয়েছে নাদিমুলের বাংলোয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৫:১২
Share:

(উপরে) পার্থ ভৌমিকের বাংলো থেকে দিল্লিতে তৃণমূলের কার্যালয় সরল রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাংলোয় (নীচে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতার মেট্রোপলিটনে অস্থায়ী তৃণমূল ভবন নিয়ে সঙ্কট ছিলই। তার মধ্যেই সংসদীয় দলে বিদ্রোহের জেরে দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা বদলাল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলোর একটি অংশকে দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হত। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবির থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের শিবিরে পার্থ সরতেই, সরল তৃণমূলের কার্যালয়ও। নতুন কার্যালয় করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাংলোর একটি অংশে।

Advertisement

পার্থের বাংলোটি দিল্লির রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডে। সেখান থেকে মমতা, অভিষেকের ছবি, কার্যালয়ের আসবাবপত্র, টেলিভিশন, তৃণমূলনেত্রীর লেখা বেশ কিছু বই-সহ অন্যান্য সামগ্রী সরানোর কাজ শুরু হয়েছিল। শুক্রবার সব গুছিয়ে ফেলা হয়েছে নাদিমুলের বাংলোয়।

কেন ঠিকানা বদল করতে হল? তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘কখন কার বাংলোয় পার্টি অফিস থাকে, কখন কে দলে থাকেন, কখন কে বিদ্রোহী হন, কখন কে সুনজরে থাকেন, এ সব বলা মুশকিল। তবে যাঁরা সুনজরে থাকেন, বড় নেতা হন তাঁরাই কেন বিদ্রোহী হন, এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’’

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকেই উত্তর পঞ্চান্ন গ্রামে বাইপাসের ধারের পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকেই কলকাতারই মেট্রোপলিটনের একটি পাঁচতলা বাড়িতে অস্থায়ী তৃণমূল ভবন হিসাবে ব্যবহার শুরু হয়। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু ভোটে হারার পরেই ওই বাড়ির মালিক মন্টু সাহা বেঁকে বসেন। শুরু হয় টানাপড়েন। মালিক মন্টুর দাবি, বার বার বলার পরেও ওই ভবন খালি করছে না তৃণমূল। সেই অভিযোগ নিয়েই প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তার পর তৃণমূলের তরফেও থানায় গিয়েছিলেন কুণাল এবং রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

গত সোমবার বাড়িভাড়া সংক্রান্ত যাবতীয় নথি থানায় জমা করেছেন কুণালেরা। একই সঙ্গে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তাতে বলা হয়েছে, অস্থায়ী কার্যালয় হিসাবে মেট্রোপলিটনের ওই বহুতলটি ব্যবহার করছিল তৃণমূল। তবে এখন সেটি স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। সেই অবস্থায় পুলিশ বা প্রশাসন যেন অহেতুক হস্তক্ষেপ না-করে। কলকাতায় দলীয় দফতরের ঠিকানা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই দিল্লিতে বদলে গেল তৃণমূলের দফতরের ঠিকানা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement