মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘ইভিএম মেশিন খারাপ করে দেবে। অনেক লাইন জীবনে দিয়েছেন। একটু অপেক্ষা করবেন। নতুন মেশিনে ভোট দেবেন। চিপ ঢুকিয়ে রেখে দেবে।’’
‘‘যাঁদের কাল ভোট আছে, তাঁরা দেখে নিন সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট। আপনারা রিটার্নিং অফিসারের থেকে তালিকা নিয়ে নিন। যাঁদের ভোট কেটে গিয়েছে। জেনুইন নাম— আমি সবার নাম তুলে দেব। রাজস্থান, বিহার থেকে ট্রেনে করে এসে ভোট দেবে? এ বার আটকে রাখবেন। মায়েদের দায়িত্ব দিলাম। পালাতে দেবেন না, যাঁরা ফলস্ ভোট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করবে।’’
‘‘এ বারের ভোট দেখছেন তো? আমার কেন্দ্রের কথা ভাবুন। কালকে আমি একটা মিটিং চেয়েছিলাম। কলিন্স লেনে একটা ছোট্ট গলি আছে। আমি তো জৈনদের সব মন্দিরে গেছি। হিন্দুদের সব মন্দিরে যাই। আমাকে বলল, পারমিশন নেই। আমি বললাম, তাই? আমি তো চা খেতে যেতে পারি। গিয়ে চা খেয়ে এলাম। তুমি ঢাল-তরোয়াল নেমেছো। এ বার দেখবে আম যাবে, ছালাও যাবে।’’
‘‘চার পার্সেন্ট ডিএ বাড়িয়েছি বাজেটে। এখন ইলেকশনে ব্যস্ত। আমাকে না জানিয়ে ওটা ইলেকশন কমিশনকে ফাইনান্স সেক্রেটারি পাঠিয়েছেন। আর ইলেকশন কমিশন চেপে রেখে দিয়েছে। নয়তো অনেক দিন আগে আপনারা পেয়ে যেতেন ২৫ পার্সেন্ট মতো। কিন্তু এই মাসেই আপনারা মাইনের সঙ্গে এই টাকা আপনারা পেয়ে যাবেন আমরা কথা দিচ্ছি।’’
‘‘কাল রাত থেকে কোলাঘাটে কেউ যেতে পারছে না। কাল থেকে বাবু, গদ্দার বাবু, পিরিতের বাবু, দোসর কোলাঘাট থেকে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে যাতে কেউ যেতে না-পারে। আবার পশ্চিম মেদিনীপুরে রেল ব্লক করে দিয়েছে। রাস্তা ব্লক করে দিয়েছে। ভেবেছে দু’দিনের জমিদারি করবে। তবে আগামী দিনে জমিদারি করতে পারবে না। সকলে দল বেঁধে ভোট দিতে যাবেন।’’
‘‘আমরা দুরন্ত খেলা খেলি। আমাদের হারানো সহজ নয়।’’ আমডাঙা থেকে বিজেপিকে নিশানা মমতার।
‘‘সকাল থেকে পাগল হয়ে গেছি ফোনে-মেসেজে। শ্রীজাতকে নাকি ফোন করেছে কেউ, ‘আপনার বাড়িতে পুলিশ যাচ্ছে। আপনাকে গ্রেফতার করা হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফোন করলাম। এ আবার কী! বাইক চলবে না। রেল বন্ধ। এগুলো ইলেকশন কমিশন করছে। বাইরে থেকে তো এখানকার লোক ভোট দিতে আসছে। তাঁদের ভোট দিতে দেবেন না?’’
ভিন্রাজ্যে কাজ করা মানুষরা ভোটের জন্য ফিরছেন রাজ্যে। তাঁদের গীতা-কোরান ছুঁইয়ে বলে নেওয়া হচ্ছে বিজেপিকে ভোট দিতে। এমনই দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি ‘সরাসরি’ লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ করেন।
আমডাঙার তৃণমূল প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকীর সমর্থনে উলুডাঙার স্কুলমাঠে সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পরে তিনি সভা করবেন হরিপালের তৃণমূল প্রার্থী, বেচারামের স্ত্রী করবী মান্নার সমর্থনে। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী চলে যাবেন হাওড়ায়। শিবপুর এবং হাওড়া দক্ষিণ কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায় এবং নন্দিতা চৌধুরীর সমর্থনে সভা করবেন তৃণমূলনেত্রী।