মিছিল শেষে মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘আবার দেখা হবে। নবান্নে দেখা হবে। দেখব, কত হামলা, কত বদলা নিতে পারো। বিজেপির পার্টির লোককে ডিএম, চিফ সেক্রেটারি করতে হবে? কেন মানুষের উপর ভরসা নেই! লড়াইয়ে থাকবেন বন্ধুরা, আমি লড়াইতে। আমি তো যাবই না। মাথায় রাখবেন কোনও ঘটনা ঘটলে প্রধানমন্ত্রী থেকে এই সবক’টাকে দায়িুত্ব নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, বিহার, হরিয়ানা থেকে কাউকে এনে যেন ভোট করতে না পারে। টাকা ছড়াতে না পারে।’’
‘‘বাংলা থেকে যাতে কাউকে তাড়িয়ে দিতে না পারে, সেই লড়াই লড়ছি আমরা। ওরা নর্থবেঙ্গলিদের বলবে, ‘বাঙালির সঙ্গে ঝগড়া করো।’ আপনাদের ব্যবসা এখানে। ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশোনা করে। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি।’’
‘‘এ বার আরও খেলা হবে। বিজেপিকে ছক্কা মারুন। ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে। বাংলার মানুষ জিতছে। এ বার আমাদের সিট আরও বাড়বে, তোমরা রসাতলে যাবে।’’
‘‘ভয় না পেলে কেউ বলেন, ‘কালীঘাটেও অ্যাটাক করব!’ যিনি এ সব বড় বড় কথা বলেছেন তাঁকে আমি অনেক সাহায্য করেছি। আমি বিপরীত রাজনৈতিক দলের কেউ সমস্যায় পড়লেও সাহায্য করি। কিন্তু গ্যাস খেয়ে এ সব বলবেন না।’’
‘‘কতগুলো ডাকাত, গুন্ডার সর্দারকে এখানে এনে বসিয়েছেন। এক হাজার টাকায় একজন মিটিংয়ে যাবে। এই টাকায় বরং গ্যাসের ভর্তুকি দিন...মানুষ বিচার পাবে...। আর একটা নাম আছে, প্রথম অক্ষর শু... দ্বিতীয়টা বললাম না। শেষে ‘ল’। টাইটেলটা ‘বানচাল’, আমি বলি, অনেক খেয়েছ। আগে খেতে পেতে না। এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছো। তৃণমূলকে বলছ চোর! আর তোমরা ডাকাতদের সর্দার। বড় বড় ডাকাত। টাকার শেষ নেই। আর বদনাম করছে তৃণমূলকে। তৃণমূলের মতো একটা পার্টি দেখাও, যারা মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।’’
‘‘কেন চেঞ্জ করলেন সিপি সুপ্রতিমকে (সরকার)? টাকা ঢোকাবেন সে জন্য? হামলা করবেন যাতে ধরতে না পারেন সে জন্য? আমরাও নজর রাখব।’’
‘‘পুলিশকে ‘থ্রেট’ করে লাভ নেই। ওরা চাকরি করে। চাকরিটা আপনারা দেননি। ওরা নিজেদের যোগ্যতায় পেয়েছে চাকরি। এক মাসের জন্য বদলে আবার বলছে পরে দেখে নেবে... তোমরা ঘেঁচু করবে।’’ বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘তোমার পরিবর্তনের সঙ্কল্প গল্প হয়ে থেকে যাবে। তোমার পরিবর্তন হবে না। তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন হবে।’’
‘‘আমরা মাছের কাঁটা বাছি, আপনারা রাজনীতির উকুন বাছেন। সব চেঞ্জ করে দিন, তার পরেও বাংলার সরকার বদলাবে না। লিখে নিন।’’
মমতা বলেন, ‘‘আগে বাংলাটা ভাল করে শিখে আসুন। না-হলে বলার প্রয়োজন নেই। রানি রাসমণিকে বলছেন রসোমণি! মাতঙ্গিনীকে কী যেন বলেছিলেন, আমি উচ্চারণ করতে পারছি না।
‘‘আমি আরএসএসকে আগে শ্রদ্ধা করতাম, গান্ধীজির মৃত্যুর পরে করি না... সুপ্রিম কোর্টের উপর আমাদের আস্থা আছে। যাঁদের নাম কাটা যাবে ট্রাইবুনালে যাবেন। আপনারা যাবেন। বিনা পয়সায় আইনজীবীরা সাহায্য করবেন।’’
‘‘মিটিং (ব্রিগেড) করার আগে আপনারা কী করলেন? শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা করলেন? লজ্জা থাকা দরকার। আমরা হামলার বদলে হামলা করব না। তবে আমরা আর সহ্য করব না। আগে বলেছি, বদলা নয় বদল চাই। এ বার বলছি, বিজেপি হটাও।’’
‘‘এত পাবলিসিটি না করে গ্যাসের দামটা ঠিক করতে পারতেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, এখানে কাজ নেই। তাই বাইরে যাচ্ছে বাঙালি। আমি বলি, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের কত মানুষ কাজ করেন? তোমাদের রাজ্যে মেধা নেই বলে বাঙালিদের নিয়ে যাও।’’ নাম না করে দিলীপ ঘোষকেও নিশানা মমতার। তিনি বলেন, ‘‘আজ এখানে আসার আগে একটা ভিডিয়ো দেখছিলাম। ওদের একজন নেতা বলছে, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। এ বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়ি আক্রান্ত হবে। কালীঘাট আক্রান্ত হবে... আমি বলি বুকের পাটা থাকলে দেখা! লড়ে নেব। সব ক’টাকে লড়ে নেব। আমরা ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না। ঘাসের জন্ম দিই।’’
‘‘গত রাতে কী করলেন? মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ততাণ্ডব করছে। মধ্যরাতে...কখনও শুনেছেন? একটা দল কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপা রুস্তমের মতো গুপ্ত তাণ্ডব করছে। চিফ সেক্রেটারি বাঙালি মহিলা। ওরা ‘অ্যান্টি উইম্যান’। নিয়ম ছিল, স্টেট গভর্নমেন্টের কাছে লিস্ট চাওয়া হত। আমরা তিনটে করে নাম পাঠাতাম। তার পর ওঁরা সিলেক্ট করতেন।’’ তার পর নন্দিনী চক্রবর্তীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা সুয়োমোটো! এ যেন মগের মুলুক! যেন জমিদারি! যে দেশে প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে বলেন, ‘চুন চুনকে মারেঙ্গে’, তাঁকে করজোড়ে বলি, দেশকে আপনি কী করে রক্ষা করবেন? আপনার মুখে এ সব শোভা পায় না।’’ ফের মমতা বলেন, ‘‘(রাজ্যের) ডিজি কে ছিলেন? পীযূষ পাণ্ডে। তাঁকেও এক কথায় বাদ। আপনারা শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিচ্ছেন। আসলে আপনারা বেছে বেছে দেখছেন, কারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে। কিন্তু যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন।’’
মমতা বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘‘আমি বাজে কথা বলি না। আজ মিছিলে প্রমাণ হয়ে গেছে, যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। বাংলার ইলেকশন শান্তিপূর্ণ ভাবে করে দিন। কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। তার পর দিল্লিটা আমরা বুঝে নেব। আমরা কেউ দুর্বল নই। চার বছর ধরে তো টাকাই দেন না। তার পরেও মানুষের জন্য স্কিম বেড়েছে। আরও বাড়বে। বিশ্বাস, ভরসা, আস্থা রাখুন।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘এই মিছিল ইলেকশনের আগেই ঠিক করা ছিল। কারণ, গ্যাসের দাম যে ভাবে বেড়েছে সে জন্য এই কর্মসূচি নিয়েছি। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে কেন্দ্র। আমি গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে মিটিং করে জেনেছি, সঙ্কট নেই। আমরা বলছি সার্ভার ওপেন করুন। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই। গ্যাস দিন মানুষকে।’’
ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছোল মমতার মিছিল। মঞ্চে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে রয়েছেন বিরবাহা হাঁসদা, সায়নী ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না দাস প্রমুখ।
মিছিল শুরু হয়েছে কলেজ স্কোয়্যার থেকে। নেতৃত্বে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনের দিকে রয়েছে তৃণমূলের ‘মহিলা ব্রিগেড’। মাথায় প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অনেকে মিছিলে রয়েছেন।
সোমবার কলকাতার কলেজ স্কোয়্যার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করছেন মুখ্যমন্ত্রী। রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাঁর এই কর্মসূচি। গত সপ্তাহেই এসআইআর ইস্যুতে টানা পাঁচ দিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি করেছেন তিনি।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরের দিনই আবার রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক কর্মসূচি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও এই কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত। তবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরের দিন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষস্তরের আমলা থেকে পুলিশ আধিকারিকদের বদলি হয়েছে।