ভবানীপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
অবাধ ভোটের নামে দিনভর অত্যাচার চলেছে। বুধবার বিকেল ৪টের পর ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই অভিযোগ করলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে মহিলা এবং শিশুদের। নির্বাচন কমিশনের নাম না-করে মমতা অভিযোগ তোলেন, ‘‘ইজ় ইট ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (এটা কি অবাধ শন্তিপূর্ণ নির্বাচন)?’’ তাঁর কথায়, ‘‘জীবনে এমন দেখিনি। তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’’
ভোট দিতে এসে কলকাতার একাধিক থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘নদিয়ার বিভিন্ন এলাকা, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পুরো ক্যানিংয়ে অত্যাচার চালানো হয়েছে। কাল (মঙ্গলবার) রাত থেকে অত্যাচার চলছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কাল রাত থেকে আমাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এমন গণতন্ত্র কোথাও দেখিনি।’’ নিজের বুথের দিকে দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘‘দেখুন এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও রাজ্য পুলিশ নেই। বাহিনী দখল করে রেখেছে। ওদের উচিত সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া। দুঃখিত, আমি জীবনে এমন ভোট দেখিনি। আমার পাড়ায় ঢুকে মেয়েদের মেরেছে। অনেক জায়গায় এজেন্ট, প্রার্থীদের বার করে দেওয়া হচ্ছে।’’ তবে জেতার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। ‘ভিক্ট্রি’ (ভি) চিহ্ন দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন মমতা।
বুধবার, ভোটের দিন সকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন মমতা। প্রথমেই তিনি পৌঁছে যান চেতলায়। সেখানে গিয়ে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলেন। তার পরে বলেন, ‘‘আমি আজ (বুধবার) সারা দিন রাস্তায় থাকব। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নয়, তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে।’’ সকাল থেকেই দফায় দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা। তিনি এ-ও জানান, মঙ্গলবার সারা রাত জেগে পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটে সকলের নজরই রয়েছে ভবানীপুরের দিকে। এই কেন্দ্রে লড়াই মমতা বনাম শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। শুভেন্দুও সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়েছিলেন। ঘুরেছেন ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথে। তবে ভোটের দিন মমতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে বুথ পরিদর্শন করাটা অনেকের কাছেই ‘বেনজির’। চেতলা থেকে তিনি সোজা চলে যান চক্রবেড়িয়ায়। সেখানে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানকার এক বুথের বাইরে বেশ কিছু ক্ষণ বসে ছিলেন। কথা বলেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। ওই বুথ ছাড়ার আগে তিনি অভিযোগ করেন, জেলায় জেলায় তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মমতা বলেন, ‘‘আমরা সকলে চাই নির্বিঘ্নে ভোট মিটুক। তবে বাইরে থেকে অনেক পুলিশ অফিসার নিয়ে এসেছে। তারা বাংলাকে বোঝে না। গতকাল রাতে সারা বাংলা জুড়ে অত্যাচার করেছে।’’ ভোট দিতে এসে সেই একই অভিযোগ করেন মমতা। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি কালীঘাট মন্দিরে যান।