—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
‘সাপ্লিমেন্টারি’ ভোটার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া প্রধান অঞ্চলে। অভিযোগ, বিশেষত বাগদা বিধানসভা এলাকায় বিপুল সংখ্যক ‘বিবেচনাধীন’ মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সে সূত্রে চলছেরাজনৈতিক তরজা।
বাগদার মণ্ডপঘাটা গ্রামের ১২৭ নম্বর পার্টে ৪৭ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। সকলের নামই বাদ। স্থানীয় বাসিন্দা আশুতোষ বিশ্বাস মতুয়া সম্প্রদায়ের। বললেন, ‘‘ভোটার তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে। বার্ধক্যভাতা পাই। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সেটা মনে হয়, আর পাব না।’’ একই গ্রামের বাসিন্দা মতি সাধক জানালেন, পরিবারের পাঁচ জনের নাম আগেই বাদ গিয়েছিল। এ বার তাঁর নামও বাদ পড়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকায় বাগদা বিধানসভা থেকে ১৯৯৩, গাইঘাটায় ২২৪০, বনগাঁ উত্তরে ২৬৪ এবং বনগাঁ দক্ষিণ থেকে ৬৬ জনের নাম বাদ গিয়েছে। গড়ে এঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ মতুয়া উদ্বাস্তু। এর আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাগদা এলাকায় ১৫,৩০৩ জনের নাম বাদ পড়েছিল। প্রায় ১৩ হাজারের বেশি নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যাচ্ছে, ‘বিবেচনাধীন’ তালিকার বড় অংশের নাম নেই।
পুরাতন হেলেঞ্চার ১৩৩ নম্বর বুথেও একই ছবি। সেখানে আগে ৪২ জনের নাম বাদ পড়েছিল, ‘বিচারাধীন’ ৪৩ জনের মধ্যে ৪২ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। স্থানীয় অম্বিক বিশ্বাসের ক্ষোভ, ‘‘আমার বাবা-মা-ঠাকুমা সকলে ২০০২ সাল থেকে ভোট দেন। এখানে জন্মেছি, পড়াশোনা করেছি। ভাই চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে। দেখছি, আমাদের নাম বাদ।’’ তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘বিজেপি চক্রান্ত করে মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।’’ গাইঘাটার বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা একটি পক্ষের মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান সুব্রত ঠাকুরের প্রতিক্রিয়া, ‘‘মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম ভোটার তালিকায় উঠবে। এ বিষয়ে আমরা যাবতীয় পদক্ষেপ করেছি।’’ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে