West Bengal Elections 2026

বিপুল গ্রেফতারিই কি কমাল ভোট-হিংসা

ভোটের আগে অতীত ইতিহাস দেখে গোলমাল পাকাতে পারে এমন দুষ্কৃতীদের হেফাজতে নেওয়াই বরাবরের রীতি। বিগত ভোটগুলির আগে সেই কাজ হলেও, অশান্তি-অপরাধ, ভোটে বাধাদান ইত্যাদি কিছুই ঠেকাতে পারেনি কমিশন।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

ভোটের আগে বিপুল গ্রেফতারি এবং রাজ্য প্রশাসন-পুলিশের একটা বড় অংশের সক্রিয় ভূমিকাই কি বদলে দিল চিরাচরিত ভোট-ছবি— চর্চা প্রশাসনিক মহলে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, চলতি বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার আগেই প্রায় দু’হাজার দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কমিশন সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্টরাই অতীতের ভোটগুলিতে এলাকায় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখত। অশান্তি পাকিয়ে বিভিন্ন চিহ্নিত এলাকায় আটকে দেওয়া হত ভোটারদের। গ্রেফতারি এবং সেই আতঙ্কে দুষ্কৃতীদের নিষ্ক্রিয় হওয়া স্বস্তি দিয়েছে ভোটার, প্রশাসন এবং কমিশনকে। তাদেরই তথ্য—প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটে সুনির্দিষ্ট ধারায় সব মিলিয়ে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অতীতের ভোটগুলি এতগুলি বিধানসভা কেন্দ্রের নিরিখে এই সংখ্যা নেহাতই কম।

ভোটের আগে অতীত ইতিহাস দেখে গোলমাল পাকাতে পারে এমন দুষ্কৃতীদের হেফাজতে নেওয়াই বরাবরের রীতি। বিগত ভোটগুলির আগে সেই কাজ হলেও, অশান্তি-অপরাধ, ভোটে বাধাদান ইত্যাদি কিছুই ঠেকাতে পারেনি কমিশন। ফলে রাজ্যে কোনও ভোট হওয়া মানেই ভোটারদের ভয় দেখানো-ভোট দেওয়া আটকানো-অশান্তি-মারধর-রক্তপাত-প্রাণহানির ঘটনা হয়ে উঠেছিল পরিচিত ছবি। তবে এ বার অনেক আগে থেকে আটক-গ্রেফতারির পদক্ষেপ শুরু করে পুলিশ। এমনকি, মৌখিক হুমকিতেও জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে। সেই মতো পদক্ষেপ করে অন্তত দু’হাজার এমন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তারা। বৃহস্পতিবার ভোটের দিনেও ৫৭০ জনকে সতর্কতামূলক গ্রেফতার করা হয়। ভোটের দিন রাজ্য পুলিশও যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকায় ছিল। ফলে গোটা দিনের ভোটে বিক্ষিপ্ত দু’একটি ছাড়া বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। এলাকায় ভোটারদের আটকানো-ভয় দেখানোর খবরও পাওয়া যায়নি। তাই বেশ কয়েক হাজার গ্রেফতারি এবং পুলিশের ভূমিকা এই ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে চর্চা প্রশাসনের অন্দরে। ঘটনাচক্রে, শুক্রবার জনসভায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহের গলাতেও।

ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনের করণীয় নিয়মিত ভাবে ঠিক করে দিতে থাকে কমিশন। মুখ্যসচিব সেই নির্দেশ পেয়ে নিয়মিত জেলা-কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সেই মতো পদক্ষেপ করার বার্তা দিতে থাকেন। জেলা-কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, কমিশনের বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে এত বার মুখ্যসচিব তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, যা অতীতে দেখা যায়নি। এর সঙ্গে পুলিশের উচ্চ, মধ্য এবং নিচুতলায় বিপুল রদবদলকরা হয়।

জেলাশাসক-পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমান্ড্যান্টরা উপদ্রুত এলাকাগুলিতে সশরীরে গিয়ে সেখানকার ভোটারদের ভয় কাটিয়ে আস্থা বাড়াতে আশ্বাস দিতে থাকেন নিয়মিত। সঙ্গে চলতে থাকে দুষ্কৃতীরা গোলমাল পাকাতে পারে এমন ব্যক্তিদের গ্রেফতারির কাজ।

২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে। কমিশন সূত্রের ইঙ্গিত, সেই ভোটে প্রথম দফার নিরাপত্তা-কৌশল বেশ কিছুটা বদলে যেতে পারে এলাকাগুলির ভৌগলিক অবস্থান, চরিত্র, অতীত ভোট-হিংসার প্রকৃতি অনুযায়ী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন