নরেন্দ্র মোদী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আলুর দাম না মেলার অভিযোগে পথে নেমেছেন চাষিরা। এ বার সে কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখেও। শনিবার বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশ থেকে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক আলুচাষির আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যে কৃষকদের দুরবস্থার অভিযোগ করেন। ঘটনাচক্রে, এ দিনই পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে আলুর দাম না মেলায় এক চাষির আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের কৃষি উপদেষ্টা তথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের যদিও দাবি, এখানে চাষিদের যত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, অন্য রাজ্যে তা হয় না।
মোদী এ দিন বলেন, ‘‘বাংলার চাষিদের অবস্থা কারও অজানা নয়। শুনেছি, দু’-তিন দিন আগেই চন্দ্রকোনায় এক আলুচাষি আত্মহত্যা করেছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে হুগলি, বর্ধমান পর্যন্ত চাষিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং সহায়ক মূল্যে ফসল কেনায় দুর্নীতিই তৃণমূলের সরকারের পরিচয়।’’
সম্প্রতি চন্দ্রকোনার রাঙামাটি গ্রামের যুবক রাখাল আড়ির (৩১) মৃত্যু হয় কীটনাশক পান করে। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। বাজারে দাম না পাওয়ার অবসাদে আত্মঘাতী হন। তাঁর মৃত্যুর পরে, পরিবারকে অর্থ সাহায্য করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। পূর্ব বর্ধমানের গলসির রামনগর গ্রামের বুলবুল মণ্ডলের (৩৬) ঝুলন্ত দেহ মেলে শুক্রবার বিকেলে। তাঁর পরিবারেরও অভিযোগ, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে ও ঋণ নিয়ে আলু ফলিয়েছেন তিনি। সামনে বোনের বিয়ে। এখন আলুর দাম না পেয়ে, অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছেন।
চলতি বছরে আলু উৎপাদনে সহায়ক ছিল ভাল আবহাওয়া। যে সব রাজ্যে আলু উৎপাদন হয়, সব জায়গাতেই আলুর উৎপাদন এ বার ভাল হয়েছে। ফলে, আশঙ্কা রয়েছে আলুর দাম কমার। অভাবী বিক্রি রোখার সূত্রে এবং বিধানসভা ভোটের আগে কেজি প্রতি সাড়ে ন’টাকা দরে সাড়ে ১২ লক্ষ টন আলু কেনার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রতি কেজিতে পঞ্চাশ পয়সা বেশি। কিন্তু নানা জটিলতায় সে প্রক্রিয়া থমকে ছিল। মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, “হিমঘর মালিকদের কিছুটা অনীহা ছিল। তা কেটে গিয়েছে। সোমবার (কাল) থেকেই আলু কেনা গতি পাবে।”
মোদীর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের কাটমানি, কমিশন ও দুর্নীতির জন্য চাষিদের জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে।’’ রাজ্যের মন্ত্রীর পাল্টা দাবি, ‘‘এ রাজ্যে এক কোটি কৃষক বছরে দু’বার সরকারি সাহায্য পান। নিখরচায় শস্যবিমা পান। খেতমজুরদের সাহায্যেও প্রকল্প হয়েছে। অন্য রাজ্যে এ সব হয় না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে