— প্রতীকী চিত্র।
হাওড়ার পাঁচলা কেন্দ্রের বাদ পড়া ভোটার, পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম তাঁর ভোটার কার্ড, নির্বাচন কমিশনের তালিকায় প্রদত্ত অভিনব বানানে নাম ও পরিচয় বুকে ঝুলিয়ে ঘুরছিলেন কলকাতা পুরসভার পিছনে ধর্মতলা চত্বরে। পরনের সাদা টি-শার্টে লেখা, ‘আমরা সবাই ভোটার’। বুকে ঝোলানো ভোটার কার্ড ইত্যাদির সঙ্গে রয়েছে বার্তা। তাতে বলা হয়েছে, বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র বানান ভুলের কারণে তাঁর ‘ডিলিটেড’ বা মুছে যাওয়ার প্রতিবাদে হয় এসআইআর বাতিল করা হোক, নইলে রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করুন। ফরিদুল একা নন, আরামবাগের আরও ছ’জন ভোটারও স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে পার্ক সার্কাসের ধর্না মঞ্চ থেকে বাদ পড়া ভোটারদের সঙ্গে অন্য প্রতিবাদীরা মিছিল করে ধর্মতলায় আসেন। ফরিদুল বলছিলেন, “আমার ভাল নাম সেখ ফরিদুল ইসলাম। কমিশনের তৈরি বাংলা বানানে তা হয়েছে, ‘স্ক ফ রিদুল ইসলাম’! তালিকায় কখনও আমার মাকে বাবা, বাবাকে মা করে দিয়েছে কমিশন। আমার বাবা সেখ সাইফুল ইসলামকে আমার মা পরিচয় দিয়ে লেখা হয়, ‘স্ক শ্যেফুল ইসলাম’। কমিশন নিজেই খুশি মতো বানান ওলটপালট করবে, তার পরে জবরদস্তি নাম বাদ দেবে, এটা কিসের বিচার হল।”
শহরের নানা প্রান্তে এখন বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকায় তুলতে ট্রাইবুনালে আবেদনের ধুম লেগেছে। মেটিয়াবুরুজের কিলখানায় মেটিয়াবুরুজ সোশ্যাল নেটওয়ার্কের দফতরে শিবির বসিয়ে ট্রাইবুনালে অনলাইন আবেদনে সাহায্য করা চলছে। বন্দর এলাকায় সংগ্রামী গণমঞ্চও একই কাজ করে চলেছে। তাদের তরফে আহ্বায়ক কুশল দেবনাথ বলেন, “ভয়ানক অনৈতিক ভোটের পরেও ভোটারদের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে।”
সবর ইনস্টিটিউটের মতো সামাজিক ন্যায় সংক্রান্ত সংস্থাও বাদ পড়া ভোটারদের জন্য একবালপুরের অফিস থেকে এবং উত্তরবঙ্গে আইনি শিবির চালাচ্ছে। বাংলায় ভোটারদের সহায়তায় ট্রাইবুনালে আবেদনের নির্দেশিকা প্রকাশেরও তোড়জোড় চলছে। এনইউজেএসে আইনি উপদেষ্টা সরফরাজ আহমেদ, বেঙ্গালুরুর এনএলএসআইইউয়ের অধ্যাপক দর্শনা মিত্র, হাই কোর্টের আইনজীবী তারিক কোয়াসিমুদ্দিন এবং সবরের অধিকর্তা সাবির আহমেদ উদ্যোগটির শরিক।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে