—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দুই ২৪ পরগনার ডিসিআরসি কেন্দ্রগুলিতে ভোটের সামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে কর্মীদের বুথে পাঠানো— সব কিছুই চলল নির্ধারিত পরিকল্পনা মেনে। যদিও কোথাও কোথাও অব্যবস্থার অভিযোগও উঠেছে।
বনগাঁ মহকুমার তিনটি ডিসিআরসি-র মধ্যে একটি করা হয়েছে বনগাঁ দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকর্মীদের ভিড়ে সরগরম চত্বর। কলেজের সামনের মাঠে অনুসন্ধান অফিস, বড় ফ্লেক্সে নির্দেশিকা, আর ছাউনি দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পিছনেরদালানের সামনে একাধিক কাউন্টার থেকে ইভিএম, ব্যালট ইউনিট, ভিভিপ্যাট-সহ সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেগুলি মিলিয়ে নিয়ে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে গাড়িতে করে বুথের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন ভোটকর্মীরা। ক্যান্টিনের ব্যবস্থাওরাখা হয়েছে, যদিও ভিড় ও গরমে কিছুটা অসুবিধার কথা জানিয়েছেন অনেকে।
বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালিও হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় মঙ্গলবার থেকেই পৌঁছতে শুরু করেছেন ভোটকর্মীরা। স্ট্রং রুম থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে ধাপে ধাপে বুথে পাঠানো হচ্ছে। নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকায় পৌঁছতে জলপথে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট বাক্স ও সরঞ্জাম। কড়া নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোট ৩০টি ডিসিআরসি খোলা হয়েছে। ক্যানিং পশ্চিমে ২৮৮টি বুথের ভোটকর্মীরা ডিসিআরসি থেকে সামগ্রী নিয়ে রওনা দিয়েছেন, যেখানে রয়েছে ৬০টি মহিলা বুথ ও একটি মডেল বুথ। বাসন্তীর নারায়ণতলা রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরে ২৫১টি বুথের মধ্যে ৫টি মহিলা পরিচালিত। গোসাবার ২৬০টি বুথের মধ্যে ৪২টি মহিলা বুথ রাখা হয়েছে।
ভাঙড়ে ঘটকপুকুর হাই স্কুলের ডিসিআরসি-তে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিহার থেকে আসাভোটকর্মী সিএইচ সুধাকর। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ তাঁকে শ্রেণিকক্ষে ফেলেরাখা হয় এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত সহকর্মীরাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিসিআরসি-র ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ দিন সেখানে পরিদর্শনে এসেকলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ ভোটের প্রস্তুতি খতিয়েদেখেন। ‘বাইক বাহিনী’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি জানান, অকারণে বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হবে।
পুুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মদ ও নগদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ভাঙড়ে নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকছে ২০ কোম্পানিরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী, সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিম ও ফ্লাইং স্কোয়াড। ভাঙড়ের ৩০৪টি বুথে দায়িত্বে থাকছেন ১২১৬ জন কর্মী।
প্রশাসনের দাবি, সব কেন্দ্র থেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটকর্মীরা ভোটের সামগ্রী নিয়ে বুথে পৌঁছে গিয়েছেন। সার্বিক ভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ প্রশাসনের তরফে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে