প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল মা-মাটি-মানুষ সকলকে ধোঁকা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের মুখে মা-মাটি-মানুষ শব্দও বার হচ্ছে না। কারণ এরা মাকে কাঁদিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী এবং সিন্ডিকেটের হাতে মাটিকে তুলে দিয়েছে আর মানুষের উপর হিংসা, অত্যাচারের তলোয়ার ঝুলিয়ে রেখেছে।’’
হরিপালের সভা থেকে মোদী মহিলাদের জন্য কিছু ‘গ্যারান্টি’র কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘মহিলারা প্রতি বছর যাতে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করতে পারেন সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ৭৫ লক্ষ মহিলাকে সুবিধা দেওয়া হবে। ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ব্যাঙ্ককে গ্যারান্টি দেবে আপনাদের ভাই মোদী।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হুগলি নদীর এপারের এলাকায় ছিল কারখানা। আজ সেখানে তালা পড়ার নোটিস আসে। গত ১৫ বছরে অনেক পাটকল বন্ধ হয়েছে। একটা কারখানাই চলছে, তা হল সিন্ডিকেটের কাটমানি, কমিশন আদায়।’’ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প তৈরির আশ্বাস দিলেন। তিনি বলেন, ‘‘সিঙ্গুরে কৃষকদের জমি নষ্ট করেছে তৃণমূল। আর কাউকে কাজও দেয়নি। আলুচাষিদের সঙ্গে সিন্ডিকেট বড় খেলা খেলেছে। এই সিন্ডিকেট কৃষকদের থেকে দু’তিন টাকা কিলোয় আলু কিনে পরে ৩০-৩৫ টাকা কিলোয় বিক্রি করছে।’’
মোদীর কথায়, ‘‘কৃষকদের কল্যাণে নজর দেয় বিজেপি সরকার। পাটের এমএসপি (ন্যূনতম সহায়ক মূল্য) দ্বিগুণ করেছে। পাটের প্যাকিং অনির্বায করেছে। তার ব্যবহার বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছে।’’ মোদীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে কারখানা চলতেই দেয় না তৃণমূল।
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল আমলে সবচেয়ে বড় ধোঁকা হয়েছে মা-বোনেদের সঙ্গে। তাই মা-বোনেদের মধ্যে রাগ ভরপুর। সন্দেশখালিতে কী হয়েছে মনে আছে তো! এটা কখনও ভুলবেন না। সন্দেশখালি থেকে মেয়েরা গায়েব হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারের কোনও হেলদোল ছিল না। তবে চিন্তা নেই। ৪ মে-র পর বিজেপি সরকার সব কিছুর হিসাব করবে। মা-বোনেরা, আর অত্যাচারীদের সহ্য নয়। বিজেপি মা-বোনেদের সুরক্ষাও দেয়, সম্মানও করে। আমরা সন্দেশখালিতে অত্যাচারিত এক মহিলাকে টিকিট দিয়েছি, আরজি করের নির্যাতিতার মা-কেও টিকিট দিয়েছে বিজেপি।’’
মোদী বলেন, ‘‘নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বান মনে রাখবেন। তিনি বলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। দেশের মানুষ সব উজার করে দেন। আপনারা আমাদের একটা ভোট দিন, আশীর্বাদ দিন, আমরা তৃণমূল থেকে মুক্তি দেব। জঙ্গলরাজ, ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশকারী থেকে মুক্তি দেব।’’
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করছিল। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এই কাজ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতি বলেও মেনেছে আদালত।’’ মোদীর দাবি, সম্প্রতি কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে সব কিছুতে ‘জোর থাপ্পর’ খেয়েছে তৃণমূল।
মোদী বলেন, ‘‘সব জায়গায় রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত নির্বাচন পরিচালনা করে। সুরক্ষার দায়িত্ব তাদেরই থাকে। কিন্তু ২০২৩ সালে কী হল দেখেছেন তো? আদালতের মনে হয়েছিল, সরকার সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে পারবে না। তাই আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল।’’ মোদীর মুখে বগটুই, আরজি করের ঘটনা। তিনি বলেন, ‘‘এখন সরকার কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তেও বাধার সৃষ্টি করে।’’
হরিপালের সভা থেকে রাজ্যের শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের মন্ত্রী হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছেন। সংবেদনশীল সরকার হলে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করত। কিন্তু আদালতকে এখানে তদন্তের নির্দেশ দিতে হয়েছে। তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য।’’
হরিপালের সভা থেকে মোদী বলেন, ‘‘নবান্ন থেকে সরকার চলে না। হয় এই সরকার চালায় তৃণমূলের গুন্ডা-মস্তানেরা, নয়তো হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সরকার সোজা হয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার এখানে তাদের কুকর্মের কারণে মানুষের ভরসা হারিয়ে ফেলেছে। এই জন্য লোক প্রায়ই আদালতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।’’
মোদী বলেন, ‘‘আমি আগেই বলেছিলাম ভোটদানের হারের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। সেটাই হল ২৩ তারিখ। ২৯ তারিখ সেই রেকর্ডও ভাঙতে হবে।’’
‘জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা’ বলে বক্তৃতা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই রাজা রামমোহন রায়, রামকৃষ্ণদেব-সহ বাংলার মণীষীদের কথা স্মরণ করলেন তিনি।
হরিপালের সভাস্থলে পৌঁছোলেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানালেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।