(বাঁ দিকে) রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে ধুয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সঙ্গে জাতীয় স্তরের বিরোধী রাজনীতিতেও কংগ্রেসের প্রতিস্পর্ধী হওয়ার যে প্রক্রিয়া গত দু’বছর ধরে চালাচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল, তা মুখ থুবড়ে পড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে ফল প্রকাশের পর রাহুল গান্ধীই আজ মমতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পরে রাহুল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে বিজেপির ভোটচুরির প্রমাণ স্পষ্ট।
মমতা সন্ধ্যায় অভিযোগ তোলেন ১০০টি আসন চুরি করেছে। রাহুল বলেছেন, “আমরা এই বিষয়ে মমতাজির সঙ্গে একমত। এই আসন চুরির খেলা আমরা আগেও মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোট ও ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে দেখেছি।” কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, মমতা এত দিন রাহুলকে দোষ দিতেন। এ বার তিনি বুঝতে পারলেন তাঁকে কীসের সঙ্গে লড়তে হয়!
ঘটনা হল, চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর থেকে অকংগ্রেসি বিরোধী দলগুলির স্বতন্ত্র মঞ্চ তৈরিতে সক্রিয় ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এসপি, আরজেডি, আপ, জেএমএম, উদ্ধবপন্থী শিবসেনার মতো দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে তুলনামূলক ভাবে লোকসভায় অনেক বেশি আসন পাওয়া তৃণমূল, সমান্তরাল রাজনীতি তৈরি করতে চাইছিল। রাজনৈতিক ভাষায় যাকে ডাকা হত ‘জিঞ্জার গোষ্ঠী’ বলে। সংসদে কক্ষ সমন্বয়ের জন্য কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকও এড়িয়ে যেতেন তৃণমূল নেতারা। ছাব্বিশের ভোটের আগে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে জয়ের পর দিল্লিরলক্ষ্যে ঝাঁপাব।’
বাংলায় প্রচারে গিয়ে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেনরা ঘরোয়া ভাবে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন। আগাম স্থির হয়, শপথ নেওয়ার পরই লখনউয়ের মতো কোনও শহরে (যা দিল্লির বাইরে অর্থাৎ কংগ্রেসের ছাপ মার্কা নয়) বিরোধী দলের সমাবেশ করা হবে। সেখানে কংগ্রেসকে ‘আমন্ত্রণ’ জানানো হবে। এসপি নেতা অখিলেশ যাদব অবশ্য নিজের রাজ্য ছেড়ে বাংলায় পা বাড়াননি। তিনি সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপক্ষে বেশ কিছু পোস্ট করেন। এ দিনও লেখেন, ‘ছলনাময় বিজয় বেশিদিন টেকে না।। এটাই সত্যের মূল ভিত্তি।’
এই ভোটের পর বিরোধী দলে কংগ্রেসেরই একচ্ছত্র আধিপত্য (কারণ তামিলনাড়ুতে শরিক দল ডিএমকে-র পরাজয়) আবারও প্রতিষ্ঠিত হল। মমতা যদি এ বারেও বিজেপি-কে হারিয়ে চতুর্থ মন্ত্রিসভা গড়তেন, তাঁকে বিজেপি-বিরোধী প্রধান শক্তি হিসেবে কার্যত মেনে নিতেই হত রাহুল গান্ধীদের। অন্য আঞ্চলিক দলগুলিও মমতাকে বিরোধী ‘মুখ’ করার জন্য চাপ বাড়াতেন কংগ্রেসের উপর। সেই মঞ্চ প্রস্তুতও হচ্ছিল। এনসি-র ওমর আবদুল্লা, এমনকি শরদ পওয়ারের মতো প্রবীণ নেতারাও এই দাবি কোনও না কোনও ভাবে তুলে কংগ্রেসকে বার্তা দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের কথা গত কালও তুলেছিল তৃণমূল। বলা হয়েছিল, মোদী, অমিত শাহের মতো বাইরের নেতাদের বাংলায় আসতে হচ্ছে, বিজেপির কোনও বাঙালি নেতা নেই। ফলে দিল্লির নেতারা বাঙালি সত্তাকে কতটা কাছে টানতে পারেন তার অগ্নিপরীক্ষা এই ভোট। সেই পরীক্ষায় সসম্মানে পাশ করে গেল ‘হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্তানি’ নীতিতে চলা বিজেপি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে