West Bengal Elections 2026

‘দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে’, প্রার্থীকে নিয়ে পথে-প্রচারে সঙ্ঘ

জলপাইগুড়ি বিধানসভা তথা পুর-এলাকার বৃহত্তম পাইকারি, খুচরো, ও বস্ত্র বাজার বলে পরিচিত দিনবাজারে প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সঙ্ঘ কেন প্রচার করল সে প্রশ্ন উঠেছে।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:২৯
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

প্রকাশ্যে বিজেপি প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট চাইল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার পরে জলপাইগুড়ির দিনবাজারে বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট-প্রচার করেছেন সঙ্ঘের কার্যকর্তারা। সঙ্গে বিজেপির পতাকা ছিল না। প্রার্থী ছাড়া, বিজেপিরকোনও কর্মী বা নেতাকেও সঙ্গে নেওয়া হয়নি।

জলপাইগুড়ি বিধানসভা তথা পুর-এলাকার বৃহত্তম পাইকারি, খুচরো, ও বস্ত্র বাজার বলে পরিচিত দিনবাজারে প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সঙ্ঘ কেন প্রচার করল সে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, সোমবার সঙ্ঘের কার্যকর্তারা তাঁদের বলেছেন, “আমরা আরএসএস থেকে এসেছি। এ বারে অত্যাচারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। তাই ভোটচাইতে এসেছি।”

পিঠ ঠেকে যাওয়ার প্রসঙ্গ আসছে কেন? সঙ্ঘ সূত্রের দাবি, ওই এলাকায় তৃণমূলের নেতারা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশকে তাঁদের পক্ষে ভোট না দিলে বিপদে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। তারই পাল্টা হিসাবে এই প্রচার। যদিও সাংগঠনিক ভাবে বিজেপির তরফে তৃণমূলের মোকাবিলার পরিবর্তে সঙ্ঘকে কেন ভোট-প্রচারে নামতে হল, তারব্যাখ্যা মেলেনি।

অনন্তদেবের সঙ্গে প্রচারে ছিলেন আরএসএসের বিবিধ সংগঠনের কর্মকর্তারা। তাঁরা মুখ খোলেননি। তবে সঙ্ঘের এক প্রচারকের কথায়, “আমরা কোনও দলের কথা বলিনি। যে আগ্রাসী প্রচারে ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল, তার পাল্টা পথে নামতেই হত। ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি।”

বিজেপি সূত্রের দাবি, সরাসরি প্রার্থীর হয়ে প্রচার না করলেও প্রতি ভোটে তাদের সহায়তা করে সঙ্ঘ। নিজেদের মতো প্রচারও করে। জলপাইগুড়ির বেরুবাড়িতে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে অনুপ্রবেশের কুফল প্রসঙ্গে জোরদার প্রচার চালানো হয়েছে সঙ্ঘের তরফে। কিন্তু ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) সূত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাম বাদ পড়ার ক্ষোভ আরএসএস-কে স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। উপরন্তু, জলপাইগুড়ি সদরের তৃণমূল প্রার্থী তথা তৃণমূলের তফসিলি-জনজাতি সেলের জেলা চেয়ারম্যান কৃষ্ণ দাসের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রভাব এবং সংগঠন তাদের বাড়তি চাপে ফেলেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সঙ্ঘের সব শাখা সংগঠন প্রচার, সভা, ছোট বৈঠক করছে। বিদ্বজনদের নিয়ে সভা, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ‘ভোট দেওয়ার আগে এক বার ভাবুন’ শিরোনামে লিফলেট, পুস্তিকা বিলি করছে। এক ধাপ এগিয়ে সঙ্ঘের স্থানীয় নেতারা দিনবাজারে বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেবকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে দেখাতে চেয়েছেন, তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে।

জলপাইগুড়ি সদরের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের মন্তব্য, “বিভাজনের রাজনীতিই বিজেপির হাতিয়ার। তাই এটা হওয়ারই ছিল।” বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব পাল্টা বলেন, “সর্ব স্তরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক-শিক্ষামূলক সংগঠনের আশীর্বাদ চেয়েছি। তাদের মধ্যে একাধিক সংগঠন আমাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করেছে।আমি কৃতজ্ঞ।”

সঙ্ঘের প্রচারের সাক্ষী ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ‘‘প্রার্থীকে নিয়ে আরএসএস ভোট-প্রচার করছে এই প্রথম দেখলাম। এ বারের ভোটে কত কী যে দেখতে হবে!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন