সাবিনা ইয়াসমিন। — ফাইল চিত্র।
ভোরের আলো ঘরে ঢুকতেই চোখ গিয়েছিল টেবিলের দিকে। কাচে বাঁধানো ছোট্ট মেয়ের মুখ। ওই মুখটার দিকে চেয়েই তো এত কিছু। হাই কোর্টে দৌড়নো। পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে ধর্নায় বসা। শেষমেশ ভোটে দাঁড়ানো— অন্তত তাতে যদি সুবিচার আদায়ে কোনও সুবিধা হয়।
সাবিনা একটু থম মেরে থাকেন। কিন্তু হাতে বেশি সময় ছিল না। প্রথমেই নিজের ভোট দিতে হবে, তার পরে শুরু চরকিপাক। তড়িঘড়ি তৈরি হয়ে ঘর থেকে বেরোন গত বছর দুষ্কৃতীদের ছোড়া সকেট বোমায় নিহত দশ বছরের তামান্না শেখের মা, নদিয়ার কালীগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন।
সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ মোলান্দি গ্রামে ৩৫ নম্বর বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়ে গ্রামের ভোটারদের সঙ্গে একটু কথাবার্তা সারেন সাবিনা। ভোটকর্মীদের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা সেরে নেন। সময় নষ্ট না করে দলের স্থানীয় নেতা হকসাদ মণ্ডল, জিন্নাত আলি এবং তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাজ্য পুলিশের কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে বুথ ঘুরতে বেরোন তিনি।
বেলা ১০টা নাগাদ তাঁরা পৌঁছন বড় চাঁদঘরের আদর্শ বিদ্যাপীঠে। সেই চত্বরে থাকা পর পর তিনটি বুথে ঢুকে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন সাবিনা। বেরিয়ে এসে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের কাছে জানতে চান, কত ক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না। ছোট চাঁদঘরে বিভিন্ন বুথে প্রায় পাকা রাজনীতিকের মতোই তিনি কখনও কর্মীদের থেকে ভোটের গতিবিধি জেনেছেন, আবার কখনও হেঁটে যাওয়ার সময়ে কোনও শিশুকে দেখে হেসে জড়িয়ে ধরেছেন।
তৃণমূল বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর জেরে, গত বছর উপনির্বাচন হয়েছিল এই কেন্দ্রে। প্রয়াত বিধায়কের মেয়ে আলিফা আহমদকে প্রার্থী করেছিল দল। ভোট গণনার দিন তৃণমূল প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হতেই সিপিএম সমর্থক সাবিনাদের বাড়িতে হামলা হয়। বোমা লেগে বাড়ির উঠোনেই মারা যায় তামান্না। সেই আলিফা এ বারও তৃণমূলের প্রার্থী। সকাল পৌনে ৮টা নাগাদ মীরা গার্লস স্কুলে ভোট দিয়ে সাবিনার মতো তিনিও ভোট দেখতে বেরোন। সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী ও দলের কয়েক জন। বড় চাঁদঘর হয়ে হাটগাছা ছুঁয়ে তিনি চলে গোবরা ও বল্লভপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বুথে।
তামান্নার মৃত্যুর পরে এক বারও সাবিনার সঙ্গে দেখা করতে যাননি আলিফা। এ দিনও তাঁদের দেখা হয়নি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে