জ্ঞানেশ কুমার। — ফাইল চিত্র।
বাজেট অধিবেশন আপাতত মুলতুবি হল। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে বিরোধীদের একজোট হয়ে দেওয়া নোটিসটি নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই। গত ১২ মার্চ লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে ওই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আজক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্ব, যাঁরা ছিলেন এই নোটিসের প্রধান উদ্যোক্তা।
আজ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “একুশ দিন আগে আমরা নোটিস জমা দিই দু’টি কক্ষে। প্রয়োজনের চেয়ে ২৫ শতাংশ বাড়তি সাংসদের সই ছিল সেই নোটিসে। আমরা এর মধ্যে দু’বার বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলেছি। এক বার আমি আর এক বার কংগ্রেসের আইনজীবী সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। এ ছাড়াও আমরা স্পিকার এবং চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করি। কিন্তু তা সত্ত্বেওএই নিয়ে একটি বাক্যও আমাদের জানানো হয়নি।” পাশাপাশি, তিন জন বিচারপতি এবং এক জন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সংসদে আনা অপসারণ প্রস্তাবের উদাহরণ তুলে ধরে দলের পক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে, ওই সব ক্ষেত্রে সরকার ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কিছু না কিছু পদক্ষেপ করেছিল। এমনচূড়ান্ত উদাসীনতা দেখায়নি।
ঘটনা হল, এর পরে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে আরও তিন দিনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকা হলেও, সেখানে এই নোটিস নিয়ে যে কোনও অগ্রগতি হবে না, সেটা বুঝে গিয়েছেন বিরোধীরা। পশ্চিমবঙ্গে ভোট শুরু হয়ে যাচ্ছে ২৩ তারিখ। এক বার ভোট শুরু হয়ে গেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনকে সরানো নিয়ে আলোচনার বিষয়টিই সাময়িক ভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এত দিন পরেও এই নোটিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে? ডেরেকের কথায়, ‘‘গুজরাতের দুই মহান ব্যক্তি, এখন যাঁরা দিল্লিতে থাকেন, তাঁরা মরিয়া হয়ে গিয়েছেন। এসআইআর দিয়ে পিষে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বাংলার ভোটারদের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। নির্বাচিত একটি রাজ্য সরকারকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’’
কিছুটা অভূতপূর্ব ভাবেই বার বার তৃণমূলের সংসদীয় দলের দেখা করতে চাওয়ার আবেদন ‘সময়ের অভাব’-এর কারণ দর্শিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর সঙ্গে রাজ্যের জনজাতি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে কথা বলতে চেয়ে সময়ের আবেদন জানিয়ে রেখেছে তৃণমূল। কিন্তু সংসদীয় অধিবেশন মুলতুবি হয়ে গেলেও রাষ্ট্রপতি এখনও সময় না-দেওয়ায় আজ উষ্মা জানিয়েছেন ডেরেক।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে