West Bengal Elections 2026

মোদীর নামেই ভোট আসে? পরীক্ষা বঙ্গে

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে গত বছর ১৪ নভেম্বর নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে বলেছিলেন, ‘গঙ্গা বিহার হয়েই বাংলায় যায়’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৫২
Share:

স্থানীয় ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ফুটবলে মেতে প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার গ্যাংটকে। ছবি: পিটিআই।

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৪০টি আসনে আটকে যাওয়ার পরে হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদী সে ভাবে প্রচারেই যাননি। মহারাষ্ট্রে প্রচার করেছিলেন ঠিকই। কিন্তু হরিয়ানা বা মহারাষ্ট্রে দলের জয় নরেন্দ্র মোদীর কৃতিত্বে হয়েছে বলে বিজেপি দাবি করেনি। গত বছর দিল্লি বা তার পরে বিহারের ভোটেও নরেন্দ্র মোদীই বিজেপিকে বৈতরণী পার করিয়েছেন এমন নয়।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে গত বছর ১৪ নভেম্বর নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে বলেছিলেন, ‘গঙ্গা বিহার হয়েই বাংলায় যায়’। তাঁর দাবি ছিল, ‘বাংলায় বিজেপির জন্য জয়ের রাস্তা করে দিয়েছে বিহার।’ সেই ‘জয়ের রাস্তা’ নিশ্চিত করতে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নরেন্দ্র মোদী মোট ১৮টি জনসভা ও রোড-শো করেছেন। মোদীর পাশাপাশি অমিত শাহ ৬৬টি জনসভা ও রোড-শো করেছেন।

বিজেপি নেতারা মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে প্রধানমন্ত্রীকে কোনও বিধানসভা নির্বাচনে এত আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। বরঞ্চ গত কয়েক বছরে অনেক রাজ্যেই ‘মোদী ম্যাজিক’-এর বদলে রাজ্যভিত্তিক রণকৌশলে ভরসা করতে হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদী এখনও বিধানসভা নির্বাচনে ভোট টানতে পারেন কি না, পশ্চিমবঙ্গের ভোটে তার পরীক্ষা। অন্য দিকে অমিত শাহের কাছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন সম্মানের লড়াই। কারণ গত পাঁচ বছরে বিজেপির সেনাপতি হিসেবে তিনি ‘প্রচণ্ড বহুমত’-এ দলকে জিতিয়ে সরকারে আনার ঘোষণা করলেও, সে লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

এ বারের ভোটে শাহ বাংলায় টানা ঘাঁটি গেড়ে থেকেছেন। বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, একটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে মোদী-শাহ জুটি যে ৮৪টি জনসভা ও রোড-শো করেছেন, তা থেকেই স্পষ্ট পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জয়কে কতখানি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তাঁরা।

সোমবারই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পরেও অবশ্য মঙ্গলবার বাংলার ভোটারদের জন্য নরেন্দ্র মোদীর ‘রাজনৈতিক বার্তা’ থামেনি। সোমবার বাংলার প্রচারের শেষে নরেন্দ্র মোদী কলকাতা ছাড়ার আগে বলেছিলেন, তিনি বিজেপি সরকারের শপথে ফিরবেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সিকিমে কর্মসূচি ছিল। সিকিম রাজ্যের ৫০তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানের আগে তিনি সকালে গ্যাংটকে কচিকাঁচাদের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে নেমে পড়েন। এক খুদে গোলকিপারকে টপকে বল জালে জড়িয়ে দিয়ে সেই ছবি এক্স-হ্যান্ডলে তুলে দিয়েছেন। বিজেপি সূত্রের খবর, বাঙালির ফুটবল-প্রেমের কথা মাথায় রেখেই গ্যাংটকে নরেন্দ্র মোদীর ফুটবল নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরেন্দ্র মোদী ছিলেন তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে। সেখানে মহিলা সম্মেলনে তিনি আবারও লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণের জন্য লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল রুখে দেওয়ায় কংগ্রেস, ডিএমকে এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে দুষেছেন। দাবি করেছেন, তিনি মহিলা সংরক্ষণ করাবেনই। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে ধাক্কা দিতে চেয়ে মোদী বারবার তৃণমূলকে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী বলে নিশানা করেছেন। বুধবার বাংলার দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের আগের সন্ধ্যাতেও তিনি একই আক্রমণ চালিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, নির্বাচনী প্রচার শেষ। নরেন্দ্র মোদী এ বার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে ২০২৩-এর মহিলা সংরক্ষণ আইন বর্তমানের ৫৪৩ আসনের লোকসভাতেই কী ভাবে কার্যকর করা যায়, তার চেষ্টা শুরু করুন। বিরোধীরা কখনও মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করেনি। তারা শুধু লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করেছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন