মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
এক মাসেরও কম বাকি রয়েছে প্রথম দফা নির্বাচনের। তার আগে বিধানসভাভিত্তিক নির্বাচন কমিটি গড়ে দিল শাসকদল তৃণমূল। রবিবার একাধিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে। যেখানে জেলাভিত্তিক বিধানসভার ইলেকশন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, বিভিন্ন জেলায় থাকা বিধানসভায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকলহ সামাল দিতেই কি এমন উদ্যোগ? যদিও গোষ্ঠীকলহ রুখতে এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। এর আগেও বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট কমিটি ঘোষণা করেছে তৃণমূল।
বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নির্বাচন কমিটি তৈরি হয়েছে ২৯ জন নেতাকে নিয়ে। ছাতনা বিধানসভা এলাকার নির্বাচন কমিটিতে রয়েছেন ২০ জন নেতা। একই ভাবে রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে ৩৬, রায়পুর বিধানসভার কমিটিতে ২৯, বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ব্লক ও টাউন মিলিয়ে কমিটিতে ৬০ জন সদস্য রয়েছেন। বিষ্ণুপুর লোকসভার অধীন বড়জোড়া বিধানসভার কমিটিতে ৩২, কোতুলপুরের কমিটিতে ২৮, সোনামুখী বিধানসভার কমিটিতে টাউন ও ব্লক কমিটি মিলিয়ে ২৬ জন রয়েছেন। বীরভূমের সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে ১৭, বোলপুর কেন্দ্রের কমিটিতে ১১, লাভপুর কেন্দ্রের কমিটিতে ৯, ময়ূরেশ্বরের দু’টি ব্লক মিলিয়ে কমিটিতে ৪৬, রামপুরহাটের কমিটিতে ৫২ জন নেতা রয়েছেন। নলহটিততে ৮ জন সদস্য রয়েছেন।
রানাঘাট লোকসভার অধীনে নবদ্বীপ বিধানসভার কমিটিতে ১৬, শান্তিপুর বিধানসভার জন্য ১৯, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের কমিটিতে ৯, কৃষ্ণগঞ্জের কমিটিতে ৩১, রানাঘাট উত্তর-পূর্বের কমিটিতে ৫৫, রানাঘাট দক্ষিণের কমিটিতে ১১, চাকদহের কমিটিতে ১৬, কল্যাণীর কমিটিতে ১৩ জনকে রাখা হয়েছে এবং হরিণঘাটায় ১৬ জন রয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৩, বারাসাত বিধানসভার কমিটিতে ২১, নৈহাটির কমিটিতে ১৭, ভাটপাড়ার কমিটিতে ১৮, জগদ্দলের কমিটিতে ২৪, নোয়াপাড়া কমিটিতে ২০, ব্যারাকপুরের কমিটিতে ১৮, খড়দহের কমিটিতে ৩৯, পানিহাটিতে ২৭ জন রয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি কমিটিতে ২১, নারায়ণগড়ের কমিটিতে ২৫, মেদিনীপুর বিধানসভার কমিটিতে ২৭ জন রয়েছেন।
হাওড়া জেলা সাঁকরাইল বিধানসভার কমিটিতে ১০, উলুবেড়িয়া পূর্বকেন্দ্রের জন্য ৩০, উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের কমিটিতে ২২ এবং শ্যামপুর কেন্দ্রের কমিটিতে ২১ জন রয়েছেন। এছাড়াও আমতার কমিটিতে রয়েছেন ১৪ জন নেতা। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে রয়েছেন ১৭, গাইঘাটা বিধানসভার কমিটিতে ১৪, স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটিতে ২৬ নেতাকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। এত বেশি সংখ্যায় নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের অবশ্য ভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূল রাজ্য সংগঠনের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। গোষ্ঠীকলহের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে আড়াইশো থেকে ৩০০ বুথ রয়েছে। প্রত্যেকটি বুথেই আমাদের ১৫ জন করে বুথ স্তরের কমিটির সহকর্মী রয়েছেন। অর্থাৎ ৩০০ বুথ যদি ধরে নেওয়া যায়, তা হলে প্রায় এক একটি বিধানসভায় সাড়ে চার হাজার করে কর্মী ভোটপ্রক্রিয়া পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়াও আমাদের অঞ্চল কমিটি, ব্লক কমিটি ও জেলা কমিটি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করার জন্য বিধানসভার সব অঞ্চল এবং এলাকা থেকেই নেতা-কর্মীদের নিতে হয়। তাই সার্বিক ভাবে সমগ্র বিধানসভায় ভোটপ্রক্রিয়া মসৃণ ভাবে পরিচালনা করতেই এই কমিটিগুলি গঠন করা হয়েছে।’’