WB Elections 2026

‘শুভেন্দুর জেলার তিন বিডিও বদল করতে হবে’! কমিশনের বিরুদ্ধেই বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে সিইও-কে চিঠি তণমূলের

তৃণমূলের দাবি, ওই আধিকারিকেরা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ও একই এলাকায় প্রশাসনিক ও নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের একই জায়গায় বহাল রেখে দেওয়া কমিশনের নির্দেশিকারই পরিপন্থী।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৯
Share:

শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের সরব হল তৃণমূল। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকে তিন জন বিডিও-কে অবিলম্বে বদলির দাবিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠাল শাসকদল। নির্বাচন কমিশনের বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবং কমিশনের বিরুদ্ধেই আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু ব্লকে একই আধিকারিকদের বারবার পোস্টিং দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Advertisement

চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে—কোনও আধিকারিককে তাঁর নিজের জেলায় বা গত বিধানসভা নির্বাচন বা উপ-নির্বাচনে যে এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে পুনরায় নিয়োগ করা যাবে না। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল স্থানীয় প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। তৃণমূলের অভিযোগ, এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেশ কয়েকজন আধিকারিককে একই মহকুমা বা ব্লকে রেখে দেওয়া হয়েছে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী।

অভিযোগপত্রে তিন জন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও)-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই তিন বিডিও হলেন অরিজিৎ গোস্বামী (এগরা-২), শুভাশিস মজুমদার (রামনগর-১) এবং শুভদীপ ধর (রামনগর-২)। তৃণমূলের দাবি, ওই আধিকারিকেরা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ও একই এলাকায় প্রশাসনিক ও নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের পুনরায় একই জায়গায় বহাল রাখা ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং তাঁরা নির্দিষ্ট কোনও প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে তৃণমূল কমিশনের দিকে আঙুল তুলে লেখেছে, এই ধরনের পোস্টিং কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত প্রয়াস যা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের পরিবেশকে নষ্ট করছে।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে দলের পক্ষ থেকে সিইও-র কাছে প্রধানত চারটি দাবি জানানো হয়েছে। এক, এই কর্মকর্তাদের বারবার একই জায়গায় পোস্টিং দেওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করতে হবে। দুই, অভিযুক্ত আধিকারিকদের দ্রুত সরিয়ে সেখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। তিন, কমিশনের বদলি এবং রোটেশন নীতি মেনে সমস্ত পোস্টিংয়ের একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে হবে। চার, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এ বার দেখার, তৃণমূলের এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement