মালদহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
মালদহের সভায় রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নাম বলতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছিলেন মমতা। এক বার ‘রামকৃষ্ণ পরমানন্দ’ বলে ফেলেন। পরে বলেন ‘রামকৃষ্ণ পরমাংশ দেব’। কিছু ক্ষণের মধ্যেই অবশ্য ভুল সংশোধন করে নিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। জানিয়েছেন, তাঁর উচ্চারণে ভুল হয়েছিল। আগের কথা তিনি প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। এর পর স্পষ্ট উচ্চারণে ‘রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব’-এর নাম নিয়েছেন মমতা।
মালদহের সভার শেষে মঞ্চে আদিবাসী গানের তালে তালে স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে পা মেলান মমতা। প্রতি জেলাতেই এই গানের সঙ্গে তাঁকে নাচতে দেখা যাচ্ছে।
মমতা বলেন, ‘‘কাউন্সিলরদের বলব, কারও কথা শুনে নিজের দায়িত্ব এড়াবেন না। তৃণমূলের প্রার্থী মানে সরকার আমি গড়ব। আমার প্রতি ভরসা যদি থাকে, আগামী দিনে আপনারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।’’
মমতার অভিযোগ, ওয়েইসির দল পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোট কেটে তৃণমূলের ভোটবাক্সে ভাগ বসাতে চাইছে। নাম না-করে ওয়েইসির দলকে কটাক্ষ করে ফের তিনি বলেন, ‘‘ভোট কাটার খেলা চলছে। হায়দরাবাদ থেকে আসছে ভাই, সঙ্গে আছে গদ্দার ভাই। ডিটেনশন ক্যাম্প না চাইলে আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমার মন বলছে, বিজেপি শীঘ্রই বিদায় নেবে। তার জন্য বাংলার ভোট আমাদের জেতা জরুরি। কাকের ঘরেই কোকিল জন্মায়। আম বা আমসত্ত্ব দিয়ে দেবেন। কিন্তু ভোট দেবেন না।’’
আর্থিক প্রতারণার বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছেন মমতা। বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আসছি বলেও যদি কেউ আপনাদের কাছে আসে, অ্যাকাউন্ট নম্বর চায়, ভুলেও দেবেন না। সব কেড়ে নেবে। ওটা বিজেপি ছদ্মবেশে করছে। ভোটের সময় ভুল করেও এ সব করবেন না।’’
মমতার অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বললে মারধর করা হয়। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, অসম, মণিপুর সর্বত্র বাঙালিদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। শাহকে নাম না করে ‘মোটাভাই’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘আগে মণিপুর সামলান মোটাভাই। সঙ্গে এজেন্সি আছে। তাই খুব মজায় আছে। ফোন করে করে লোকজনকে ভয় দেখান। কাজই ফোন করে ভয় দেখানো। আমাকেও একদিন করেছিল। ভাল করে গুঁতিয়ে দিয়েছি। লড়াই করতে হলে সামনাসামনি করো।’’ বাইরে কাজ করতে ঘরের ছেলেমেয়েকে না-পাঠানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদীকে এক মঞ্চে বিতর্কে আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘‘মুখোশ আমি টেনে খুলে দেব। উনি আগে থেকে বক্তৃতা লিখে রাখেন। টেলি প্রম্পটার ছাড়া একটা কথাও বলতে পারেন না। বিজেপিকে বেলাইন করার জন্য আমরা এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়াব।’’
আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম-কে কটাক্ষ করেছেন মমতা। মালদহে বিচারকদের আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় তাদেরই দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘মালদহের একটা ঘটনা বাংলার সম্মান নষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয় লোকেরা এর জন্য দায়ী নন। তাঁদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বিজেপির কোকিল। তার সঙ্গে কিছু সাম্প্রদায়িক লোকজন। মালদহে তারাই এ সব করছে। আমরা হাতেনাতে ধরেছি। বিমানবন্দর থেকে সিআইডি ধরেছে। বিচারকদের কারা আটকে রেখেছিল? বহিরাগতেরা।
অমিত শাহকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ২৫ দিন থাকবেন বলছেন। আপনি ৩৬৫ দিন থাকলেও কিছু হবে না। মানুষ আপনাদের পছন্দ করে না।’’
মোদীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘মালদহ শহরের লোকসভায় দু’টি আসন। একটা কংগ্রেস, একটা বিজেপি জিতেছে। ২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় যদি অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, তবে আপনিও তাঁদের ভোটে জিতেছেন। আপনি আগে পদত্যাগ করুন।’’
মালদহের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘কর্মীরাই দলের সম্পদ। যাঁরা বিএলএ এজেন্টের কাজ করেন, মিছিল মিটিং করেন, লড়াইয়ের ময়দানে থাকেন, পালিয়ে যান না, তাঁরাই দলের সম্পদ। তাঁদের আমি ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। আমি নিজেও মাটির কর্মী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এক পয়সা মাইনে নিইনি। সাধারণ ভাবে থাকি। অহঙ্কার চলে এলেই দুর্বলতা।’’
এসআইআর-এ নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে মালদহের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এর আগেও এক দিন মমতা মালদহে সভা করে গিয়েছেন। বুধবার রাতে এই জেলায় মোথাবাড়ি, সুজাপুরের মতো এলাকা দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত বিচারককে আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। মমতা সেই বিক্ষোভের নিন্দা করেছেন। তবে এই ঘটনার জন্য কংগ্রেসকে দোষারোপ করেছেন তিনি। মনে করিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ-প্রশাসন এখন তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। রয়েছে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে।