(বাঁ দিকে) নরওয়ের সাংবাদিক। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব সিবি জর্জ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফের কড়া জবাব দিল ভারত। এ বার নরওয়েতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকালে। সোমবার মধ্যরাতে বিদেশ মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে নরওয়ের এক সাংবাদিক সংখ্যালঘুদের অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো বিষয়ে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। নয়াদিল্লির বক্তব্য, কয়েকটা ‘অজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা’-র লেখা প্রতিবেদন পড়ে কেউ কেউ ভারতকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সোমবার রাতে নরওয়েতে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের সচিব সিবি জর্জ। ওই সাংবাদিক বৈঠকে নরওয়ের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কেন ভারতকে বিশ্বাস করব? সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেন জর্জও। তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “তাঁরা (ভারতের সমালোচক) কয়েকটি অজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সংবাদ প্রতিবেদন পড়ে চলে আসেন এবং প্রশ্ন করেন।” জর্জ জানান, ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে মৌলিক অধিকার দিয়েছে। কোনও রকম অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যে কেউ আইনি পদক্ষেপ করতে পারেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনাচক্রে, সোমবারই নরওয়েতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না-দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। নরওয়ের যে সাংবাদিক মোদীকে প্রশ্ন করেছিলেন, সেই সাংবাদিক হেলে লিং সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন না। এটা আমি তাঁর কাছে আশা করিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে নরওয়ে এক নম্বরে। আর ভারতের স্থান ১৫৭। প্যালেস্টাইন, কিউবার সঙ্গে এ ব্যাপারে তাদের প্রতিযোগিতা! যে সব শক্তির সঙ্গে আমরা সহযোগিতা করে চলি তাদের প্রশ্ন করার অধিকার আমাদের রয়েছে।”
এর আগে মোদীর সফরকালে ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নেদারল্যান্ডস। সেই সময়েও পাল্টা জবাব দিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিক জানিয়েছিলেন, এই অভিযোগ করা হয়েছে ‘ভারত সম্পর্কে ধারণার অভাব’ থেকে।