দলবদলের আগেও কাঁদছেন খোকন মিয়াঁ। —নিজস্ব ছবি।
সকাল থেকে বার কয়েক কেঁদেছেন। রুমালে চোখের জল মুছতে মুছতেই তৃণমূল ছেড়়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ঘনিষ্ঠ কোচবিহারের প্রবীণ তৃণমূল নেতা খোকন মিয়াঁ। কান্নাধরা গলায় বললেন, ‘‘তৃণমূল আর দল নেই। কর্পোরেট সংস্থা হয়ে গিয়েছে। পুরনোদের কোনও সম্মান নেই।’’ অন্য দিকে, কংগ্রেস সূত্রে খবর, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হতে পারে খোকনকে।
তৃণমূল থেকে টিকিট না-পাওয়ার পরে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গলায় অভিমানের সুর শোনা গিয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোচবিহার-১ গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা কিষান খেতমজুর তৃণমূল জেলা সভাপতি খোকনের অভিযোগ, ভোটের সময় পুরনো নেতা-কর্মীদের গুরুত্বই দিচ্ছে না তৃণমূল। কর্পোরেট সংস্থা এখন দল চালাচ্ছে। শনিবার দুপুরে কোচবিহার জেলা কংগ্রেসের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন খোকন। ধীরাজ কুমার সাহু এবং প্রদীপকুমার বালমুচুর হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেন।
তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ওই দল করছিলেন খোকন। ১৯৯৮ সালে রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে তৃণমূলে যান। তার আগে কংগ্রেস করতেন। ’৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন খোকন। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কোচবিহার-১ ব্লকের ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। তার মাঝে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, জেলা পরিষদের পূর্ত, পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষের মতো বিভিন্ন পদে ছিলেন। খোকন জানান, তিনি ভাবতে পারেননি তৃণমূল ছাড়বেন। কিন্তু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। কংগ্রেসে যোগদানের আগের মুহূর্তেও চেয়ার বসে কাঁদতে দেখা গিয়েছে মিয়াঁকে। চোখের জল মুছে কংগ্রেসের পতাকা হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা ঘোষণার এক ঘণ্টা আগে খেলার মাঠ থেকে খেলোয়াড় (নিশানা শিবশঙ্কর পালকে) নিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রার্থী করা হচ্ছে। যারা দলের জন্য মার খেয়েছে, ছেঁড়া জুতো পরে দেওয়াল লিখেছে, তারা কী পেল? তৃণমূলের পুরনো নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, হীতেন বর্মণ, বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ, কারও কপালে টিকিট জুটল না।’’
খোকনের দলত্যাগ নিয়ে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, ‘‘ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে সেটা দলে থেকে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া ভাল। অন্য দলে যোগদান করে বিক্ষোভ দেখানোটা তো ভাল কাজ নয়।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘কিছু ক্ষোভ আমারও আছে। কিন্তু সে জন্য মিটিং করতে হয়।’’ তৃণমূলের চেয়ারম্যান গিরিন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, ‘‘খোকন মিয়াঁ নিশ্চিত ভাবে বলিষ্ঠ নেতা। আমার সকলের কাছে একটাই অনুরোধ, নেত্রীর সিদ্ধান্ত সকলের মেনে নেওয়া উচিত।’’
প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর শাসক-বিরোধী, দুই শিবিরেই ক্ষোভ-বিক্ষোভ অব্যাহত। দলবদলের ঘটনা ঘটেছে পুরুলিয়াতেও। ওই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হতেই অভিমানে দলত্যাগ করেন দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিংহ দেও। প্রয়াত বিধায়ক কেপি সিংহ দেও-র পুত্র তিনি। পুরুলিয়ায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও অনেক।
হুগলির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা হরি মিশ্র প্রার্থিতালিকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিলেন বিধাননগরে। বালির বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংহকে বদলের দাবি জানান। প্রার্থী বদলের দাবি নিয়ে বজবজেও বিজেপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরেও প্রার্থী বদলের দাবি করে বিধানগরে কলাগাছ নিয়ে বিক্ষোভ করেন পদ্মশিবিরের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, সেখানে কলাগাছকে দাঁড় করালেও জয়ী হবে। কিন্তু অলোক হালদারকে বদলে দিতে হবে। আবার পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে বিজেপি প্রার্থী পছন্দ না-হওয়ায় দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান নেতা-কর্মীদের একাংশ। তমলুকের বিদায়ী বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র টিকিট না-পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বর্ধমানের তপন চট্টোপাধ্যায়ের মতো তিনিও অভিযোগ করেছেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভোটের টিকিট বিক্রি হয়েছে।