WB Elections 2026

হুমায়ুনের ‘গোপন কথা’ ফাঁস! বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের দাবি তৃণমূলের, কী কথোপকথন ১৯ মিনিটের সেই ভিডিয়োতে

১৯ মিনিটের ভিডিয়োয় বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের ‘গোপন আঁতাঁত’-এর কথা উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূলের ‘ফাঁস’ করা ওই ভিডিয়োয় ১০০০ কোটি টাকা চাইতে দেখা যাচ্ছে হুমায়ুনকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১২
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিধানসভা ভোটের মুখে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের ‘গোপন কথা’ ফাঁস করল তৃণমূল। সাংবাদিক বৈঠক ডেকে হুমায়ুনের একটি ভিডিয়ো ‘ফাঁস’ করেছে রাজ্যের শাসকদল (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়োর ফ্রেমে দেখা যাচ্ছে একমাত্র হুমায়ুনকে। তিনি যাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁদের ওই ভিডিয়োয় দেখা যায়নি। ভিডিয়োর কথোপকথন থেকে বোঝা যাচ্ছে হুমায়ুনের সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জনের সঙ্গে কথোপকথন চলছিল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতার।

Advertisement

ভিডিয়োটিতে তারিখ উল্লেখ রয়েছে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর। ১৯ মিনিটের ওই ভিডিয়োয় বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের ‘গোপন আঁতাঁত’-এর কথা উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূলের ‘ফাঁস’ করা ওই ভিডিয়োয় ১০০০ কোটি টাকা চাইতে দেখা যাচ্ছে হুমায়ুনকে। তার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দাবি করছেন তিনি। কী কী কথাবার্তা উঠে এসেছে ১৯ মিনিটের ওই ভিডিয়োয়?

হুমায়ুন: আজকের দিনে যে বিষয়টা তুলেছি না বাবরি মসজিদে… সেটা হবে কি না হবে, তা পরের বিষয়। আজকের দিনে পুরো ভারতের মুসলিমেরা আমার সঙ্গে আছে।

Advertisement

প্রশ্নকর্তা: স্যর, মুর্শিদাবাদের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছেন? না কি গোটা রাজ্যের?

হুমায়ুন: পুরো রাজ্যের। পুরো রাজ্যের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছি। দেখুন না, ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার ছিল। তার পরের দিন ছিল শনিবার। তার ছ’দিন পর জুম্মার দিনে কাউকে ডাকিনি। নিজে থেকেই পুরো রাজ্যের ১ লক্ষ মুসলিম লোক চলে এলেন জু্ম্মার নমাজ পড়ার জন্য। ওদের ঘরে ঘরে ভাল মার্বেল দেওয়া মসজিদ আছে। সেই মসজিদ ছেড়ে এখানে চলে আসছে। এতটাই আবেগ। রাজ্যের তো আসছেই, পাশের ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম, ত্রিপুরারও কিছু লোক আসছে। ২ লক্ষ… নমাজ পড়ার জন্য। মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। সেটা ফেব্রুয়ারি-মার্চে হবে শুরু। কিন্তু এতটাই আবেগ, আগের শুক্রবারও এক লক্ষ লোক এসেছিল। আজ আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল।

Advertisement

প্রশ্নকর্তা: ধরুন আপনাকে যদি এখানে তৃণমূলকে সরাতে হয়— তবে আপনাকে দু’টি জিনিস করতে হবে। বিজেপির কাছে হিন্দু ভোট।

হুমায়ুন: সেটা তো হয়েই যাবে। আমি যত মুসলিম লোককে আমার জন্য ভোট দেওয়ার আওয়াজ তুলছি। তো অটোমেটিক্যালি আপনার হিন্দু ভোট, আপনার কাছে যাবে। বিজেপির কাছে যাবে।

প্রশ্নকর্তা: কী ভাবে যাবে?

হুমায়ুন: যে হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করছেন, তাঁরা ভাল ভাবে জানেন ৯০-১০০ শতাংশ মুসলিম সমর্থন মমতার কাছে আছে। ওই মুসলিম ভোট সরে গেলে হিন্দুরা দেখবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ক্ষমতায় আসবেন না। তখন তাঁদের একটাই বিকল্প, যেটা বিজেপি। আমি সোজাসুজি বলছি, আমাকে ভোট দাও। ওখানে মুখ্যমন্ত্রী যে-ই হবেন, নির্ণায়ক ভূমিকা আমার হাতে থাকবে। আগামী দিনে যে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার হোন। হিন্দু হলে হবেন। আমার কোনও টার্গেট নেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার। কিন্তু যে-ই হবেন, আমার কাছে ২৯৪টির মধ্যে ৮০-৯০টা সিট থাকলে, আগামী দিনে সেই মুখ্যমন্ত্রীকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অ্যাজেন্ডা রাখব।

প্রশ্নকর্তা: মানে বিজেপির থেকে মুখ্যমন্ত্রী হলে আপনি সমর্থন করবেন?

হুমায়ুন: পুরো সাপোর্ট দেব। কোনও অসুবিধা নেই। আমি মমতাকে কোনও ভাবেই আসতে দেব না।

প্রশ্নকর্তা: ধরুন এমন একটা পরিস্থিতি হল যে, আপনার কাছে ৫০-৬০টি চলে এল। আর তৃণমূল এবং বিজেপির সমান সমান হয়ে গেল। ওই সময়ে যদি আপনি টিএমসি-কে সাপোর্ট করেন?

হুমায়ুন: ওরা আমার সমর্থন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। কিন্তু আমি সমর্থন দেব না। আমি বিজেপি-কে দেব। কিন্তু আড়ালে যা যা এগ্রিমেন্ট করার করে নিন। কিন্তু আগে আপনার বিরুদ্ধেও বলব।

প্রশ্নকর্তা: আপনি বিজেপির বিরুদ্ধে বলবেন?

হুমায়ুন: বলতে হবে। না হলে তো এই ভোট আমার কাছে আসবে না। তা হলে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে দেবে। আমি যতটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বলব, ততটাই বিজেপির বিরুদ্ধে বলব। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি বললেন… (এর পরে কিছু অস্পষ্ট কথা)

প্রশ্নকর্তা: শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে?

হুমায়ুন: হ্যাঁ। শুভেন্দু অধিকারী আমাকে বললেন যে, আপনি দিল্লি যাবেন ২২ তারিখের পর। আমিও যাব। ওখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেব। তার পরে মোহন যাদবজি আছেন না, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, উনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। যখন পিএমও-র সঙ্গে আমার কথা হল, ওরা বলল আপনার সঙ্গে কানেকশন রাখার জন্য।

প্রশ্নকর্তা: মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও আপনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন?

হুমায়ুন: হ্যাঁ। সিএম ডিরেক্ট আমার সঙ্গে (হুমায়ুন কী বলছেন, তা কিছুটা অস্পষ্ট)।

প্রশ্নকর্তা: আমরা মনে করছিলাম অসমের মুখ্যমন্ত্রী (পরবর্তী কিছু কথা অস্পষ্ট)।

হুমায়ুন: অসমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে পিএমও অসমকে জুড়ে রেখেছিল, কিন্তু ডিরেক্ট মোহন যাদবজিকে আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য (পরবর্তী কথা অস্পষ্ট)। দু’জনেই আমার সঙ্গে যোগাযোগে আছেন। আপনারা ১০০-১১০ বা ১২০ পর্যন্ত যেতে পারেন। কিন্তু আপনারা ১৪৮টা পাবেন না। শুভেন্দু অধিকারীজি… তাঁকে আমি বলেছি। তিনি বলেন, ঠিক আছে। মোহনজি আমাকে বলেছেন, আপনি ৭০-৮০ যতই সিট পান, সরাসরি আপনাকে ডেপুটি দিয়ে দেব।

প্রশ্নকর্তা: ডেপুটি সিএম? তবে তো দারুণ।

হুমায়ুন: হ্যাঁ। দারুণ।

প্রশ্নকর্তা: সে তো ঠিক আছে। আমরা বলছি, এই মুসলিমদের তো আপনাকে বিপথে চালিত করতে হবে।

হুমায়ুন: হ্যাঁ।

প্রশ্নকর্তা: এক পর্যায়ে গিয়ে বোকাও বানাতে হবে।

হুমায়ুন: বানাতে হবে।

প্রশ্নকর্তা: আপনি ওদের বোকা না বানালে ওরা….

হুমায়ুন: ওদের কাছে যাবে।

প্রশ্নকর্তা: ওদের কাছে চলে যাবে। তা হলে আপনার পলিসি কী? মানে…

হুমায়ুন: পলিসি এটাই। আমি ওনাকেও বলেছি (তৃতীয় জনকে দেখিয়ে)। শুভেন্দুজিকেও বলেছি। আমার টাকা দরকার। মুসলিমদের এককাট্টা করার জন্য, ভোটে তাদের আমাদের দিকে আনার জন্য এক একটা সিটে ৩-৪ কোটি খরচ হবে। টিএমসি, যারা ক্ষমতায় আছে, ওরা বেশি টাকা দেয় না। কিন্তু আজকের দিনে যে নতুন নতুন মুসলিম প্রার্থীদের দাঁড় করাব, তাঁরা সকলেই শিক্ষিত হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির হবে। কিন্তু আমার টাকা দরকার।

প্রশ্নকর্তা: আপনার লক্ষ্যপূরণ করার জন্য মোট কত টাকা লাগবে?

হুমায়ুন: ১০০০ পেলে পুরো লক্ষ্য পূরণ হবে।

প্রশ্নকর্তা: মানে ১০০০ কোটি?

হুমায়ুন: হ্যাঁ।

প্রশ্নকর্তা: তো এই সব কী ভাবে হবে? আপনার কী প্ল্যানিং আছে? মুসলিম ভোটকে কী ভাবে ভাঙবেন এই টাকায়?

হুমায়ুন: কিছু কিছু জায়গায়… (অস্পষ্ট কথা)। আমার বিরুদ্ধে যাঁরা ভোটে লড়েছে, আপনার দলে কেউ প্রার্থী ছিলেন। তো প্রার্থীর কাছে বেশি টাকা দেওয়া হত। কিন্তু সেই টাকা নিচুতলায় পৌঁছোয়নি। কিন্তু আমার এত নিচুতলার লোক আছে, তাঁদের ঘরে ঘরে পয়সা পৌঁছে গেলে, কেউ বেইমানি করবে না।

প্রশ্নকর্তা: পয়সা সংখ্যালঘু বলয়ে এসে গেলে, আপনার যত মুসলিম ভোটার আছে…

হুমায়ুন: আমার যে বিকল্প থাকবে— আমি যে ১০০০ কোটি টাকা চাইছি, তাতে আমি ৩০০ কোটি টাকা আগে থেকে, বিহারের নীতীশ কুমার যে ফর্মুলায় করেছেন— এক এক হাজার করে, এক বছরে ১২ হাজার। উনি পরিবারপিছু ১০ হাজার করে দিলেন। তো পুরো ভোট আপনার কাছে চলে গেল। কী হল?

প্রশ্নকর্তা: তার মানে আপনি বলছেন, এ ভাবেই আপনি ওদের বোকা বানাবেন (ঘাড় নাড়েন হুমায়ুন)। কিন্তু এ ভাবে কি বোকা হবে?

হুমায়ুন: নিশ্চয়ই হবে। (প্রশ্নকর্তা কিছু কথা বলেন, যা স্পষ্ট ভাবে শোনা যায়নি)। আমি আপনাদের বেশি বলব না। আজকের দিনে একটা ভরসা দিচ্ছি— আমাকে যখন ১০০০ দেবেন, আপনাদের পুরো ফায়দা হবে। এটা আমি এগ্রিমেন্ট করে দিয়ে দেব। আমার সিট তো ৭০-৮০ হবে। আপনারা ১০০-১২০ পৌঁছে যাবেন। তা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০-র নীচে আসবেন। আমি সোজাসুজি ভোটের পর লোককে বোঝাব। কেন্দ্রে বিজেপি আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন বারের শাসনে মুসলিমদের জন্য কোনও উন্নয়ন হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের কোনও উন্নয়ন হয়নি। (অস্পষ্ট কিছু কথা) ১০০ দিনের কাজের টাকাও এখনও ঠিকঠাক আসেনি। সব মুসলিম আমার উপর পূর্ণ ভরসা রাখেন, এটা বলে দিচ্ছি।

প্রশ্নকর্তা: নিচুতলার মুসলিমেরা যদি তখন আপনাকে বলেন, আপনারা এখানে বাবরি মসজিদ বানাচ্ছেন, ওখানে তো বিজেপিই আমাদের বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল। তা হলে আমরা ওদের কেন সাপোর্ট করব? তখন আপনি ওদের কী ভাবে বোঝাবেন?

হুমায়ুন: আমি তো প্রথম থেকেই বলছি। আমি ভোটে একটি বিষয় তুলেছি, যে আজকের দিনে ডিরেক্ট টিএমসি-কে ১৫০ আসনে আনলেও বাবরি মসজিদ হতে দেবে না। বিজেপিও ১৫০ আসন পেয়ে গেলে, ডিরেক্ট মেজরিটি পেয়ে গেলে বাবরি মসজিদ হতে দেবে না। সেই জন্য আমি বলছি ২৯৪-র মধ্যে আমাকে ১০০ দাও। বিজেপি ১০০ পাক। টিএমসি ৯৪ পাক। তা হলে সিএম যে-ই হোন, আমার নির্ণায়ক ভূমিকা থাকবে।

প্রশ্নকর্তা: তা হলে আপনি যদি ৭০-৮০টা সিট পেয়ে যান, তবে বিজেপির থেকে… (অসম্পূর্ণ)

হুমায়ুন: সে তো যেই মুখ্যমন্ত্রী হোন, আমার সাপোর্ট চাই।

প্রশ্নকর্তা: আমি সেটাই বলছি। ধরুন টিএমসি-ও ১৫০-র আশপাশে সিট পেল। ওরাও পেয়ে গেল। আপনার সাপোর্ট কোন দিকে থাকবে? যদি টিএমসি-র দিকে চলে যায় তবে?

হুমায়ুন: আপনাকে সাপোর্ট করায় কোনও অসুবিধা থাকত, তা হলে আজ আমি আপনার সঙ্গে বসতে চাইতাম না। আপনার কাছ থেকে কোনও পয়সাও নিতে চাইতাম না। আমার ৬২ বছর বয়স। আমি কোনও দিন কোনও দুর্নীতির মধ্যে জড়াইনি।

প্রশ্নকর্তা: তা হলে দাদা আমরা ‘কনফার্মেশন’-এ এসে যাচ্ছি। আমরা তা হলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিচ্ছি, আপনার এই পরিমাণ টাকা লাগবে। যদি আপনি এই টাকা পেয়ে যান, তা হলে আগামীতে আপনি ৫০-৬০ ভোট… সিট জিতে আনবেন।

হুমায়ুন: আমার একসঙ্গে লাগবে না। দফায় দফায় চাই। বাবরি মসজিদের যে লিম রাখি, সে দিনই আমার ৮২ লক্ষ খরচ হয়ে গিয়েছে। ওই সময় তো টাকাও ছিল না। আমার নিজের ব্যবসা থেকে টাকা দিয়ে করেছি। আজকের দিনে ৬-৭ কোটি এসে গিয়েছে… এ ভাবেই চলছে। আমি আপনাদের এটাই বলব, যত দ্রুত সম্ভব ২০০ কোটি টাকা দিন। আমার সঙ্গে দিল্লির কাউকে কনফিডেন্সে নিতে হলে… (এর পরে হুমায়ুনের কিছু অস্পষ্ট কথা)। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার ফেসটাইমে কথা হচ্ছে।

প্রশ্নকর্তা: ফেসটাইমে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়?

হুমায়ুন: আপনি জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন।

প্রশ্নকর্তা: আমি বলছি, এই যে তহবিল আপনার কাছে আসবে, সেটি কি আপনি শুভেন্দু অধিকারীর মারফত নিতে চান? না কি ডাইরেক্ট?

হুমায়ুন: না না, ডাইরেক্ট করা উচিত। শুভেন্দু অধিকারী আমাকে জানান, আমাকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে। বাংলার ভোটের যে… (পরের অংশ শোনা যায়নি)। মোহন যাদবজি আমাকে জানান, তাঁর সঙ্গে পিএমও-র সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাজি উনিও তাঁর সঙ্গে আছেন। পিএমও আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য ডাইরেক্ট বলেছে। উনি বললেন, নয়াদিল্লিতে মধ্যপ্রদেশ ভবনে আমাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার পয়সা নিয়ে কথা হয়নি।

প্রশ্নকর্তা: তা হলে আপনি একটা কাজ করবেন। যেখানেই আপনার কাছে পয়সার বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে, এই রাশিটাই বলবেন।

হুমায়ুন: হ্যাঁ। না হলে তো আপনাদের ইমেজ খারাপ হবে।

প্রশ্নকর্তা: আর দাদা, এখানে যা যা আসন আছে, সব আসনে তো মুসলিম ভোটার একরকম নয়। কোথাও ১০ শতাংশ, কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও ৮০ শতাংশ।

হুমায়ুন: ওটাও আপনাদের কাজে আসবে। কোথাও ২০ শতাংশ হলে আমি সদস্য দাঁড় করাব না। ওটা তো ৮০ শতাংশ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিট। ওটাও আপনাদেরই সুবিধা হবে। আমি যে ১৩৫-১৪৫ সিটে লড়ব, আমার পক্ষে যে ভোট আসবে…. (এর পরে কিছু কথা অস্পষ্ট)। ওতে তো সুবিধা বিজেপিরই হবে।

প্রশ্নকর্তা: আপনি আমাদের সাপোর্ট করবেন তো?

হুমায়ুন: আমি তো বললাম আপনি আমাদের সাহায্য করলে, আপনি যেখানে যে নেতার সঙ্গে বসতে বলবেন… (কথা অসম্পূর্ণ)। কিন্তু এটা গোপন থাকতে হবে। ভোটের সময় তো। এটা হলে আমার খারাপ হবে।

প্রশ্নকর্তা: এটা হলে তো আপনার কাছ থেকে মুসলিম ভোট বেরিয়ে যাবে।

হুমায়ুন: বেরিয়ে যাবে। ওরা বলবে আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে এ সব করেছি (কিছু অস্পষ্ট কথা)। কিন্তু আমার সঙ্গে আপনাদের এগ্রিমেন্ট হবে। সই করব। মুখ্যমন্ত্রী আপনার হবে। আমার খোলাখুলি সমর্থন থাকবে। কিন্তু আমার তো কিছু দফতর চাই। তো আমার কী অসুবিধা আছে! কোনও অসুবিধা নেই।

প্রশ্নকর্তা: তার মানে ভোট পর্যন্ত এখানে আপনি ভিতরে ভিতরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চান। কিন্তু প্রকাশ্যে কুকথাও বলতে চান।

হুমায়ুন: ওটা তো কথা বলেই রেখেছি। উনিও তো আমার বিপক্ষে বলছেন। কাল, পরশু বলেছেন। উনি বলেছেন, আমাদের ১৫০ পর্যন্ত পৌঁছোতে দিন। আমি মুখ্যমন্ত্রী হলে বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না।

প্রশ্নকর্তা: মুসলিমেরা আসলে খুব সাধাসিধে হন। ওদের বোকা বানানো খুব সহজ হয়ে যায়।

হুমায়ুন: হ্যাঁ, খুব সহজ। আজকের দিনে ১০০ মুসলিমের মধ্যে ৮০ জনকে আমার বিরুদ্ধে কিছু বলে দেখুন।

প্রশ্নকর্তা: আপনি ওদের আবেগকে ধরে নিয়েছেন। বাবরি মসজিদের আবেগকে আপনি পুরো ধরে নিয়েছেন।

হুমায়ুন: আমি তো সেই জন্যই জেনেবুঝে… অনেকে বলছেন, অন্য কোনও নাম রাখুন। কিন্তু অন্য নাম করলে এই আবেগটা ভেঙে যাবে।

প্রশ্নকর্তা: ধরুন কোনও কারণে বাবরি মসজিদ হল না। তা হলে আগামী দিনে কী হতে পারে?

হুমায়ুন: সত্যিটা হল, ফেব্রুয়ারিতে আমরা শুরু করে দেব। শুরু হওয়ার পর ৫ শতাংশ কাজ হতে হতে ভোট এসে যাবে। ভোট শেষ হলে কাজ শুরু হবে। এমন একটা সরকার আসবে, যার উপর আমার নির্ণায়ক ভূমিকা থাকবে। তাদের বুঝিয়ে আমি বানিয়ে নেব। কেউ কোর্টে গিয়ে আটকে দিলে, কিছু করে আটকে দিলে, আমার উপর কারও রাগ হবে না। ওরা বলবে, ও তো চেষ্টা করেছেন।

প্রশ্নকর্তা: এমনও তো হতে পারে, ৫ শতাংশ কাজ করে আপনার ভোট হয়ে গেল (এর পরের কথা অস্পষ্ট)।

হুমায়ুন: কেউ মামলা করে আটকে দিলে আমি কী করতে পারি!

প্রশ্নকর্তা: আপনি পুরো ‘পলিটিক্যাল’ দাদা।

হুমায়ুন: এটা তো আমার ভোটের সুবিধা। আমার মাথা এইরকমই। ৬২ বছর বয়স। ৪৩ বছর রাজনীতিতে আছি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement