—প্রতীকী চিত্র।
কূল পেলেন সব্যসাচী!
গোষ্ঠীকোন্দলে দীর্ণ বারাসতে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী না করে বহিরাগতেই আস্থা রাখল তৃণমূল। সেখানে প্রার্থী করা হল বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা রাজারহাট-নিউ টাউনের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে। গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির টিকিটে বিধাননগরে লড়েছিলেন সব্যসাচী। সেখানে পরাজিত হয়ে ফের তৃণমূলে ফিরলেও অনেক দিন তেমন গুরুত্ব পাননি তিনি। এ বার বারাসতে প্রার্থী হয়েছেন। অন্য দিকে, তাঁর পুরনো কেন্দ্র রাজারহাট-নিউ টাউনে এ বারেও প্রার্থী করা হয়েছে তাপস চট্টোপাধ্যায়কে।
প্রসঙ্গত, রাজারহাট-নিউ টাউনের দখল বজায় রাখতে সব্যসাচী এবং তাপসের অনুগামীরা পাল্লা দিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠান করছিলেন। গত বছর সরকারি অনুষ্ঠানে দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যে স্লোগান দেওয়ার প্রতিযোগিতা, প্রকাশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, তা নিয়ে দুই নেতার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। কোথাও তাপসের পরিচালনায় বিরাট সামাজিক উৎসব হয়েছে, কোথাও আবার সব্যসাচীর জন্মদিনে তাঁর অনুগামীরা ইকো পার্কে বিরাট ভোজের আয়োজন করেছেন।
২০২১ সালের ভোটের আগে সব্যসাচী বিজেপিতে যোগ দেন। আর তাপস তৃণমূলের টিকিটে রাজারহাট-নিউ টাউন কেন্দ্রের বিধায়ক হন। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময়ে সিপিএমের ‘গড়’ বলে পরিচিত রাজারহাট-নিউ টাউনে তৃণমূলের অনেকেই প্রার্থী হতে চাননি। সেই কঠিন সময়ে তৎকালীন সিপিএমের নেতা তাপসকে হারিয়ে সব্যসাচী নিউ টাউনের বিধায়ক হন। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরার পরে সব্যসাচীও পায়ের তলায় মাটি খুঁজছিলেন। যে কারণে তিনি চাইছিলেন নিউ টাউনে ফিরতে। সমাজমাধ্যমে সব্যসাচী ও তাপসের অনুগামীদের পোস্টে তাঁদের রেষারেষি বার বার ধরা পড়ছিল।
সম্প্রতি সব্যসাচীকে বারাসত সংসদীয় জেলার চেয়ারম্যান করেছে তৃণমূল। এর আগে ১৫ বছরের বিধায়ক, চিত্রতারকা চিরঞ্জিতকে তাঁর কেন্দ্র বারাসতে কার্যত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। যে কারণে বারাসতের দখলদারি নিয়ে অন্য বিধানসভা কেন্দ্রের নেতাদের অনুগামীদের মধ্যে বহু দিন ধরেই টানাপড়েন চলছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান বদলানো হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে বারাসত শহরে দলের হার, পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েতে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিজেপির বাড়বাড়ন্ত, বারাসতের সংখ্যালঘু এলাকায় আইএসএফের ঘুঁটি সাজানো-সহ একাধিক বিষয় রয়েছে বারাসতে। যদিও সব্যসাচীর অনুগামীদের দাবি, বাম আমলে এই বারাসত থেকেই বর্তমান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে প্রথম বার জিতিয়ে আনার অন্যতম কারিগর ছিলেন সব্যসাচী। ফলে বারাসত তাঁর কাছে ততটা অচেনা নয়।
এই পরিস্থিতিতে ভূমিপুত্র কাউকে প্রার্থী করার দাবি থাকলেও বারাসতের দখল রাখতে সব্যসাচীর হাতেই ব্যাটন তুলে দিয়েছে তৃণমূল। দীর্ঘদিন পরে রাজনীতির প্রথম সারিতে ফেরা সব্যসাচী শুধু বলেন, ‘‘আমি দলের সৈনিক। বারাসতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ দলের কাছে। এখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। বারাসতের নেতারা আমার অভিভাবক। তাঁদের কথা মেনেই আমি চলব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে