West Bengal Elections 2026

কেন্দ্র ধরে হিসেবে তৃণমূলকে ‘নিশ্চিন্ত’ করছেন অভিষেক

বুথভিত্তিক পর্যালোচনার পরে তৃণমূল মনে করছে, সংখ্যার হিসেবে এ বার দলের প্রাপ্তি ২২৫ ছুঁয়ে ফেলবে। রাজ্যে ২০১৬, ২০২১-এর বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের থেকে এ বারের লড়াই অনেক বেশি কঠিন ছিল বলেই মনে করছে তৃণমূল।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০৭:৫২
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

দ্বিতীয় পর্বের শেষ প্রচারের দিন প্রথম পর্বে ভোট হয়ে যাওয়া কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থী জানতে চাইছিলেন, কী মনে হচ্ছে? তিন বারের বিধায়ক বুঝতে পারছিলেন না, বাড়তি ভোট কোন দিকে গিয়েছে! একই রকম উদ্বেগ ছিল এক মন্ত্রীরও। তবে দুই দফার অতিরিক্ত ভোট নিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে উদ্বিগ্ন ঘনিষ্ঠদের বলেছিলেন, শেষ বিধানসভা ভোটের থেকেও বেশি আসন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে! বাড়তি ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

পরবর্তী সময়ে বুথভিত্তিক পর্যালোচনার পরে তৃণমূল মনে করছে, সংখ্যার হিসেবে এ বার দলের প্রাপ্তি ২২৫ ছুঁয়ে ফেলবে। রাজ্যে ২০১৬, ২০২১-এর বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের থেকে এ বারের লড়াই অনেক বেশি কঠিন ছিল বলেই মনে করছে তৃণমূল। এ বার ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার সঙ্গে যোগ হয়েছিল ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রাথমিক প্রক্রিয়া। এই পরিস্থিতিতে একেবারে শুরুতেই প্রায় ৩৫% প্রার্থী বদল করে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার মোকাবিলার কথা ভেবেছিল তৃণমূল। আর এসআইআর-এ হয়রানি ও নাম বাদ দেওয়ার মতো ঘটনাকে দলের পক্ষে ব্যবহারের পরিকল্পনা করে তারা। তৃণমূল নেতৃত্বের ধারণা, ভোটের সময়ে যে হাওয়া ওঠে, তার মূল উপাদান কী হতে চলেছে আঁচ করে দল যে ভাবে এগিয়েছে, ফলাফলে তা ‘ইতিবাচক’ প্রমাণিত হবে।

এ বারের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ দুই আসন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম সম্পর্কেও আশাবাদী তৃণমূল। লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে ভবানীপুরে যে ‘চাপ’ ছিল, তাতে এই কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে এসআইআর-এর প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় গোড়ায় শাসক দলকে কিছুটা চিন্তায় রেখেছিল ভবানীপুর। কিন্তু ভোটের পরে দলের ‘হিসাব’ সন্তোষজনক। এই কেন্দ্রের ৭৭, ৮২ এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন বলেই দাবি করছেন ভোটে এখানকার দায়িত্বে থাকা দলের নেতারা। দু’টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে থাকার আশঙ্কা থাকলেও অন্য তিনটিতে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে জয়ের ব্যবধান ২৫-৩০ হাজার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। এই কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী বা মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এজেন্ট বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন, ব্যবধান আরও বেশি হবে। নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর বিরুদ্ধেও এ বার কঠিন লড়াই দেওয়া গিয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

জেলাওয়াড়ি আসনেরও হিসেব করেছে তৃণমূল। সে ক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের ‘শূন্য’ কাটবে বলে আশা তাদের। ভোট পর্যালোচনায় তারা মনে করছে, কালচিনি ও ফালাকাটায় ভাল লড়াই হয়েছে। এবং কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে রক্ষণশীল হিসেব করছেন দলের নেতারা। মুর্শিদাবাদে গত বিধানসভা নির্বাচনে ২২ আসনের ২০টি পেলেও এ বার তা একটু কম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্য দিকে, হাওড়া ও বীরভূম ‘বিরোধী-শূন্য’ হতে পারে বলেও হিসেব তৃণমূলের।

কলকাতা শহরে চার আসনে বিজেপির সঙ্গে জোর লড়াই হয়েছে বলে মানছে তৃণমূল। তার একটি হাতছাড়াও হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে দলে অন্দরে। মতুয়া-প্রভাবিত রানাঘাট ও বনগাঁয় বিজেপির হাতে থাকা দু’টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছে তৃণমূল। আসন বাড়লেও ২০২১ সালে জেতা আসনের কিছু এ বার হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বলে মানছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন