West Bengal Elections 2026

অকংগ্রেসি নেতাদের পাশে নিয়ে ঝাঁপাতে চায় তৃণমূল

রাহুল তথা কংগ্রেসকে কঠোর বার্তা দিতেই আরও বেশি করে অখিলেশ, তেজস্বী, কেজরীওয়ালদের কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৪
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে জয়ের প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেতৃত্বের আগাম পরিকল্পনা, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরই জাতীয় রাজনীতিতে ঝাঁপানোর। এবং সেই ঝাঁপে অকংগ্রেসি বিরোধী দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে চলার।

দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, রাজ্যে সফররত আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব, ঝাড়খন্ডের হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে জনসভাগুলির মাঝের বিরতিতে এই নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে তৃণমূলের। একই ভাবে ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, এসপি-র অখিলেশ যাদবের সঙ্গে। রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আপাতত পরিকল্পনা হল, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে হারানোর ঠিক পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্ব দেবেন ইন্ডিয়া শিবিরের বৈঠকে। সেই বৈঠক যে দিল্লিতে হবে, এমন কোনও স্থিরতা নেই। বরং দিল্লি-কেন্দ্রিক না করে তা লখনউ-এর মতো কোনও শহরে করার পিছনেই সহমত বিজেপি-বিরোধী নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় সাফল্য এলে তা সর্বভারতীয় স্তরে ইন্ডিয়া শিবিরকে যেমন উদ্দীপনা জোগাবে, তেমনই জাতীয় স্তরেও মমতা প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে উঠবেন বলে দাবি তৃণমূলের। কেজরীওয়াল, অখিলেশ, তেজস্বীরাও তেমনটাই মনে করছেন বলে খবর। অখিলেশ এ দিন সমাজমাধ্যমে হিন্দিতে মমতা সম্পর্কে লিখেছেন, একলাই লড়বেন! জিতবেন! এগিয়ে যাবেন!...দিদি আছেন, দিদি থাকবেন!’’

প্রশ্ন উঠছে, এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সমীকরণ নিয়ে। যে প্রস্তাবিত বৈঠকের কথা ভাবা হচ্ছে, তাতে কংগ্রেসও যোগ দেবে কি না অথবা মমতা জয়ী হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাকি নেতাদের পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

এই জল্পনার কারণ, গত দশ দিনে তৃণমূলকে বারবার তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছেন রাহুল গান্ধী। অথচ সংসদে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদী সরকারকে ভোটাভুটিতে হারানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের তুখোড় বোঝাপড়া দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, এই বোঝাপড়ার পিছনে ছিল আরও একটি গোপন বোঝাপড়া। সেটি হল, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলায় গিয়ে ভোটের আগে মমতাকে সরাসরি আক্রমণ করবেন না। স্থানীয় রাজ্য স্তরে যা হওয়ার হবে। কিন্তু এই বোঝাপড়াকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে তূণীর থেকে এর পর এক বাণ নিক্ষেপ করেছেন রাহুল।

আপাতত তাই রাহুল তথা কংগ্রেসকে কঠোর বার্তা দিতেই আরও বেশি করে অখিলেশ, তেজস্বী, কেজরীওয়ালদের কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। মনে করা হচ্ছে, কংগ্রেস এতে কোণঠাসা হবে। টিটাগড়, হাওড়া, হুগলির মতো এলাকায় বিহার থেকে এসে বাংলায় থেকে যাওয়া শ্রমিক এবং হিন্দিভাষীদের কাছে তেজস্বীর প্রচার খুবই কার্যকরী হয়েছে বলে মনে করছে দল। কেজরীওয়ালকে কাজে লাগানো হচ্ছে শহুরে শিক্ষিত মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছনোর জন্য। সেখানে বিজেপিকে নিশানা করার পাশাপাশি কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট না করার দাবিও দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তুলতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন