প্রতীকী ছবি। —ফাইল চিত্র।
খড়দহ বিধানসভা এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ওই কর্মীর বাড়ির সামনে রাখা একটি ছোট মালবাহী গাড়ির কাচও ভেঙে দেওয়া হয়। রবিবার রাতের ওই ঘটনার পরে দলের তরফে নিউ ব্যারাকপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত।
খড়দহ বিধানসভা এলাকার যুগবেড়িয়ার বোদাইয়ে থাকেন বিজেপি কর্মী রাজু কর্মকার। তিনি জানান, রবিবার তিনি লিফলেট বিলি শেষ করে দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ে মত্ত অবস্থায় কয়েক জন যুবক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী সোমা কর্মকারকে ওই যুবকেরা প্রথমে শাসানি দেয়। এর পরে সোমাকে ঘর থেকে বার করে বেধড়ক মারধর করা হয়। রাজু জানান, তাঁর বাড়ির সামনে একটি ভাড়ার গাড়ি দাঁড় করানো থাকে। সেটির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। রাজুর দাবি, হামলাকারীরা সকলেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত।
বিজেপির খড়দহের তিন নম্বর মণ্ডল সভাপতি সোমনাথ গুণ জানান, তাঁরা তৃণমূলের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাজু মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ওই রাতেই নিউ ব্যারাকপুর থানায় গিয়ে কয়েক জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন সোমা। তাঁর দাবি, ঘটনার সময়ে এলাকায় বেশ কয়েক জন তৃণমূল কর্মী ছিলেন। সোমা বলেন, ‘‘আমার স্বামী বাড়ি ছিলেন না। তাঁকে না পেয়ে আমাকে ঘর থেকে টেনে এনে মারধর করা হয়। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।’’ রবিবার রাতে থানায় অভিযোগ জানিয়ে বেরোনোর পরে পুলিশের কাছে নিরাপত্তাও চেয়েছেন সোমা।
সোমবার রাজু বলেন, ‘‘আমার একটি গাড়ি ছিল। আমি বিভিন্ন কারখানায় জিনিসপত্র পৌঁছে দিতাম। আমিই গাড়ি চালাই। বিজেপি করি বলে আমার কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। বাধ্য হয়েছি গাড়ি অন্যকে দিয়ে দিতে। যে গাড়িটির কাচ ভাঙা হয়েছে, সেটি অন্যের থেকে নিয়ে এসেছিলাম। ভাতে মারার চেষ্টাও করা হচ্ছে।’’
যদিও বিজেপির অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিলকান্দা (১) গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি চিত্তরঞ্জন মণ্ডল। তাঁর পাল্টা দাবি, গাড়িচালক ও খালাসির মধ্যে ঝামেলার জেরেই ওই ঘটনা। সেই ঘটনায় রাজনীতির রং লাগিয়ে তৃণমূলের বদনাম করা হচ্ছে।