ছবি: এআই।
সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটগুলিতে নিয়মিত চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়ে থাকে। সেখানে এক ক্লিকেই আগ্রহীরা আবেদন জমা দিতে পারেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি ফর্ম পূরণ করে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হয়। কিন্তু সেটুকুই কি যথেষ্ট? না কি নিয়োগকর্তার নজর কাড়তে প্রয়োজন অতিরিক্ত কোনও প্রচেষ্টার?
বদলেছে নিয়োগ পদ্ধতি—
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, বহুজাতিক সংস্থায় নিয়োগের পদ্ধতিতে বদল ঘটেছে গত কয়েক বছরে। কিন্তু এই পরিবর্তন খানিকটা হলেও নীরব।
এখন চাকরির আবেদন করার জন্য শুধুমাত্র জীবনপঞ্জি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্রের মতো নথিই যথেষ্ট নয়। ওই পদে কর্মরত কোনও পেশাদার ব্যক্তিদের অনুমোদন, সমাজমাধ্যমে সক্রিয়তা, পুরোনো চাকরিতে কাজের উৎকর্ষ সম্পর্কেও খতিয়ে দেখে নিতে চান নিয়োগকর্তারা।
বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা, একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি কতটা কাজ জানেন, তা জেনে নেওয়ার জন্য জীবনপঞ্জি, বা আনুষঙ্গিক নথি-র তথ্য যথেষ্ট। কিন্তু একজন পেশাদার হিসাবে ওই ব্যক্তি কী ভাবে কাজ করেছেন, তাঁর পেশাদার জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন— তা যাচাই করতে অন্য দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হয়।
ছবি: এআই।
চাকরি খোঁজা এবং আবেদনের নতুন নিয়ম—
হাওড়ার অদ্রিজা কুণ্ডু বর্তমানে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সিনিয়র লেভেল এগ্জ়িকিউটিভ পদে চাকরির করছেন। তিন বছর আগে তিনি সরাসরি সংস্থার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরির আবেদন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখার পর সমাজমাধ্যমেই আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট ই-মেল আইডিতে সমস্ত নথি জমা দিয়ে আবেদনের পর লিখিত পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পান তিনি।
অদ্রিজার মতো আরও অনেক প্রার্থীই সরাসরি সংস্থার ই-মেল আইডিতে আবেদনপত্র জমা দিয়ে চাকরির আবেদন জানিয়েছেন। সকলে চাকরি না পেলেও অন্তত লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পেয়েছেন।
বর্তমানে অনলাইনে বিপুল আবেদনপত্র বাছাই করতে কৃত্রিম মেধাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি রয়েছে, কিন্তু বিশেষ দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা না থাকলে কিংবা এআই-এর সাহায্যে তৈরি করা আবেদনপত্রও খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই প্রযুক্তির সাহায্য নিলেও তাতে নিজস্বতার ছাপ থাকা প্রয়োজন।
তাই আবেদনপত্রের সঙ্গে জীবনপঞ্জি, বিশেষ দক্ষতার প্রমাণপত্র, অভিজ্ঞতার শংসাপত্র, পোর্টফোলিও, প্রজেক্ট স্যাম্পল, কেস স্টাডিজ় পেপারও জমা দেওয়া প্রয়োজন। জীবনপঞ্জি তৈরি করার সময় সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে নমুনাপত্র দেখে নিতে হবে।