Interview Of Gaurav Chakraborty

টলিউডের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে আনা জরুরি? কেন এই প্রশ্ন তুললেন ‘নিকষছায়া’র ‘অমিয়’?

সায়ন্তন ঘোষালের নতুন সিরিজ়ে বৌ হারিয়ে ফেলেছেন ‘অমিয়’ ওরফে গৌরব চক্রবর্তী। বাস্তবে এ রকম কিছু হলে কী করতেন অভিনেতা?

Advertisement

উপালি মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৫
Share:

গৌরব চক্রবর্তী কি পুলিশ অফিসার ‘অমিয়’-র মতোই কঠিন? ছবি: ফেসবুক।

শীতের আমেজ নিয়েই ফিরছেন ভাদুড়িমশাই। ফিরছেন তাঁর সঙ্গীসাথীরাও। যেমন, পুলিশ অফিসার ‘অমিয়’ গৌরব চক্রবর্তী। যিনি সায়ন্তন ঘোষালের নতুন সিরিজ় ‘নিকষছায়া ২’-তে আরও রাগী, খিটখিটে, কড়া! স্ত্রী ‘মিতুল’-এর অপহরণই কি নেপথ্য কারণ?

Advertisement

প্রশ্ন: ‘নিকষছায়া ২’-তে দুটো চমক। ভূতচতুর্দশীর বদলে সরস্বতীপুজো। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় সায়ন্তন ঘোষাল।

গৌরব: পরস্পরের মধ্যে যোগ রয়েছে। পরিচালক বদলানোর জন্য গল্পে, গল্প বলায় বা দর্শকের দেখার মধ্যে যে খুব বড় বদল ঘটবে সেটা কিন্তু নয়। কারণ, পরমদা সিরিজ়টিকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। আগের সিরিজ় যেখানে শেষ হয়েছে, নতুন সিরিজ়ের সেখান থেকে শুরু। সায়ন্তনের চ্যালেঞ্জ— চরিত্র, সিরিজ়ে চরিত্রদের লুক হুবহু এক রেখে ওকে গল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে।

Advertisement

প্রশ্ন: পরিচালকের পরিবর্তন অভিনেতার অস্বস্তি বাড়ায়?

গৌরব: পরিচালককে আগের এবং আগামী সিরিজ় সম্বন্ধে খুঁটিয়ে জানতে হয়। সায়ন্তনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম, ও দারুণ ‘হোমওয়ার্ক’ করে কাজে নেমেছে। ফলে, আমার কোনও অস্বস্তি হয়নি। আর, সায়ন্তনের সঙ্গে এর আগে বেশ কয়েকটি কাজ করে ফেলেছি। ফলে, ওর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিলই। যেমন, পরমদার সঙ্গে কাজ করতে করতে এই আরামদায়ক ব্যাপারটা তৈরি হয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন: ‘অমিয়’কে কেন পর্দায় এত অল্প দেখায়!

গৌরব: (হেসে ফেলে) দেখুন, সিরিজ়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র তো ভাদুড়িমশাই। ওঁকে নিয়ে গল্প আবর্তিত হয়। ফলে, বাকি চরিত্রের উপস্থিতি বা অবস্থিতি কখনও একটু বাড়বে, কখনও কমবে। এই সিরিজ়ে যেমন, শুভ আর অশুভ শক্তির লড়াই। যে কারণে ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে লোকনাথ চক্রবর্তীর তন্ত্রমন্ত্রের লড়াই। কেন্দ্রে আমার পর্দার স্ত্রী ‘মিতুল’। তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ফলে, ‘নিকষছায়া ১’-এ এ বারের তুলনায় ‘অমিয়’র উপস্থিতি বেশি ছিল। এটা জেনেই কিন্তু অভিনেতারা চরিত্র নির্বাচন বা গল্প নির্বাচন করেন।

প্রশ্ন: বৌ হারালে বৌ পাবেন, এরকম কিছু মনে হয়েছে ‘অমিয়’র?

গৌরব: (জোরে হাসি) ‘অমিয়’ প্রাণ দিয়ে ভালবাসে ‘মিতুল’কে। ভালবাসার মানুষ হারিয়ে গেলে কী যে অবস্থা হয়, সেটা এ বারের সিরিজ়ে ‘অমিয়’কে দেখে বুঝবেন। অন্য বারের থেকে আরও বেশি রাগী, খিটখিটে হয়ে গিয়েছে বৌকে হারিয়ে। তার পৃথিবী যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে! ও হন্যে হয়ে ‘মিতুল’কে খুঁজেছে।

মুখোমুখি কাঞ্চন মল্লিক, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। ছবি: ফেসবুক।

প্রশ্ন: বাস্তবে যে বৌয়ের উপরে অশরীরী ভর করে, তিনি হারিয়ে যাওয়া তো স্বস্তির?

গৌরব: হা হা হা। সেটা বলতে পারি না। কারণ, ঋদ্ধিমার সঙ্গে এ রকম কিছু হয়নি। তবে এই সিরিজ়ে ‘মিতুল’-এর উপরে অশরীরী একমাত্র ভর করেছিল ‘পর্ণশবরীর শাপ’ সিরিজ়ে। ‘মিতুল’কে সজ্ঞান অবস্থায় অপহরণ করেছেন তান্ত্রিক ‘লোকনাথ চক্রবর্তী’। তাঁর উদ্দেশ্যসাধনের জন্য। তাকে উদ্ধার করবেন ভাদুড়িমশাই। আর পর্দায় হোক বা বাস্তবে বৌ হারিয়ে গেলে পুরুষ মনের দিক থেকে ভেঙে পড়ে।

প্রশ্ন: ভূত আর পুলিশ! মিশ খায়?

গৌরব: এটা সত্যিই খুব ইন্টারেস্টিং। এর আগে হরনাথ চক্রবর্তীর ‘ভূতচক্র প্রাইভেট লিমিটেড’ ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। খুব মজার ছবি। আবার পরতে পরতে গা ছমছমে ব্যাপার। ওখানে এই ভূমিকায় ছিলাম। তার পর এই ‘ভাদুড়িমশাই’-এর সঙ্গে। আমিও খুব অবাক হয়েছি প্রথম প্রথম। এ যেন তেলে-জলে মিশ খাওয়ার মতোই ঘটনা! কিন্তু সহাবস্থান তো চলছে।

প্রশ্ন: সারা রাত ধরে নাকি শুটিং হয়েছে?

গৌরব: এ বারের সিরিজ় তো সারা রাতের গল্প। রাত জেগে কাজ করার ফলে শুটিংশেষে দেখি, আমার ঘুমের প্যাটার্নটাই বদলে গিয়েছে!

প্রশ্ন: ভাদুড়িমশাইয়ের সহযোগিতায় অমিয় না হয় ভূত সামলেছে। এসআইআর-এর ঝামেলা সামলাতে পারত?

গৌরব: পুলিশ পারছে তো! খেয়াল করে দেখুন, দুটো বিষয়েই কিন্তু পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে অনেক পদক্ষেপ করছে। সব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে আপ্রাণ। ‘অমিয়’দের মতো পুলিশের সেটাই তো কাজ।

প্রশ্ন: টলিউডের অন্দরে সারা ক্ষণ #হোককলরব! ইন্ডাস্ট্রির লোকেদের কী বলত অমিয়?

গৌরব: এটাই বোঝানোর চেষ্টা করত, যে কোনও পেশাজগতেই কিছু অনৈতিক কাজকর্ম হয়। তাকে সামলাতে গিয়ে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের কোন্দল বেরিয়ে আসছে না তো? এ বিষয়ে সজাগ করত সবাইকে। অন্যায় থামাতে গিয়ে কোনটা করা উচিত, কোনটা নয়, সেটা কিন্তু ধরিয়ে দিত ‘বুদ্ধিমান’ অমিয়। পাশাপাশি, অনৈতিক কাজ বন্ধের চেষ্টা করত। অমিয় কী বিশ্বাস করে জানেন?

প্রশ্ন: কী বিশ্বাস করে?

গৌরব: অমিয় বিশ্বাস করে, ময়লা কাপড় সবার সামনে না কাচাই ভাল। যদি সেটা প্রকাশ্যে চলেই আসে, বলার কিছুই নেই। টলিউডের অন্দরের শত্রুতা প্রকাশ্যে আনলে কি দর্শক সব ঠিক করে দেবেন? নয় তো! নিজেদেরই সামলাতে হবে। আমি ‘লালবাজার অভিযান’ নিয়ে কিছু বলছি না। সমাজমাধ্যমের অশান্তি তো আমরা নিজেরাই মিটিয়ে নিতে পারি!

প্রশ্ন: এখন আর বড়পর্দা-ছোটপর্দার ভেদাভেদ নেই। আপনি তা-ও অনেক দিন ধারাবাহিক থেকে দূরে...

গৌরব: আমার বেশির ভাগ জনপ্রিয় কাজ ছোটপর্দায়। কিন্তু বরাবর অন্য ধারার গল্প বা চরিত্রে অভিনয় করেছি। এখনও সে রকম কিছু পেলে অবশ্যই করব। তা বলে এখনই ফিরব, এমনটা নয়। কারণ, ধারাবাহিকে অভিনয় অনেক বড় দায়িত্ব। অনেকটা সময় দিতে হয় সেখানে। আমার হাতে এখন কিছু কাজ রয়েছে। ফলে, সময় বের করা একটু মুশকিল হবে। তবে খুব ভাল চরিত্রে ডাক পেলে দ্বিতীয় বার ভাবব না।

প্রশ্ন: অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর ছেলে হওয়ায় বা অন্য ধারার চরিত্র খুঁজতে গিয়ে তথাকথিত ‘নায়ক’ হওয়াই যে আর হল না!

গৌরব: সত্যি কথা বলতে, গৌরব চক্রবর্তী কোনও দিন নায়ক হতেই চায়নি! আমার ইচ্ছা ভাল অভিনেতা হওয়ার। যেমন, আমার বাবা সব্যসাচী চক্রবর্তী। বাবাও কোনও দিন তথাকথিত ‘নায়ক’ হননি। কিন্তু বাবার অভিনয় সবাই পছন্দ করেন। বাবা ‘ফেলুদা’ হয়েছেন। এই কাজগুলো কিন্তু তুচ্ছ নয়। আমি বাবার মতো হতে চাই। ‘নায়ক’ হওয়ার লোভ সংবরণ করা কিন্তু খুবই শক্ত। আমার বাবা সেটা পেরেছেন।

প্রশ্ন: ‘নিকষ ছায়া ২’ কি ভূতে বিশ্বাস ফেরাল?

গৌরব: (হেসে ফেলে) নিজের চোখে না দেখলে বা নিজের কোনও ভৌতিক অভিজ্ঞতা না হলে, এ সবে বিশ্বাস করবই না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement