Birthday Of Prabhat Roy

এত নায়িকা ওঁর হাত দিয়ে বেরোল, তবু কারও সঙ্গে প্রভাতদার কোনও গুঞ্জন নেই! এটা বিরাট রহস্য

এত নায়িকা দাদার হাত দিয়ে বেরোল, অথচ তাঁদের নাম জড়িয়ে দাদার সম্পর্কে একটা গুঞ্জন নেই! কী করে সম্ভব

Advertisement

চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

প্রভাত রায় সম্পর্কে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত।

সময়টা বোধহয় ১৯৮৪। ‘নাগপাশ’ নাটকে অভিনয় করছি। দু’-একটি ছবি করা হয়েছে তার আগে। আচমকা একদিন প্রভাত রায় ডেকে পাঠালেন।

Advertisement

দাদা বললেন, ‘‘একটা ছবি করছি। তুমি নায়ক, গুন্ডা। করবে?’’ আমি রাজি। মনে মনে একটু অবাক, আমার খোঁজ পেলেন কোথায়? শেষে একদিন জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম। প্রভাতদা জানালেন, আমার নাটক দেখতে গিয়েছিলেন জয়শ্রী বৌদি। প্রভাতদার স্ত্রী। ওঁরা নতুন অভিনেতা খুঁজছিলেন।

বৌদি আমায় পছন্দ করেন। দাদা ছবি বানালেন ‘প্রতিকার’। আমার সঙ্গে এই ছবিতে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা হিট। প্রভাত-চিরঞ্জিৎ মণিকাঞ্চনযোগ শুরু। এই যাত্রাপথ প্ল্যাটিনামে বাঁধিয়ে দিল আমাদের জুটির ছবি ‘প্রতীক’। এই চরিত্র আমার ‘সিগনেচার ক্যারেক্টর’। আমার প্রতিফলন। এই ছবি দিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় অভিনয় শুরু করেছিলেন। প্রভাত রায় ‘প্রতীক বেজন্মা’কে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিলেন। আমায় আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

Advertisement

এর পর অনেকটা পথ। আমি ছিলাম। ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন। তার পর এলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রত্যেককে হিট নায়ক বানালেন দাদা। আমরা জুটি বেঁধে একের পর এক ছবি করলাম। কিন্তু দাদা আর আমার জুটি যেন ইতিহাস গড়েছিল।

আমাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হল, যখন প্রভাতদা আমার পাড়ায় উঠে এলেন। গোলপার্কের বাসিন্দা হলেন দাদা-বৌদি। রোজ আমাদের আড্ডা জমত। দাদা খুব রসিক মানুষ। রকমারি গল্পে আড্ডা রঙিন। খেতেও ভালবাসতেন। প্রভাতদার মাংসের আলু ভীষণ প্রিয়। মাংস কম পেলে ক্ষতি নেই। মাংসের আলু না পেলে মাথাখারাপ করে ফেলতেন দাদা! আরও একটা আশ্চর্যের বিষয় আছে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ কত নায়িকা প্রভাত রায়ের ছবিতে অভিনয় করে তারকা হলেন। কোনও নায়িকাকে দাদার সঙ্গে জড়িয়ে গুঞ্জন তৈরি হল না!

Advertisement

উত্তমকুমারের সঙ্গে কাজ করে আসা এই পরিচালকের জীবন খুব মসৃণ নয়। জয়শ্রী বৌদির মৃত্যুর পর রোগ-শোক ওঁকে গ্রাস করেছিল। প্রভাত রায়কে দ্বিতীয় জীবন দিয়েছে ওঁর ‘কন্যা’ একতা ভট্টাচার্য। প্রভাতদা সে কথা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেন। ওঁর ফের ক্যামেরার পিছনে ফিরে আসার নেপথ্যশক্তিও একতা। আজ ওঁর জন্মদিনে এসে কথাগুলো খুব মনে পড়ছে।

‘বলাই’ ছবির পরিচালনা দিয়ে দাদার পরিচালনার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু। দাদাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আরও ভাল লাগবে, ওঁর আগামী কোনও ছবিতে ‘প্রতীক’ চিরঞ্জিৎ যদি আবার ডাক পায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement