অনুষা বিশ্বনাথন, সৌম্য মুখোপাধ্যায় (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত।
গত ১১ বছর ধরে অনুষাকে আমি চিনি। পেশাজীবনে দু’জনেই আমরা অনেক ওঠা-পড়া দেখেছি। সেখান থেকেই মনে হয়, আমাদের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে। থিয়েটারে ও আমার অনেকটাই জুনিয়র। অনুষা তখন সম্ভবত একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তার পরে আবার আমরা দু’জনেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। সব মিলিয়ে বন্ধুত্বটা দিনে দিনে আরও বেশি বেড়েছে।
এই যুগের মেয়ে। কিন্তু কোনও আড়ম্বর নেই জীবনে। ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষার জন্মদিন। কোনও বছরই ও উদ্যাপন করতে চায় না। এই বছরেও তেমনই হচ্ছে। কারণ, আমার তো ডাবিং আছে। তা ছাড়া এখনও আমি নিমন্ত্রণও পাইনি জন্মদিন উপলক্ষে। নিজেরা এখনও কোনও পরিকল্পনা করে উঠতে পারিনি। ফলে জন্মদিনে সেলিব্রেশন হচ্ছে না, সেটা ধরে নেওয়া যেতে পারে।
অনুষার জন্মদিনে একটা কথা সত্যিই বলতে চাই, অনেক ধরনের কথা হয়েছে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে। সেটাকে আমরা মজার ছলেই নিয়েছি। এগুলোর কোনওটাই কিন্তু আসলে সত্যি নয়। বরং আমাদের খুবই খুনসুটির সম্পর্ক। বিশেষত টেলর সুইফ্টকে নিয়ে আমাদের বেশি খুনসুটি চলে। মাঝে মাঝে আমি বলি, নিজের শহরে ফসিল্স-এর শো দেখার সুযোগ পাচ্ছি না, এ দিকে ও এতটাই বড়লোক যে অন্য দেশে গিয়ে টেলর সুইফ্টের অনুষ্ঠান দেখে আসছে। আমাদের বয়সের পার্থক্য হলেও কোথাও গিয়ে ভাবনা-চিন্তা প্রায় একগোত্রের। তাই হয়তো বন্ধুত্বটা তৈরি হয়েছে।
অনুষা এবং আমার জীবনে অনেক ওঠাপড়া গিয়েছে। সব ঝড় আমরা দু’জনেই সামনে থেকে দেখেছি। একে অন্যকে তাই সেই ভাবেই আগলে যত্নে রাখার চেষ্টা করি। ওর একটাই বাজে গুণ। সেটা হল খুব দেরি করে সব জায়গায় পৌঁছয়। সেটা আমিও করি, তবে ওর মতো নয়। এই সব ভাল-মন্দ নিয়েই আমাদের বন্ধুত্ব। জন্মদিনে আর ওর কোনও সিক্রেট ফাঁস করতে চাই না। বরং চাই যাতে এই উপলক্ষে ও একটা পরিকল্পনা করুক। আর আমরা খুব হুল্লোড় করি, খাওয়া-দাওয়া করি! ব্যস, এ টুকুই।