ছবির প্রচারে কলকাতায় কুুমুদ মিশ্র ও মনোজ পাহওয়া। নিজস্ব চিত্র।
ধর্ষণ। মহিলাদের উপর শারীরিক নির্যাতন। প্রায় প্রত্যেকদিনই প্রচুর খবরের মাঝে এমন কোনও না কোনও শিরোনামে চোখ আটকায় সাধারণ মানুষের। সে নিয়ে আলোচনা হয়। কে দোষী, কে নির্যাতিতা, কে মিথ্যা বলছে, কে সত্যি বলছে— তদন্ত এগোয় তদন্তের মতো। কিন্তু অপরাধের পরিমাণ কমে না, বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা। এমনই এক ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘অস্সী’। অনুভব সিন্হার এই ছবিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে মনোজ পাহওয়া ও কুমুদ মিশ্রকে। ছবির প্রচারে কলকাতায় এসেছিলেন দুই অভিনেতা। আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আলোচনায় দু’জনেই সহমত, এই ধরনের ছবি আরও তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
কাজের সূত্রেই মূলত কলকাতায় আসেন মনোজ। ফলে বেশি ঘোরাঘুরির সময় পান না। কিন্তু, তারই মধ্যে এ শহরের মিষ্টি, বিরিয়ানি চেখে দেখেন। হাওড়া ব্রিজেও একবার ঘুরে আসার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে ‘নান্দীকার ফেস্টিভ্যাল’-এর জন্য একাধিক বার কলকাতায় এসেছেন কুমুদ। শুটিং করতেও এসেছেন। চেষ্টা করেন হাতে সময় নিয়ে আসার। পছন্দের খাবার চেখে দেখা থেকে আশেপাশের জেলায় ঘুরে আসা— সবই রাখেন তালিকায়।
‘অস্সী’র মতো ছবি তৈরির প্রয়োজনীয়তা প্রবল, মনে করেন মনোজ। তাঁর কথায়, “এই ছবি তৈরির উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষের জাগরণ ঘটানো। সমাজের এই সমস্যাকে বা রোগের (ধর্ষণ) মোকাবিলা কী ভাবে করা যেতে পারে, তা বোঝানোর জন্যই এই ছবি তৈরি।” কুমুদ বলেন, “সিনেমা কোনও অপরাধকে বন্ধ করিয়ে দিতে পারে না, কিন্তু সচেতনতা গড়ে তুলতে পারে। এই বিষয় নিয়ে যত কাজ হওয়া প্রয়োজন, তত হয়নি। তার থেকেও জরুরি, সমাজ হিসাবে এর দায় আমাদের নেওয়া উচিত। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে ঘর থেকেই আলোচনা শুরু হওয়া উচিত। বাড়ির ছেলেদের সচেতন করা উচিত। বাচ্চাদের শিক্ষা দিতে হবে। না হলে সমস্যার সমাধান তো দূর, কমবেও না।”
২০২৪ সালে আরজি কর-কাণ্ডে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য, যার আঁচ পড়েছিল গোটা দেশে, এমনকি বিদেশেও। এ প্রসঙ্গে মনোজ বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এগুলো আমাদের সমাজের অসুস্থতা বলা যেতে পারে। তবে সেই সময়ে কলকাতাবাসী, বিশেষত মহিলারা যে ভাবে একত্রিত হয়ে জোরদার কণ্ঠে প্রতিবাদ করেছিলেন, তা প্রশংসনীয়। এতে আবার প্রমাণিত হয়েছিল যে, এই শহরের নিজস্ব একটা চরিত্র আছে, এখানে লোকজন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে না। আমি মনে করি, মানুষ যদি মানুষের মতো আচরণ করে, আর অন্যকেও মানুষই ভাবে, তা হলে একসঙ্গে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করা যায়।”
কুমুদের কথায়, মহিলাদের নিজেদের অধিকার নিজেদেরই বুঝে নিতে হবে। তিনি বলেন, “নিজেদের জায়গা, নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। যেভাবেই হোক। কিন্তু, যত ক্ষণ না নিজেদের উপস্থিতির জানান দেওয়া হচ্ছে, তত ক্ষণ তা অন্যরা বুঝবে না। পুরুষদের মধ্যে অযাচিত অধিকারবোধ থাকে, তা শেষ করতে হবে। প্রত্যেক মা-বাবার এই ধরনের আলোচনা করা উচিত ছেলেমেয়েদের সঙ্গে।” অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের হাতেই অনেকে হেনস্থার শিকার হন, কিন্তু বাড়ির লোকজনই তা ধামাচাপা দিতে জোর করেন। কুমুদ বলেন, “আমরা কোন পর্যায়ে অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছি! এই কারণেই, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা জরুরি। সেই উদ্দেশ্যেই আমাদের ছোট্ট পদক্ষেপ। এই ছবিটা তৈরি করা সেই কারণেই। সমাজকে সংশোধন করা প্রয়োজন।”
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘অস্সী’। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তাপসী পান্নু, কনি কুশ্রুতি, নাসিরউদ্দীন শাহ, সুপ্রিয়া পাঠক, রেবতী, মহম্মদ জ়িশান আয়ুব-সহ অনেকেই।